চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার দুই হাজার ৫২৭ জন তালিকাভুক্ত প্রতিবন্ধীর মধ্যে মাত্র ২৭৭ জন সরকারি ভাতা পাচ্ছেন। অবশিষ্ট শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা চরম অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিপাকে রয়েছে তাঁদের পরিবারও। এসব প্রতিবন্ধীর তালিকা এখনো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় তাঁরা ভাতা পাচ্ছে না।
মতলব দক্ষিণ উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট প্রতিবন্ধীর সংখ্যা দুই হাজার ৫২৭। এর মধ্যে নারী এক হাজার ছয়, পুরুষ এক হাজার ৪৯৭ এবং হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) ১৪ জন। ২০১২ সাল পর্যন্ত সমাজকল্যাণ মন্ত্রণলায়ে এ উপজেলা থেকে তালিকাভুক্ত প্রতিবন্ধীর সংখ্যা ছিল ২৭৭ জন। তবে গত বছরের মাঝামাঝিতে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এক জরিপে নতুন করে আরও দুই হাজার ২৫০ জন প্রতিবন্ধী চিহ্নিত হয়। নতুন ও পুরোনো মিলে নায়েরগাঁও দক্ষিণ ইউনিয়নে ৩৩৪, নায়েরগাঁও উত্তরে ২৯৫, খাদেরগাঁওয়ে ২৩৮, উপাদী উত্তরে ২৫৯, উপাদী দক্ষিণে ৩৫০ ও নারায়ণপুর ইউনিয়নে ৫৭০ জন প্রতিবন্ধী রয়েছে। এ ছাড়া মতলব পৌরসভার আওতায় ৪৭১ জন চিহ্নিত হয়েছেন। তবে তালিকার বাইরে রয়ে গেছেন আরও নয় প্রতিবন্ধী।
সূত্রটি আরও জানায়, তালিকাভুক্ত ২৭৭ প্রতিবন্ধী মাসে মাত্র ৩৫০ টাকা করে সরকারি ভাতা পান। নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমাজসেবা কার্যালয়ে কর্মরত একজন ইউনিয়ন সমাজকর্মী বলেন, উপজেলার ৯০ শতাংশ প্রতিবন্ধীই সরকারি ভাতা পায় না। এটা খুবই দুঃখজনক।
নারায়ণপুর ইউনিয়নের নায়েরগাঁও লেজাকান্দি গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী (৩৩ ইঞ্চি উচ্চতা) মতলব ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী জানাত আক্তার বলে, ‘বাবা দিনমজুরি করতেন, এখন অসুস্থ। কোনো দিন কাজ করতে পারেন, কোনো দিন পারেন না। মায়ের কোলে চইড়া কলেজে আসি। চার থেকে পাঁচ কিলোমিটার পথ হাঁটতে হয়। সরকার থেকে এক টাকাও ভাতা পাই না। কয়টা টাকা হইলে অন্তত মায়ের এট্টু কষ্ট কমত। রিকশায় আসতে পারতাম।’
উত্তর নায়েরগাঁও ইউনিয়নের বারগাঁও গ্রামের পানা আক্তার (২৫) (হাঁটতে পারেন না) বলেন, ‘এ পর্যন্ত সরকারের কাছ থেইকা কোনো ভাতা পাই নাই? গত বছর নাম নিয়া গেছে। তখন শুনছিলাম তাড়াতাড়িই নাকি কিছু ট্যাকা পাব? এখনো তো পাইলাম না। সব মাইনষেই আমাগো লগে এলা (এ রকম) করে। প্রতিবন্ধী বইলা আমরা কি মানুষ না?’
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমীন বলেন, ‘এখনো পুরোনো তালিকার ২৭৭ জন প্রতিবন্ধীই সরকারি ভাতা পাচ্ছে। নতুন তালিকা যাচাই-বাছাই করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তবে ভাতাবঞ্চিত ১২ জনকে গত ২২ জানুয়ারি হুইলচেয়ার দেওয়া হয়েছে। বাকিদের পর্যায়ক্রমে বিবেচনায় আনা হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

