home top banner

খবর

ঋতুস্রাবকে নিষিদ্ধ বিষয় হিসেবে না ভাবার আহ্বান
১৭ মে, ১৪
Tagged In:  menstruation  public health   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   44

প্রথম আলোর গোলটেবিল বৈঠকের আলোচকেরা বলেছেন, বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের শারীরিক পরিবর্তনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে মাসের নির্দিষ্ট সময়ে ঋতুস্রাব বা মাসিক হয়। তবে এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটিকেই নিষিদ্ধ বিষয় (ট্যাবু) হিসেবে ভাবা হয়। ফলে এ নিয়ে শুরু হয় রাখঢাক। সচেতনতার অভাবে এ সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকেও নজর দেওয়া হয় না। ফলাফল হিসেবে জরায়ু মুখ ও প্রজনন অঙ্গে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ দেখা দেয়। যার দীর্ঘমেয়াদি কুফল বয়ে বেড়াতে হয় সারা জীবন। তাই এ বিষয়ে লজ্জা নয়, কথা বলতে হবে। নিজে সচেতন হতে হবে। অন্যদেরও সচেতন করতে হবে।

আজ শনিবার সমাজে প্রায় নিষিদ্ধ বলে বিবেচিত বিষয়টি নিয়েই প্রথম আলো গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে। বেসরকারি সংগঠন ওয়াটার এইড বাংলাদেশের সহায়তায় কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আব্দুল কাইয়ুম।

গোলটেবিল বৈঠকের আলোচকেরা মাসিক নিয়ে কথা বলা শুরু করার পাশাপাশি মাসিক ব্যবস্থাপনার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব জায়গায় নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট, টয়লেটে সাবান, পানি, ঢাকনাযুক্ত ময়লা ফেলার বাক্স এবং সচেতনতা তৈরিতে জাতীয় পর্যায়ে ক্যাম্পেইনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন। নোংরা ও পুরোনো কাপড়ের পরিবর্তে সহজলভ্য ন্যাপকিন বা প্যাড সরবরাহ বাড়াতে বেসরকারি সংগঠনের পাশাপাশি সরকারকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান আলোচকেরা। আর এসব কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সরকারকে বিনিয়োগও করতে হবে।

বৈঠকে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) ওয়াটার, স্যানিটেশন অ্যান্ড হাইজিন রিসার্চ গ্রুপের প্রধান লিয়ানে ইউনিকমব অপ্রকাশিত একটি সমীক্ষার বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। ওয়াটার এইডসহ বিভিন্ন সংগঠনের সহায়তায় দেশব্যাপী করা সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, কিশোরী ও বয়স্কদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ মাসিক হওয়ার আগেই মাসিক সম্পর্কে জানতে পেরেছে। মাসিকের সময় বেশির ভাগই পুরোনো কাপড় ব্যবহার করে। এক-পঞ্চমাংশেরও কম ঠিকমতো মাসিকের কাপড় পরিষ্কার করে, রোদে শুকায় এবং ভালো জায়গায় সংরক্ষণ করে। স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের অর্ধেকই স্কুলে নারীবান্ধব অবকাঠামো এবং নিরাপত্তার অভাবে মাসিকের কাপড় পরিবর্তন করতে পারে না। প্রায় অর্ধেক কিশোরীই মাসিকের সময় স্কুলে যেতে পারে না। তাদের কমপক্ষে তিন দিন স্কুল কামাই করতে হয়। শিক্ষক, এনজিও বা স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে স্বাস্থ্যসম্মত মাসিক ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে জানতে পারছে মাত্র ৬ শতাংশ। ৪৮ শতাংশ বয়স্ক, ৩৮ শতাংশ কিশোরী এবং ৭৪ শতাংশ স্কুলপড়ুয়া মেয়ে মনে করে, মাসিকের সময় কাজ বন্ধ রাখতে হয়। স্কুলপড়ুয়া ৪১ শতাংশই জানিয়েছে, গত ছয় মাসে তারা বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে।

বৈঠকের প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, মাসিকের সময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিলে পরে সংক্রমণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় চিকিত্সকের পেছনে খরচ কমে যাবে। ফলে পরিবার ও রাষ্ট্র অতিরিক্ত খরচের হাত থেকে বাঁচবে। প্রতিমন্ত্রী মাসিক সম্পর্কে অসচেতনতার কারণে আর্থিকসহ অন্যান্য শারীরিক কী কী ক্ষতি হচ্ছে, তা নিয়ে গবেষণা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিলরুবা বলেন, সরকারের মোট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ১২ শতাংশ নারী। এই কর্মীদের মাসের সাত দিন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় পরিষ্কার এবং পর্যাপ্ত টয়লেট সুবিধা না থাকার কারণে। এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে সরকার পিছিয়ে আছে। ডিসি অফিস বা সচিবালয়ের নারীদের জন্য টয়লেট-ব্যবস্থা এখনো ততটা উন্নত হয়নি। তবে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনায় এবং নতুন ভবন তৈরিতে নারীদের জন্য আলাদা টয়লেট ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দিচ্ছে।

জীবনব্যাপী স্বাস্থ্য ঝুঁকি: প্রসূতি ও মাতৃস্বাস্থ্য নিয়ে কর্মরত পেশাজীবীদের সংগঠন ওজিএসবির সভাপতি লতিফা শামসুদ্দিন বলেন, নির্দিষ্ট সময়ে মাসিক না হওয়াও সমস্যা। মাসিকের ব্যবস্থাপনা না থাকায় স্কুলশিক্ষকেরা পর্যন্ত মানসিক সমস্যায় ভোগেন। পরিবারে মা-বাবা সন্তানদের এ বিষয়ে সচেতন করেন না। ফলে তারা একটি ভীতির মধ্য দিয়ে

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: হাঁটুর ব্যথা কমাবে আঙুর
Previous Health News: শরীরের মধ্যে কম্পিউটার!

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')