নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম মানুষের স্মৃতিশক্তিকে আরো শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করে। গবেষকরা জানান, এক ধরনের ঘ্রাণের অনুভূতি ইঁদুরের মস্তিষ্কে ঢুকে গেলে ঘুমের পর সেই ঘ্রাণকে আরো নিখুঁতভাবে শনাক্ত করতে পারে ইঁদুর। হালকা ঘুমের সময় একই ধরনের ঘ্রাণ ছেড়ে দেওয়া হলে ইঁদুরের মস্তিষ্ক তা নিয়ে কাজ শুরু করে দেয়। আমাদের মস্তিষ্কও একইভাবে কাজ করে।
এনওয়াইইউ ল্যানগন মেডিক্যাল সেন্টার এবং নাথান ক্লাইন ইনস্টিটিউট ফর সাইকিয়াট্রিক রিসার্চ এর বিশেষজ্ঞ ডোনাল্ড উইলসন বলেন, হালকা-পাতলা ঘুমের সময় মানুষের মস্তিষ্কের সেন্সর সিস্টেম স্বাভাবিকের চেয়ে কম কার্যকর থাকে। আর ঘুমন্ত অবস্থায় সেন্সনারি সিস্টেম কম কাজ করলে আমাদের অবচেতন মন শেখা বিষয়গুলোকে পুনরায় বিশ্লেষণ করে। ফলে শেখা জিনিসগুলো স্মৃতিতে আরো পোক্তভাবে প্রথিত হয়ে যায়।
দ্য জার্নাল অব নিউরোসায়েন্স স্টাডিতে ইঁদুরকে নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এই পরীক্ষায় ইঁদুরকে জাগ্রত অবস্থায় এক বিশেষ ধরনের গন্ধের সঙ্গে অভ্যস্ত করা হয়। তারপর তাদের পায়ে হালকা মাপের শক দেওয়া হয়। ফলে ওই গন্ধের সঙ্গে শক খাওয়া মিলে এক ধরনের ভীতির সঞ্চার হয় ইঁদুরের মনে। পরে হালকা ঘুমের মধ্যে ওই গন্ধ ছড়িয়ে দেওয়া হয় ইঁদুরের ওপর। এ সময় তাদের মস্তিষ্ক পরীক্ষা করে পাওয়া যায়, ওই গন্ধের অনুভূতি মস্তিষ্কে ইঁদুরের শক খাওয়ার স্মৃতিকে আরো শক্ত করে দিচ্ছে এবং এর পর ইঁদুর ওই গন্ধ পাওয়ামাত্র সাবধান হয়ে যাবে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, যেকোনো স্মৃতিশক্তিকে সুগঠিত এবং নিখুঁত করার জন্য ঘুম মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করে দেয়, জানলেন ডোনাল্ড উইলসন।
কম ইলেকট্রিক ঢেউ তৈরি হয় এমন ঘুমের সময় মূলত নিউরনগুলো একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং তাদের মধ্যকার আন্তযোগাযোগ আরো শক্তিশালী করে তোলে। ফলে স্মৃতি আরো পরিষ্কার ও স্থায়ী হয়।
ঘুম যে স্মৃতিশক্তিকে স্থায়ীত্ব দেয় সে বিষয়ে এটাই প্রথম পরীক্ষা নয়। অন্য এক ছোট পরিসরের গবেষণায় দেখা গেছে, হালকা একচোট ঘুমের পর মানুষ বুদ্ধিমত্তা নিরীক্ষণের পরীক্ষায় আগের চেয়ে ভালো করছে। অবশ্য ঘুমের মাধ্যমে নতুন কিছু শেখা যায় তার প্রমাণ না পাওয়া গেলেও পুরোনো শেখা তথ্যগুলোকে যে স্মৃতিতে গেঁথে দেয়, তার শক্ত প্রমাণ মিলেছে। সূত্র : হাফিংটন পোস্ট
সূত্র - দৈনিক কালের কণ্ঠ

