ওষুধ-সংকটের কারণে গাইবান্ধার অধিকাংশ কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে রোগীরা সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের দরিদ্র মানুষদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য ১৯৯৮ সালে গাইবান্ধার সাত উপজেলায় ২৭৬টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপিত হয়। একটি একতলা ভবনের চারটি কক্ষে একেকটি ক্লিনিকের কার্যক্রম চালানো হয়। এখানে সর্দি, জ্বর, মাথাব্যথাসহ নানা রোগের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য প্রতিটি ক্লিনিকে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) নিয়োগ দেওয়া হয়। এসব ক্লিনিকে প্রতি চার মাস পর পর ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রতিটি ক্লিনিকে চার মাসের জন্য চার হাজার প্যারাসিটামল বড়ি, চার হাজার এন্টাসিড, দুই হাজার হিস্টাসিন ও ৪০০টি খাওয়ার স্যালাইনসহ ২৮ প্রকার ওষুধ সরবরাহ করা হয়।
১ অক্টোবর গাইবান্ধা সদর উপজেলার গিদারি ইউনিয়নের কালিরবাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে গিয়ে দেখা যায়, ওষুধ না থাকায় সিএইচসিপি রোগীদের সেবা দিতে পারছেন না। সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা কালিরবাজার গ্রামের কৃষক আবু সুফিয়ান বলেন, ‘বাড়ির কাচে কিলিনিক হয়া হামারঘরে কি নাব হলো। আচকে এ ওসুদ নাই, কালকে ও ওসুদ নাই।’
ফুলছড়ির কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের হোসেনপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি রুবেল মিয়া বলেন, ‘এ ক্লিনিকে প্রতিদিন গড়ে ১০০-১২০ জন রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। যে পরিমাণ ওষুধ পাই, তা দেড়-দুই মাসেই শেষ হয়ে যায়। এরপর হাত গুটিয়ে বসে থাকতে হয়।’ সদর উপজেলার কমিউনিটি ক্লিনিকের কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আমিনুদৌলা বলেন, চার মাসের জন্য যে পরিমাণের ওষুধ দেওয়া হয় তা দুই মাসেই শেষ হয়ে যায়। ওষুধের বরাদ্দ দ্বিগুণ করা হলে এ সমস্যা থাকবে না।
সিভিল সার্জন আহাদ আলী দাবি করেন, ওষুধের কোনো সংকট নেই। প্রতিটি ক্লিনিকেই চাহিদা অনুযায়ী ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।
সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিভাইটালাইজেশন অব কমিউনিটি হেলথ কেয়ার ইনিশিয়েটিভস ইন বাংলাদেশ (আরসিএইচপিআইবি) প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। সেখান থেকে যে পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা প্রতিটি ক্লিনিকে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। তার পরও বরাদ্দ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে।
সূত্র -প্রথম আলো

