পা দুটি বাঁকা। সোজা হয়ে দাঁড়ানো বা হাঁটার সামর্থ্য—কোনটাই নেই তাঁর। হামাগুড়ি দিয়েই করতে হয় চলাফেরা। আবার দুটি হাতের একটিতেই নেই চারটি আঙুল। তবুও হাতের তালু, পায়ের গোড়ালি আর দাঁত দিয়েই কাজ করেন মুহাম্মদ রাসেল। বেতের আসবাবের নিপুণ কারিগর তিনি।
সম্প্রতি ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাটে রাসেলের কর্মক্ষেত্রে গেলে কথা হয় তাঁর সঙ্গে। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কীভাবে হয়ে উঠলেন দক্ষ কারিগর, জানালেন সেই কথা।
হাটহাজারী উপজেলার ধলই গ্রামের মুহাম্মদ আলমের ছেলে রাসেল সদ্য কৈশোর পেরিয়েছেন। পরিবারের অভাবের কারণে বিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাননি। শরীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও বসে থাকেননি তিনি। এখন পুরোদস্তুর বেতের কারিগর। প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে কারখানায় যেতে হয় তাঁকে। কখনো গাড়ি না পেলে পুরো পথটাই হামাগুড়ি দিয়ে পাড়ি দিতে হয়।
তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে রাসেল দ্বিতীয়। শারীরিক অক্ষমতার কারণে এক সময় চার দেয়ালের মধ্যেই গণ্ডিবদ্ধ ছিল তাঁর জীবন। তবে সংসারে অভাব-অনটন তীব্র হয়ে ওঠায় দুই বছর আগে সামান্য বেতনে নাজিরহাটের একটি আসবাবের কারখানায় যোগ দেন তিনি।
সারা দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করতে হয় রাসেলকে। তবু নিজেকে তেমন ক্লান্ত মনে হয় না। রাসেল জানান, এক দিনে সর্বোচ্চ দুটি দোলনা তৈরি করা যায়। ফাঁকে ফাঁকে অন্য কাজও করেন। সরকারের পক্ষ থেকে মাসে ৩০০ টাকা প্রতিবন্ধী ভাতা পান। সব মিলিয়ে পরিবারকে ভালোই সাহায্য করছেন অদম্য রাসেল।
রাসেলের স্বপ্ন, নিজেই একটি কারখানার মালিক হবেন। প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা পেলে একটি কারখানা গড়ে তোলা কঠিন নয় বলে মনে করেন তিনি।
ফটিকছড়ি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসাইন বলেন, রাসেলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ফটিকছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, সরকার দুঃস্থ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কল্যাণে কাজ করছে। রাসেলও যাতে সেসব সুযোগ-সুবিধা পান, এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

