দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের চরগুলোতে ৫০-৬০ লক্ষ মানুষ প্রতিনিয়ত সংগ্রাম আর নানা ঝুঁকির মধ্য দিয়ে বসবাস করছে। বসবাসরত ৬৫ শতাংশ মানুষ প্রায় সারা বছরই কম-বেশি খাদ্য কষ্টে থাকে, এমনকি পর্যাপ্ত পুষ্টিসমৃদ্ধ খাওয়া থেকেও বঞ্চিত। এসব এলাকার ৮৫ ভাগ গর্ভবতী নারী গর্ভকালীন বা প্রসবপূর্ব স্বাস্থ্যসেবা থেকে একেবারেই বঞ্চিত। এমনটাই তথ্য উঠে এসেছে বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয়ের গবেষণায়।
গবেষণায় আরো উঠে এসছে, বিভিন্ন সমস্যার কারণে চরের ৫৬ ভাগ শিশু নিয়মিত স্কলে যায় না। এ ছাড়া ৭৯ ভাগ চরের মানুষ সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। চরের মানুষের উন্নয়নে বাজেটে সুনির্দিষ্ট কোনো বরাদ্দ রাখা হয় না।
আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন সমন্বয় ও ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্স আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য তুলে ধরা হয়
চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জাতীয় বাজেটে সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন কেন জরুরি শীর্ষক এ মতবিবিময় সভায় আরো জানানো হয়, চরাঞ্চলের মানুষ দুই বেলা খেয়ে জীবনধারণ করে থাকে। তাদের দিকে সরকারের বিশেষ দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। চরাঞ্চলের মানুষের মানউন্নয়নে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ১৮১ কোটি ও ২০১০-১১ অর্থবছরে ৩ হাজার ৫৪৬ কোটি টাকা জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ করা হলেও এ অর্থ ব্যবহার হয়নি। পরবর্তীতে চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে আর কোনো পৃথক বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়নি।
অনুষ্ঠানে বক্তারা চরাঞ্চল মানুষের জীবন মান উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ে একটি চর ফাউন্ডেশন ও একটি চর উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নের দাবী করেন।
ন্যাশনাল চর অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান খন্দকার ইব্রাহিম খালেদের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান।
বক্তব্য রাখেন, খোন্দকার আজিজুল হক আরজু এমপি, কনসার্ন ওয়াল্ডওয়াইডের কান্ট্রি-ডিরেক্টর একেএম মুসা, উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. খ. মকদুম হোসেন, উন্নয়ন সমন্বয়ের কো-অর্ডিনেটর শাহীনুল আলম ও জাহিদুর রহমান প্রমুখ।
সূত্র - natunbarta.com

