প্রতিবন্ধীদের প্রাপ্য সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করলে জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা বিল-২০১৩’ সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট প্রমোদ মানকিন বিলটি পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করলে কণ্ঠভোটে তা পাস হয়। বিলের উপর বিরোধী দলের সদস্যরা জনমত যাচাই ও সংশোধনী প্রস্তাব জমা দিলেও অনুপস্থিতির কারণে তা উত্থাপন হয়নি।
বিলে অপরাধ ও দণ্ড সম্পর্কে বলা হয়েছে, কেউ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির আইনের আশ্রয় লাভে বাধা দিলে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওনা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করলে, কোন প্রতিবন্ধীর সম্পদ আত্মসাৎ করলে এবং প্রকাশনা ও গণমাধ্যমে প্রতিবন্ধী সম্পর্কে নেতিবাচক শব্দ ব্যবহার করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এ ধরনের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।
এছাড়া কোন ব্যক্তি অসত্য ও ভিত্তিহীন তথ্য দিয়ে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি হিসেবে নিবন্ধিত হলে তাকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানার আইন করার কথা বলা হয়েছে। আর কোন ব্যক্তি জালিয়াতির মাধ্যমে পরিচয়পত্র তৈরি করলে তার সর্বোচ্চ ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। কেউ প্রতিবন্ধীকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওনা সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করলে তার সর্বোচ্চ ৩ বছরের কারাদণ্ড ও ৫ লাখ টাকা জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে।
বিলে অটিজম, মানসিক অসুস্থতাজনিত প্রতিবন্ধিতা, শারীরিক প্রতবন্ধিতা, দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা, বাক প্রতিবন্ধিতা, বুদ্ধি প্রতিবন্ধিতা, শ্রবণ প্রতিবন্ধিতা, শ্রবণ-দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা ও বহুমাত্রিক প্রতিবন্ধিতাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার হিসেবে সব ক্ষেত্রে সমান আইনি স্বীকৃতি, স্বাধীন মত প্রকাশ, সমন্বিত শিক্ষায় অংশগ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, সংস্কৃতি ও খেলাধুলায় অংশগ্রহণ ইত্যাদির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পাস হওয়া বিলে বলা হয়েছে, আইনের উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা সংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ নামে একটি কমিটি থাকবে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী এই কমিটির সভাপতি হবেন। প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চত করতে মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কাজে সমন্বয় সাধন করবে এই কমিটি। এর বাইরে সমাজকল্যাণ সচিবের সভাপতিত্বে নির্বাহী কমিটি থাকবে, যার কাজ হবে সমন্বয় কমিটির নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা। প্রতিবন্ধীদের অধিকার বাস্তবায়নে জেলা, উপজেলা ও শহর এলাকাতে কমিটি থাকবে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা নিবন্ধন ও পরিচয়পত্রের জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার কমিটির কাছে আবেদন করবে।
বিলে আরও বলা হয়েছে, গণপরিবহনে মোট আসনের ৫ ভাগ প্রতিবন্ধীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে। প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকলে প্রতিবন্ধিতার কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবন্ধীর ভর্তির আবেদন প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। প্রতিবন্ধীদের অধিকার সংরক্ষণে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বৈষম্যমূলক আচরণ করতে পারবে না। আর প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার হিসেবে সব ক্ষেত্রে সমান আইনি স্বীকৃতি, স্বাধীন মত প্রকাশ, প্রবেশগম্যতা, সমন্বিত শিক্ষায় অংশগ্রহণ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মে নিযুক্তি, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ ইত্যাদি বিষয়কে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সম্পর্কে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার সনদ গ্রহণ করার পর এর বিধি-বিধান স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী কল্যাণ আইন-২০০১ রহিত করার প্রস্তাব করে বিলটি আনা হয়েছে।
সুত্র - natunbarta.com

