প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি অধিদপ্তর হচ্ছে, সরকার এ কথা বলছে ২০১০ সাল থেকে। বর্তমানে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে বিলুপ্ত করে অধিদপ্তর গঠনের কাজও প্রায় চূড়ান্ত। প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির অনুমোদন এবং তারপর সরকারি আদেশ জারির মাধ্যমে অধিদপ্তর আলোর মুখ দেখবে।
প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতিনিধিদের প্রত্যাশা ছিল, আজ আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিদপ্তরের যাত্রা শুরুর ঘোষণা দেবেন। তবে তা হলো না। কেননা বিষয়টি অনুমোদনের জন্য এখনো উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির বৈঠকে উত্থাপিত হয়নি।
২০১০ সালের আগস্ট মাসে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তরে রূপান্তরিত করার বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেয়। এ অধিদপ্তর গঠিত হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ২ এপ্রিল অটিজম দিবসের অনুষ্ঠানে সে কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
তবে জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনকে বিলুপ্ত করে অধিদপ্তর গঠনের বিষয়ে প্রথম থেকেই আপত্তি জানিয়ে আসছে প্রতিবন্ধীদের নিয়ে কর্মরত এনজিওগুলোর জোট জাতীয় প্রতিবন্ধী ফোরাম। ফোরামের সভাপতি রজব আলী খান বলেন, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের সঙ্গে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সরাসরি সম্পৃক্ততা ছিল। সরকার এ প্রতিষ্ঠানকে বিলুপ্ত না করে অধিদপ্তর করলে তা বেশি ফলপ্রসূ হতো।
বাংলাদেশি সিস্টেমস চেঞ্জ অ্যাডভোকেসি নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক সালমা মাহবুব বলেন, প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের প্রতিবন্ধীদের জীবনমান উন্নয়নে অনেক কিছুই করার কথা ছিল। তবে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী সে সুযোগ-সুবিধা পায়নি।
জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গাজী মোহাম্মদ নুরুল কবীর বলেন, ফাউন্ডেশন অধিদপ্তরে রূপান্তরিত হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা এনজিওগুলোর কথা বলার সুযোগ সীমিত হয়ে যাবে, কথাটি ঠিক নয়। ৬৪ জেলার ৬৮টি প্রতিবন্ধী সেবা সাহায্য কেন্দ্রসহ অন্যান্য কার্যক্রম প্রতিবন্ধী উন্নয়ন অধিদপ্তরের ব্যানারে পরিচালিত হবে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংগঠন বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকবে।
সূত্র - প্রথম আলো

