বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, দেশে এক হাজার শিশু জন্মালে তার মধ্যে ৫৮টি শিশু কোনো না কোনো জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মায়। এসব শিশুর জন্য আবেগ থাকলেও এরা বৈষম্যের শিকার হয়।
গতকাল শুক্রবার জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ ও নজরদারির জন্য জাতীয় কৌশলপত্র তৈরি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ কথা বলে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) যৌথভাবে রাজধানীর একটি হোটেলে দুই দিনের এ কর্মশালার আয়োজন করে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের কর্মকর্তা রাজেশ মেহেতা বিভিন্ন দেশের উপাত্ত তুলে ধরে বলেন, জন্মগত ত্রুটির শিকার শিশুরা সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের প্রভাব রাখে। এদের অনেকে সারা জীবন প্রতিবন্ধী হয়ে থাকে, নিম্নমানের জীবন যাপন করে। এদের চিকিৎসার খরচ অনেক বেশি। পরিবার, সমাজ ও স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে এদের দীর্ঘদিন সেবার দরকার হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএসএমএমইউয়ের সহ-উপাচার্য মো. সহিদুল্লা বলেন, দেশে জন্মগত ত্রুটি প্রতিরোধ এবং এ ব্যাপারে নজরদারির ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কৌশলপত্র প্রণয়ন ও কার্য পরিকল্পনা তৈরি করা এই কর্মশালার উদ্দেশ্য। আজ বিকেলে এই কর্মশালা শেষ হবে।
জাতীয় অধ্যাপক এম আর খান বলেন, গর্ভধারণকালে প্রসূতির স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরিচর্যা জন্মগত ত্রুটি কমানোর পক্ষে সহায়ক।
প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ টি এ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে জন্মগত ত্রুটি বিষয়ে সঠিক পরিসংখ্যান নেই। কোন ধরনের ত্রুটির আশঙ্কা বেশি, তা জানা গেলে প্রতিরোধ করা সম্ভব। তিনি বলেন, খাদ্যসামগ্রী পুষ্টিসমৃদ্ধ করার মাধ্যমে এ সমস্যা মোকাবিলা করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ঢাকা প্রতিনিধি তুষারা ফার্নান্দো বলেন, জন্মগত ত্রুটি শিশুমৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে সামনে চলে আসছে। জন্মকালে পচন (সেপসিস), শ্বাস জটিলতা ও কম ওজনের পর শিশুমৃত্যুর কারণ জন্মগত ত্রুটি।
সূত্র - প্রথম আলো

