home top banner

স্বাস্থ্য টিপ

চুল ও তার কথকতা
১০ অক্টোবর, ১৩
Tagged In:  hair care  
  Viewed#:   334

শরীরের সৌন্দর্য রক্ষায় মাথার চুলের রয়েছে নান্দনিক গুরুত্ব। আর তরুণ বয়সেই যদি চুলে পাক ধরে কিংবা দু-একটি চুল সাদা হয়ে যায়, তখন মানসিক দুশ্চিন্তা শুরু হয়ে যায়। এবং এসব বন্ধ করতে যে যা উপদেশ দেয় তাই সবাই করে থাকে। আর এসব বন্ধ করতে হেয়ার স্প্রে, হেয়ার জেল, হেয়ার ক্রিম, শ্যাম্পু, কলপ আরো কত কী-ই না মানুষ ব্যবহার করে। ফল আগে যা ছিল তাই, শূন্য।

প্রকৃতিগত নিয়মে এ চুল এক সময় পাকবেই। এটিই নিয়ম। কিন্তু এ নিয়মের বাইরে নির্দিষ্ট সময়ের আগেই চুল সাদা হয়ে গেলে ব্যাপারটি বেশ বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়ায়। কেন চুল সাদা হয়? এবং এ চুল কালো কিংবা চিরস্থায়ী রঙ করার আদৌ কোনো ওষুধ আছে কি না, চলুন এ সম্পর্কে জানা যাক।

মাথার চুলসহ শরীরের নানা অংশের চুল আমাদের চামড়া থেকে সৃষ্টি হওয়া একটি অংশ। চামড়ার ভেতরে থাকে লোমকূপ। এই লোমকূপে থাকে সজীব কিছু কোষ (কোষ হচ্ছে জীবদেহের গাঠনিক ও কার্যিক একক), যাকে বলা হয় হেয়ার ম্যাট্রিক্স। এই ম্যাট্রিক্সের কোষগুলো দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কেরাটিন নামে প্রোটিন জাতীয় এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ তৈরি করে এবং এটি লম্বা হয়ে চামড়ার বাইরে বেরিয়ে আসে। এটিই চুল। ম্যাট্রিক্সে মেলানিন তৈরি করতে সক্ষম মেলানোসাইট নামে এক ধরনের কোষও থাকে। এই মেলানিন কালো রঙের এবং চামড়ার কালো রঙের জন্যও দায়ী। চামড়ায় এটি কমে গেলে বলা হয় শ্বেতি বা ম্যাট্রিক্সের মেলানো সন্ধি থেকে তৈরি হওয়া মেলানিন চুলে অর্থাৎ প্রোটিন কেরাটিনের সাথে মিশে গিয়ে চুলের রঙ কালো করে থাকে। চুলের গোড়ায় যদি বেজো থায়াজাইলোলামিন থাকে, তাহলে চুলের গোড়া হলুদ ও লাল হয়ে যাবে।

মাথার চুলের আয়ু চার বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত হতে পারে। পুষ্টিহীনতার জন্যও চুলে পাকন ধরতে পারে। চুল না পাকার জন্য যে পুষ্টিহীনতা কাজ করে, তার নাম হচ্ছে কেরাটিন প্রোটিনের অভাব। প্রোটিনের অভাব হলে ধীরে ধীরে চুলের রঙ পরিবর্তন হয়। যেমন - কখনো বাদামি, কখনো লাল পর্যায়ক্রমে এটি সাদাতে রূপান্তর হয়। বৈজ্ঞানিকেরা ধারণা করেন, এই রঙের মূল ভূমিকায় থাকে প্রোটিন। চুলের প্রয়োজনীয় প্রোটিন শরীরে না থাকলে যেকোনো বয়সে চুল সাদা হতে পারে। বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতে এ প্রোটিনের অভাব দেখা গেছে - চুল শুকিয়ে ভঙ্গুর হয়ে গেছে - ধীরে ধীরে চুল উঠে পাতলা হয়ে গেছে - এ ছাড়াও রক্তচাপ রোগী হলে - পেরিয়েরাল আর্টেরিয়াল ডিজিজ - হৃৎপিণ্ডের রক্তনালীর রোগ এগোনোতে চুল পেকে যেতে পারে। এ ছাড়া রখম্যান থমসন সিনড্রোম, ডিসট্রফিক মায়োটোনিয়া ও প্রোজেরিয়া রোগে আক্রান্ত হলে তেরো-চৌদ্দ বছরের মধ্যে চুল পাকা শুরু হয়। এবং ১৮-১৯ বছরের মধ্যে চুল সম্পূর্ণ সাদা হয়ে যায়। এ ছাড়া এলোপেসিয়া এরিয়াটা ও ভিটামিন ‘বি’এর অভাব ঘটিত রোগ যেমন পারনিসিয়াস এনিমিয়ায় ও চুল সাদা হয়ে যায়। আমাদের দেহের গলার সামনের দিকে থাইরয়েড গ্লান্ডের কিছু রোগেও চুল পেকে যেতে পারে। এ ছাড়া মেলানোসাইট সঠিকভাবে কাজ না করলেও চুল পেকে যেতে পারে।

চুলপাকা প্রতিরোধ : পাকা চুলকে কালো করার গবেষণা এখনো চলছে। নির্দিষ্ট চিকিৎসা এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। বড়জোর বাইরে থেকে কল্প বা রঙ লাগিয়ে সাময়িকভাবে রঙ পরিবর্তন করা যায়। প্রোটিন ও মেলানোসাইট, মেলানিন এগুলো রঙ্গানু নির্ভরও (Geaetic) হয়ে থাকে। তাই যত ওষুধ বা ডিমের শ্যাম্পুই লাগানো হোক তা থেকে ভালো ফল সম্ভব নয়, বরং তা থেকে চামড়ার রোগ Derenatitisহতে পারে। অনেকেই বলে থাকেন চিন্তায় চুল পাকে, কথাটি মোটেও সত্য নয়। এমনও প্রমাণ রয়েছে চিন্তা মোটেও করেন না এমন অনেক লোকের চুল পেকে গেছে। অনেকেই সাদা চুলকে কালো করার জন্য অ্যামাইনো বেনজোয়িক এসিড ট্যালেট দিয়ে থাকেন। অনেকে আবার কলপ বা শ্যাম্পু দিয়ে থাকেন। এগুলোরও নির্দিষ্ট ফল আদৌ পাওয়া যায়নি। কলপ সাময়িকভাবে চুলকে কালো করলেও তা চিরস্থায়ী নয়। লন্ডনের কিছু চিকিৎসা বিজ্ঞানী চুল পড়া ও পাকা রোধে ইদানীং এসেনশিয়াল অ্যামাইনো এসিড ব্যবহার করে দেখছেন বর্তমানে পাওয়া বাজারে tab. Prima অথবা Tab. Primrose Evening.এটি শরীরের বা ত্বকের অন্যান্য রোগেও দেয়া হয়ে থাকে। অনেক চিকিৎসা বিজ্ঞানীই বলছেন, উপযুক্ত পরিমাণে প্রোটিন খেলেও চুল পাকা রোধ সম্ভব। আর তার উপযুক্ত বা নির্দিষ্ট চিকিৎসার জন্য বিজ্ঞানীদের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে আরো কিছু দিন।

সূত্র - দৈনিক নয়া দিগন্ত

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: রান্নাঘরে কত কাজ
Previous Health Tips: যৌথ পরিবারের ঈদ

আরও স্বাস্থ্য টিপ

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... আরও দেখুন

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... আরও দেখুন

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... আরও দেখুন

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... আরও দেখুন

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... আরও দেখুন

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')