দেশের চারটি হাসপাতালে চিকিৎসক, রোগীর স্বজন ও সাংবাদিকদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পৃথক তিনটি কমিটি গঠন করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে সাংবাদিকদের তথ্য সরবরাহে তথ্যকেন্দ্র স্থাপন ও মুখপাত্র নিয়োগ করা হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (বিএমএ) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম এসব তথ্য জানান।
সম্প্রতি রাজধানীর বারডেম, স্যার সলিমুল্লাহ ও মিটফোর্ড এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের সঙ্গে রোগীর স্বজন ও সাংবাদিকদের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার জের ধরে চিকিৎসকরা ধর্মঘটে গেলে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়। এই পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার চিকিৎসক ও সাংবাদিক নেতাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে সাংবাদিক নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ‘সমকাল’ পত্রিকার সম্পাদক গোলাম সারোয়ার, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আলতাফ মাহমুদ এবং চিকিৎসক নেতাদের মধ্যে বিএমএর মহাসচিব আকবাল আর্সলান।
বিকেল পৌনে পাঁচটা থেকে দুই ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চারটি মেডিকেলের ঘটনায় তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে কমিটিগুলো তাদের প্রতিবেদন দেবে। এরপর দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এতে সহয়তা দেবে বিএমএ। এ ছাড়া সাংবাদিকদের ক্যামেরার ক্ষতিপূরণও দেয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, রাজশাহীতে রোগী মারা না গেলেও একটি সংবাদের জেরে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সূত্রপাত। হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল জায়গার সংবাদ পরিবেশনে বিভ্রান্তি এড়াতে প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে একটি করে তথ্যকেন্দ্র বা একজন মুখপাত্র রাখা হবে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, “হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক বা রোগীর স্বজনরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য একটি আইন করতে যাচ্ছি, যা খসড়া পর্যাকয়ে রয়েছে।”
রাজশাহীসহ অন্যান্য মেডিকেলের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “আশা করি ভবিষতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।”
নাসিম আশা প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসকরা আর ধর্মঘটে যাবেন না, তেমনি সাংবাদিকরাও আইন হাতে তুলে নেবেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের গাফিলতির জন্য ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তিন তদন্ত কমিটি
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আনোয়ার হোসেনকে প্রধান করে রাজশাহী মেডিকেলের ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটিতে আছেন বিএমএ সভাপতি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক/সহকারী পরিচালক, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি। কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হুমায়ুন কবির।
স্যার সলিমুল্লা ও মিটফোর্ড হাসপাতালের তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সৈয়দা আনোয়ারা বেগমকে। এ ছাড়া সদস্য হিসেবে রয়েছেন বিএমএর মহাসচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক/সহকারী পরিচালক, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি। কমিটির সদস্যসচিব করা হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিল্লুর রহমান চৌধুরীকে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব গৌতম আইচ সরকারকে প্রধান করে বারডেম হাসপাতালের ঘটনা তদন্তে কমিটিতে রয়েছেন মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের সভাপতি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক/সহকারী পরিচালক, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিনিধি।কমিটিতে সদস্যসচিব হিসেবে রয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এজাজ আহমেদ জাবের।
সূত্র - natunbarta.com

