রিউমেটিক ফিভার বা বাতজ্বর
11 November,13
Viewed#: 194

রিউমেটিক ফিভার বা বাতজ্বর শিশুদের হার্টের রোগের মধ্যে অন্যতম। রোগ সংগঠনের সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে বিধায় তার চিকিৎসা তথা প্রতিরোধও সম্ভব। এজন্য রোগটির উৎপত্তি, বিস্তার, পরিবেশগত ঝুঁকি ও অন্যান্য বিষয়ে সবার সঠিক ধারণার প্রয়োজন। আমাদের দেশে এ রোগটি প্রতি হাজারে ১.২ জন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই ছেলেশিশু এবং বয়স ৫ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোয় এ রোগের বিস্তার একুশ শতকের শুরু থেকেই কমতে শুরু করেছে। ধারণা করা হয়, উন্নত জীবনযাত্রা, প্রযুক্তিসহ স্বাস্থ্যব্যবস্থাপনার প্রসার, জনসাধারণের সচেতনতাই এর কারণ। কিন্তু আমাদের দেশে রোগ সংক্রমণের হার এখনো উদ্যোগজনক পর্যায়ে রয়ে গেছে।
এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া বা অনুজীব গ্রুপ-এ বিটা হেমোলাইটিক স্ট্রেপটোকক্কাসজনিত শ্বাসনালির প্রদাহের সঙ্গে বাতজ্বরের প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। রোগাক্রান্ত শিশুদের দুই-তৃতীয়াংশের শ্বাসনালির প্রদাহে আক্রান্ত হওয়ার ইতিহাস থাকে। বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে স্ট্রেপটোকক্কাস জীবাণুকে শনাক্ত করা সম্ভব। ঘনবসতিপূর্ণ, স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের সাধারণত শীতকালে এ রোগে আক্রান্ত হতে দেখা যায়। অ্যান্টিবায়োটিক পেনিসিলিন ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে শুরুতেই শ্বাসনালির প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে বাতজ্বরের প্রকোপ কমানো যায়। আবার দীর্ঘমেয়াদি এ ওষুধ প্রয়োগ করে বারবার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা এবং বাতজনিত হৃদযন্ত্রের অসুবিধা দূর করা সম্ভব। আমাদের দেশে ব্যাপকভাবে থাকলেও এখন পর্যন্ত বাতজ্বরের প্রকোপ জনসাধারণ তো বটেই এমনকি চিকিৎসক মহলেও এ বিষয়ে ভুল অথবা অসম্পূর্ণ ধারণা বিরাজমান। এ জন্য রোগটি নির্ণয় এবং চিকিৎসা প্রদানের জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। তাই প্রচলিত ধারণা এবং ঘটনা এ ক্ষেত্রে তুলে ধরলে, বিভ্রান্তি আশা করি কেটে যাবে।
বাতজ্বর প্রতিরোধে করণীয়
শুরুতেই স্ট্রেপটোকক্কাসজনিত শ্বাসনালির প্রদাহ শনাক্ত করে পেনিসিলিন জাতীয় ওষুধ প্রয়োগে বাতজ্বরের প্রকোপ কমিয়ে ফেলা সম্ভব।
পরিচ্ছন্ন এবং খোলা সুস্থ সুন্দর পরিবেশে জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া। বাতজ্বরের সময় একমাত্র সময়োপযোগী চিকিৎসাই রোগের দীর্ঘমেয়াদি অসুবিধা বা জটিলতা যেমন বাতজ্বরজনিত হৃদযন্ত্রের অসুবিধা থেকে শিশুদের মুক্ত রাখতে সাহায্য করবে।
সূত্র - যায়যায়দিন