মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে ফলমূল, শাকসবজি নিয়ে মানুষ যখন আতঙ্কে, তখন কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদনের পদ্ধতি নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলছে গবেষণা৷ চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণাকেন্দ্রের (আম গবেষণাকেন্দ্র) বিজ্ঞানীরা কীটনাশকের ব্যবহার এড়াতে দুটি পদ্ধতি নিয়ে গবেষণা করছেন৷
কীটনাশকমুক্ত আম উৎপাদনের পদ্ধতি দুটির একটি হচ্ছে গাছে ছাঁকনি জাল (ফিল্টার নেট), অপরটি আমে প্যাকেট ব্যবহার৷ গবেষণাকেন্দ্রের বিজ্ঞানীদের দাবি, এ দুই পদ্ধতির প্রসারে কীটনাশকের ব্যবহার যেমন কমবে, তেমনি স্বাস্থ্যসম্মত আম খেতে পারবে মানুষ৷ পাশাপাশি আম উৎপাদনকারীরাও লাভবান হবেন৷
গবেষণাকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জমির উদ্দীন জানান, নতুন একটি নাবি জাতের আম নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে তিনি দেখেন, ব্যাপক পোকামাকড়ের আক্রমণের শিকার হচ্ছে আমটি। এ সময় তিনি কীটনাশক ব্যবহার না করে গোটা গাছটি ছাঁকনি জাল দিয়ে ঢেকে দেন৷ ২০১২ সালে তিনি এ পদ্ধতি প্রয়োগ করেন৷ এতে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়ার পর পরের বছরও একই পদ্ধতি ব্যবহার করে ভালো ফল পান। এ বছরও গবেষণাকেন্দ্রের বেশ কিছু গাছে এ পদ্ধতিতে আম উৎপাদন করা হচ্ছে৷
আরেকটি গাছ ঢেকে দেওয়া হয়েছে ছাঁকনি জাল দিয়ে l ছবি: প্রথম আলোজমির উদ্দীন বলেন, মুকুল আসার ঠিক আগ মুহূর্ত থেকে আম মটরদানার আকার ধারণ করা পর্যন্ত চাষিদের তিনবার কীট ও ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হয়৷ সর্বোচ্চ পাঁচবারের বেশি স্প্রে করা পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু আম ব্যবসায়ীরা বেিশ ফলনের আশায় ১৫ থেকে ৩৫ বার পর্যন্তও স্প্রে করেন। আমের মৌসুম এলে এ জেলায় কোটি কোটি টাকার কীটনাশক বিক্রি হয়ে থাকে৷
বিজ্ঞানী বলেন, একটি ১৮ থেকে ২০ বছরের স্বাস্থ্যবান গাছে ১৫ থেকে ২০ বার স্প্রে করতে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা লাগে৷ অথচ ছাঁকনি জাল দিয়ে গাছ ঢেকে দিতে খরচ পড়বে এক থেকে দেড় হাজার টাকা। একটি জাল ৮ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ব্যবহার করা যায়। আগামী বছর থেকে এ পদ্ধতিতে উৎপাদিত আম বাজারজাত করার আশা প্রকাশ করেন তিনি৷
অপর পদ্ধতিটি হচ্ছে চীন থেকে আনা বিশেষ ধরনের কাগজের ঠোঙায় আম মুড়ে দেওয়া৷ গবেষণাকেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে এবারই এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হচ্ছে৷ এ কাজের সঙ্গে যুক্ত বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সরফ উদ্দীন বলেন, খুব বেিশ বড় গাছে এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা যায় না৷ ৮ থেকে ১০ বছর বয়সী একটি গাছে আমের বয়স ৪০-৪৫ দিন হওয়ার পর প্রতিটি আম এই বিশেষ ধরনের ঠোঙায় পুরে দেওয়া হয়। তিনি আরও জানান, ৮ থেকে ১০ বছরের একটি আমগাছে প্রায় ১৬০ থেকে ১৮০টির মতো আম হয়৷ এ জন্য ব্যয় হবে ৭৩০ থেকে ৭৫০ টাকা৷ প্রতিটি ব্যাগ দুই বছর ব্যবহার করা যেতে পারে৷ অথচ এ রকম একটি গাছে স্প্রে করতে ৬২০ টাকার মতো খরচ হয়৷
সূত্র - প্রথম আলো

