আজকের যুগে শিশুরা তাদের মা-বাবার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে না। শারীরিক সুস্থতা বা সামর্থ্য বিবেচনায় তারা মা-বাবার শৈশবকালীন অবস্থার তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে অনুষ্ঠিত আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের এক সম্মেলনে গবেষকেরা গত মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে ১৯৭৫ সাল থেকে প্রতি দশকে নয় থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের হূৎপিণ্ড-সংক্রান্ত শারীরিক সামর্থ্য কমেছে ৫ শতাংশ। গবেষকদের মতে, ৩০ বছর আগে এক মাইল দৌড়াতে যে মা-বাবার যে সময় লাগত, তাঁদের শিশুসন্তান একই দূরত্ব দৌড়াতে এখন সময় নিচ্ছে গড়ে ৯০ সেকেন্ড বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ স্টিফেন ড্যানিয়েলস বলেন, ‘আমাদের শিশুরা এখন আগেকার শিশুদের তুনায় কম সক্রিয় হয়ে পড়েছে। এটি নিশ্চয়ই একটি ভাবনার ব্যাপার। জীবনযাত্রার ধরনের কারণেই শিশুরা এখন সারা দিনে শারীরিক পরিশ্রমের সুযোগ তেমন একটা পাচ্ছে না। অনেক বিদ্যালয়েই এখন শারীরিক শিক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয় না।’
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সারা দিনে শিশুদের ছয় মিনিট ও প্রাপ্তবয়স্কদের এক ঘণ্টা হালকা শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়ামের পরামর্শ দেন। কিন্তু গবেষণায় দেখা যায়, মার্কিন শিশুদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ ওই পরামর্শ অনুসরণ করে। আর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, বিশ্বজুড়ে অল্প বয়সীদের ৮০ শতাংশই পর্যাপ্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম থেকে বিরত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের কার্যালয় হোয়াইট হাউসের পাচক ও ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামার স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক ‘লেটস মুভ’ কর্মসূচির প্রধান স্যাম কাস বলেন, এখনকার শিশুরা বসে বসেই সময় কাটায় সবচেয়ে বেশি। ইতিহাসে আগে এমনটা সম্ভবত কখনো দেখা যায়নি।
শিশুদের শারীরিক সামর্থ্য-সংক্রান্ত নতুন গবেষণাটিতে নেতৃত্ব দেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব নিউ সাউথ ওয়েলসের শরীরচর্চা-মনোবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ গ্র্যান্ট টমকিনসন। ১৯৬৪ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত ২৮টি দেশের ৯ থেকে ১৭ বছর বয়সী দুই কোটি ৫০ লাখ শিশুর ওপর পরিচালিত ৫০টি গবেষণার তুলনামূলক বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা দেখতে পান, এ যুগের শিশুরা নিজেদের মা-বাবার তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ কম শক্তি-সামর্থ্য ধারণ করে।
টমকিনসন বলেন, ছেলে ও মেয়েশিশুদের মধ্যে এই সামর্থ্য হ্রাসের অনুপাত প্রায় সমান। তবে ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে এই সামর্থ্যের ব্যবধান কমবেশি হয়ে থাকে। সামর্থ্য হ্রাসের এই হার ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এবং উত্তর আমেরিকা অঞ্চলে প্রায় একই রকম। চীন ও জাপানেও শিশুদের সামর্থ্য কমছে।
ড্যানিয়েল ও টমকিনসন উভয়েই শিশুদের সামর্থ্য হ্রাসের কারণ হিসেবে স্থূলতাকে দায়ী করেন। এ ছাড়া, ব্যায়ামের ঘাটতি, টেলিভিশন দেখা ও ভিডিও গেমসে বেশি সময় ব্যয় এবং বাসার আশপাশের অনিরাপদ পরিবেশকেও তারা শিশুর স্বাস্থ্যহানির কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন। এপি।
সূত্র - প্রথম আলো

