
পেটে ব্যাথা নিয়ে চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া গিয়ে লাশ হয়ে ফিরলো কলেজছাত্রী আসমা। আর দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে প্যানেশিয়া হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ 'ভুল' চিকিৎসার দায় সারল মাত্র তিন লাখ টাকায়। এর আগে আর্থিক সমঝোতার আশায় আসমার দরিদ্র পরিবার লাশ দাফন দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিলম্বিত করে।
আসমা আক্তার (১৭) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার মেহারি গ্রামের দরিদ্র জাহের মিয়ার মেয়ে; পড়তেন পাশের গ্রামের নাঈমা আলী কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে। পরিবারের সদস্যরা জানান, পেটে তীব্র ব্যথা হলে গত সোমবার আসমাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আধুনিক পৌর মার্কেটের তৃতীয় তলার প্যানেশিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতাল থেকে বলা হয় এ ব্যাথা অ্যাপেন্ডিসাইটিসের এবং এ জন্য অস্ত্রোপচারের করতে হবে। সোমবার সন্ধ্যায় আসমাকে অস্ত্রোপচার কক্ষে নেওয়া হয়। এরপর দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আসমার কোনো কোন খোঁজ পাচ্ছিলেন না স্বজনরা। অজানা আশংকা নিয়ে তারা এক পর্যায়ে তাঁরা অপারেশন থিয়েটারে ঢুকেন। তখন দেখা যায়, আসমার লাশ পড়ে আছে। ওখানে আর কেউ নেই। এরপরও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত হাসপাতালের কাউকে তারা পাননি। পরে আত্মীয় স্বজনকে খবর দিয়ে হাসপাতালে এনে লাশ উদ্ধার করা হয়।
আসমাদের প্রতিবেশি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ব্যবসায়ী মো. রফিকুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, 'আমি শহরের বাসায় ছিলাম। ঘটনার পর আমাকে খরব দেওয়া হলে আমি ওই হাসপাতালে যাই। আমি গিয়েও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কাউকে পাইনি। গভীর রাতে হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট একজন এসে জানায় অপারেশনের পর সে মারা গেছে। ভোরে আমরা আমরা লাশ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসি'।
আসমার চাচা মো. সোলায়মান বলেন, আসমার বাবা প্রবাসে থাকতেন। সেখানে সুবিধা করতে না পেরে গ্রামে ছোট দোকান দেন। এসব বিষয় চিনত্মা করে তিন লাখ টাকায় সমঝোতার প্রস্তাবটি পরিবার মেনে নেয়। সোলায়মান জানান, গতকাল মঙ্গলবার দুপুরেই জানাজার জন্য লাশ প্রস্তুত ছিল। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মধ্যস্থ্যতকারীর মাধ্যমে নগদ অর্থের বদলে চেক দেওয়ায় আসমার পরিবার দ্বিধায় পড়ে যায়। এক পর্যায়ে তারা বিষয়টি মেনে নেয় এবং সন্ধ্যার পর গ্রামের গোরস্থানে লাশ দাফন হয়।
সোলায়মান আরো বলেন, 'অ্যাপেন্ডিসাইটিসের অপারেশনে কেউ মারা যায় না। অবশ্যই ভুল চিকিত্সার কারণে এমন হয়েছে। ঘটনার পর অপারেশন থিয়েটারের কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হয় নি। চিকিত্সকসহ অপারেশন থিয়াটারে থাকা লোকজন ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা চলে গেলে অপারেশন থিয়েটারে আসমার লাশ পাওয়া যায়'।
তবে ভুল চিকিত্সার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন প্যানাশিয়া মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইব্রাহিম খান সাদাত। কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, 'এটা ছিল ক্ষু অপারেশন। অপারেশন শেষ করার ঘণ্টা দু'য়েক পর রোগী মারা যায়। হয়তো তার হার্টে কোনো সমস্যা হয়েছিল। অপারেশন পরবর্তী সময়ে এমনিতেই বিভিন্ন সমস্যা দেয়। বিষয়টি আমরা রোগীর স্বজনদের বুঝাতে পেরেছি। এ নিয়ে কোনো সমস্যা নেই'।
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. আবু সাঈদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায় নি। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তাঁর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেন নি।
সূত্র - kalerkantho.com

