২০১২ সালের পর থেকে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে পুষ্টি পরিস্থিতির তেমন উন্নতি নেই। এখনো দেশের পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের মধ্যে ৩৭ শতাংশ অপুষ্টিতে ভুগছে এবং তারা স্বাভাবিকের চেয়ে কম উচ্চতাসম্পন্ন। ১৫ শতাংশ নবজাতক জন্ম নিচ্ছে স্বাভাবিকের চেয়ে কম ওজন নিয়ে।
গতকাল বুধবার দেশের খাদ্যনিরাপত্তা এবং পুষ্টি পরিস্থিতি-২০১২ প্রতিবেদনের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলা হয়। রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সভায় খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা নারী ও শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করার জন্য নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ দেন। পরিসংখ্যান ব্যুরো, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় এই সভার আয়োজন করে।
সভায় খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতির ওপরে একটি জরিপ উপস্থাপন করা হয়। জরিপটি পরিচালনা করে পরিসংখ্যান ব্যুরো, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। জরিপে বলা হয়েছে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের অর্ধেক কিশোরী। ২৫ শতাংশ নারী গর্ভকালীন অবস্থায় স্বাভাবিকের চেয়ে শুকিয়ে যান। ফলে তাঁদের গর্ভের সন্তান ঠিকমতো খাবার পায় না। জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের জ্যেষ্ঠ নীতি গবেষক জিলিয়ান এল অয়েইড, জাতীয় পুষ্টি ইনস্টিটিউটের উপপ্রকল্প ব্যবস্থাপক নাসরিন খান।
জরিপে দেখা গেছে, সন্তানদের বুকের দুধ দেওয়ার প্রবণতা আগের চেয়ে কমেছে। খাদ্যশক্তি কম পাওয়ায় ভারসাম্যহীনভাবে মোটা হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
পরিসংখ্যান ও তথ্য বিভাগের সচিব নজিবর রহমান প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, সরকার শিশু ও নারীদের পুষ্টিনিরাপত্তার বিষয়ে নজর দিচ্ছে। সামনের দিনে খাদ্য পরিস্থিতির মতো পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের দেশীয় পরিচালক এরিকা সেন্ট্রাল বলেন, তরুণদেরই এই অপুষ্টির চক্র ভাঙতে হবে। এ জন্য দেশের নীতিনির্ধারকদের নারী ও শিশুদের উন্নত খাবার সরবরাহের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল হেলথের নির্বাহী পরিচালক সাদিয়া আফরোজ চৌধুরী নারীর জন্য উন্নত খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
জরিপের ওপরে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞরা মতামত দেন।
সূত্র - প্রথম আলো

