টেলিভিশন দেখে, কম্পিউটারে বসে কিংবা মুঠোফোন বা ট্যাবলেটে ভিডিও গেমস খেলে শিশুরা যত বেশি সময় কাটাবে, তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতিও তত বেশি হবে। এটা কম-বেশি সবাই জানি। এখন নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে, শিশুরা এসব যন্ত্রের মনিটর বা পর্দায় যত বেশি তাকিয়ে থাকবে, তাদের মধ্যে উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কাও ততটাই বেড়ে যাবে। যে শিশুরা দিনে দুই ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় এসব দেখে, তাদের উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি। যুক্তরাজ্যের ফিমেলফার্স্ট সাময়িকীটি এ খবর জানিয়েছে।
৭ মে বিশ্ব হার্ট ফাউন্ডেশনের ‘ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস অব কার্ডিওলজি’-তে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, শারীরিকভাবে দুর্বল যেসব শিশু দিনে দুই ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় টিভি বা কম্পিউটারের মনিটরের সামনে কাটায়, তাদের উচ্চ রক্তচাপের আশঙ্কা অন্যদের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৪ গুণ। এ গবেষণায় ৮ থেকে ১০ বছরের শিশুদের শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, দুর্বলতা ও আলসেমির সঙ্গে উচ্চ রক্তচাপের সম্পর্ক বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে।
৮ থেকে ১০ বছরের ৬৩০টি শিশু এই গবেষণায় অংশ নেয়। এই শিশুদের এমনভাবে বাছাই করা হয়েছে যে, এদের বাবা-মায়ের মধ্যে অন্তত একজনের মুটিয়ে যাওয়ার সমস্যা আছে। প্রথমেই শিশুদের টেলিভিশন দেখার অভ্যাস, কম্পিউটারে বসা বা কাজ করা, ভিডিও গেম খেলা এবং পড়াশোনা ও খেলাধুলার অভ্যাসের বিশদ বিবরণ সংগ্রহ করা হয়েছে। মোট পাঁচবার এই শিশুদের রক্তচাপ পরিমাপ করা হয়েছে এবং সপ্তাহ ধরে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে তাদের শারীরিক সক্রিয়তার হিসাব নেওয়া হয়েছে। বাবা-মায়ের কারও উচ্চ রক্তচাপ থাকলে সেই তথ্যও বিবেচনায় আনা হয়েছে এতে। পাশাপাশি শিশুদের উচ্চতা, ওজন এবং লৈঙ্গিক পরিপক্বতাসহ তাদের পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থানের তথ্য-উপাত্তও ব্যবহার করা হয়েছে এই গবেষণায়।
উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য হূদরোগের আশঙ্কা এড়ানোর জন্য শিশুদের শারীরিকভাবে সক্রিয় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে এই গবেষণা প্রতিবেদনটিতে। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা হূদরোগের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং দুনিয়াজুড়েই এটা মৃত্যুর চতুর্থ বড় কারণ হিসেবে বিবেচিত এই হূদরোগ। প্রতিবছর প্রায় ৩২ লাখ মানুষ হূদরোগজনিত নানা কারণে মারা যায়।
উচ্চ রক্তচাপকে একটা নীরব ঘাতক হিসেবে উল্লেখ করে শিশু বয়সেই এর আশঙ্কা থেকে আগামী প্রজন্মকে মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন ওয়ার্ল্ড হার্ট ফাউন্ডেশন এবং ভারতের জনস্বাস্থ্য ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট শ্রীনাথ রেড্ডি।
সূত্র - প্রথম আলো

