বাচ্চারা গভীর রাতে কান্নাকাটি করে অস্থির হয়ে ওঠে। মা তখন দ্রুত শিশুটিকে স্তন পান করান। গভীর রাতে শিশুর এই কান্না শুধু তার ক্ষুধার জন্য নয়, এর দ্বারা সে তার বাবা-মাকে তার নিজের কাজে ব্যস্ত রাখে যেনো তার পরের ভাই বা বোনটির জন্ম আরো দেরিতে হয়। নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, গভীর রাতে শিশুদের এই সহজাত কান্নার পেছনের আরেকটি কারণ হলো বাবা-মাকে যৌন মিলন থেকে দূরে রাখা।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডেভিড হেইগ তার এই গবেষণায় বলেন, রাতে বিশেষ করে যৌন সঙ্গমের আদর্শ সময় বাবা-মাকে সঙ্গম থেকে দূরে রাখতে শিশুদের এই প্রচেষ্টা মূলত মানুষের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সহজাত প্রবণতা থেকে আসে। রাতে শিশু মায়ের বুকের দুধ পান করে। এতে মায়ের উর্বরতা কমে যায় এবং মায়ের পরবর্তী জন্মদানের সম্ভাবনা কমতে থাকে। আর এই সম্ভাবনা যতো কমবে তার বেঁচে থাকার আদর্শ পরিবেশ ততো বেশি নিশ্চিত হবে। গবেষক বলেন, বুকের দুধ যতো পান করানো হয় পরবর্তী গর্ভধারণের জন্য মায়ের ডিম্বাশয় ততো বেশি অনুর্বর হতে থাকে। এতে পরের সন্তানটি আসাও ততো বেশি বিলম্ব হতে থাকে।
ইতিমধ্যে দেখা গেছে, সন্তানের জন্মদানের মধ্যে সময়ের ব্যবধান যতো কম থাকে, শিশুর মৃত্যুর সম্ভাবনা ততো বাড়ে। বিশেষ করে যেসব স্থানে অভাব রয়েছে এবং রোগ-বালাই বেশি সেসব স্থানে এই ক্ষেত্রে শিশু মৃত্যুর হার বেড়ে যায়। মূলত নিজের সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার পরিবেশ নিশ্চিত করতেই শিশুরা এমন আচরণ করে। সূত্র : ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস -
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

