গাজীপুরের টঙ্গীর মরকুন এলাকায় গতকাল রোববার সেপটিক ট্যাংকের বিস্ফোরণে এক বাবা ও তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া মেয়ের করুণ মৃত্যু হয়েছে।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন মো. মোস্তফা (৬৫) ও মাকসুদা আক্তার ওরফে মুক্তা (২১)। মাকসুদা রাজধানীর উত্তরার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) বিবিএ তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পুলিশ, হাসপাতাল ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মো. মোস্তফা মরকুন পশ্চিম পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাড়ির নিজের থাকার ঘরের নিচে পুরোনো সেপটিক ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়ে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। গতকাল ভোররাত সাড়ে তিনটার দিকে ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘরের দুটি কক্ষের দেয়াল ও টিনের চাল বিধ্বস্ত হয়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।
সূত্র আরও জানায়, একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন মাকসুদা। বিস্ফোরণে তাঁর দেহ উড়ে গিয়ে পাশের একতলা একটি বাড়ির ছাদের পিলারে ঝুলে থাকে। ঘটনাস্থলেই নিহত হন তিনি। অপর কক্ষের দেয়াল ধসে গুরুতর আহত হন মো. মোস্তফা। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে মোস্তফাকে উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ওদিকে দুর্ঘটনার কিছু আগে মাকসুদার বড় ভাই মহিউদ্দিন ও তাঁর মা ঘরের বাইরে বের হলে তাঁরা বেঁচে যান।
এদিকে মাকসুদার নিহত হওয়ার খবর শুনে তাঁর বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীরা ছুটে আসেন। এ ছাড়া একই সঙ্গে বাবা ও মেয়ের এভাবে মৃত্যুর দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্থানীয় ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হেলাল উদ্দিন ও টঙ্গী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
পুলিশ ও প্রতিবেশী সূত্র জানায়, ট্যাংকটি প্রায় ১৫ বছরের পুরোনো। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ট্যাংকটি পরিষ্কার করে এর বর্জ্য পাশের ধানচাষের জমিতে ফেলা হয়। কিন্তু চলতি বছর পাশের জমির মালিক আপত্তি জানালে এটি পরিষ্কার করা হয়নি। ট্যাংকটি থেকে বায়ু বের হওয়ার কোনো পথ ছিল না। এ অবস্থায় গ্যাসের প্রচণ্ড চাপে ট্যাংকটি বিস্ফোরিত হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্ঘটনাকবলিত বাড়িতে ১০-১১টি আধা পাকা ঘর রয়েছে। এর মধ্যে বাড়ির মালিক মো. মোস্তফা নিজের জন্য তিনটি ঘর রেখে বাকিগুলো ভাড়া দিয়েছেন। আর ট্যাংকের ওপরই ছিল তাঁর ঘর।
ওসি মো. ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলর ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই নিহত ওই দুজনের লাশ দাফন করা হয়েছে।
সূত্র -প্রথম আলো

