অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর মতো হাসপাতালগামী অনেক রোগীকে গতকাল হরতালের ভয়াবহ নির্মমতার শিকার হতে হয়। গতকাল হরতালের প্রথম দিন নগরের বিভিন্ন স্থানে রোগী বহনকারী অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। অনেক অটোরিকশায় আগুন দেন হরতাল-সমর্থকেরা। হরতালে রোগী নিয়ে বিপাকে পড়েন স্বজনেরা।
অন্তঃসত্ত্বা ওই নারীর সঙ্গে থাকা স্বজন নাদিয়া খানম ক্ষুব্ধ কণ্ঠে বলেন, ‘নগরের স্টেডিয়াম ফটকের সামনে পৌঁছালে কয়েকজন পিকেটার গাড়িটির গতিরোধ করেন। তাঁদের আমরা বারবার বলেছি, গাড়িতে অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। আমরা হাসপাতালে যাচ্ছি। তার পরও তাঁরা আমাদের অটোরিকশা থেকে নামিয়ে তাতে আগুন দিয়ে পালিয়ে যান।’
নাদিয়া খানম বলেন, পিকেটারদের বেপরোয়া আচরণে অন্তঃসত্ত্বা নারীটি ভয় পেয়ে যান। এ সময় তিনি ভয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাঁরা তাড়াতাড়ি একটি রিকশায় করে অন্তঃসত্ত্বা নারীটিকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
একইভাবে নগরের চৌমুহনী এলাকা থেকে এক মাস বয়সী কন্যা অনন্যা বড়ুয়াকে নিয়ে নগরের জিইসি মোড়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন অজন্তা বড়ুয়া। তাদের অটোরিকশাটি গরিবুল্লাহ শাহ মাজার এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন পিকেটার এটি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়েন। একটি ইট কাচ ভেঙে চালকের মুখে আঘাত করে। এতে তাঁর চোয়াল ফেটে যায়। কাচ ভেঙে আহত হন অজন্তা ও তাঁর শাশুড়ি। আহত অটোরিকশা চালককে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অজন্তা বড়ুয়া জানান, ঠান্ডায় তাঁর শিশুকন্যার বুকে কফ জমে গেছে। তাই তিনি শিশুটিকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তখন এই দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে গিয়ে দেখা যায়, রিকশা এমনকি ভ্যানে করে রোগীদের হাসপাতালে আনা হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিকশা-ভ্যানে আসতে গিয়েও পথে পথে নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়েছে তাঁদের।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলাম বলেন, রোগীদের কেউ রিকশায়, কেউ ভ্যানগাড়িতে করে হাসপাতালে আসছেন। বেশি গুরুতর হলে অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতালে আনা হচ্ছে।
সূত্র - প্রথম আলো

