মুজতবা সাহেব ইদানিং খুবই আনমনা হয়ে থাকেন। কি যেন ভাবনায় ডুবে থাকেন সারাক্ষণ। কেমন বিষন্ন মন মরা ভাব তাকে ঘিরে থাকে। জিজ্ঞেস করতে একটু লাজুক হেসে বললেন তার সমস্যার কথা।
চুল পড়া সমস্যায় ভুগছেন তিনি। আগে অল্পসল্প পড়লেও ইদানিং বেড়েছে চুল পড়ার পরিমাণ। মাথার মাঝখানে উঁকি মারছে একটি শিশু টাক। খুব তাড়াতাড়ি যে চুল সরে গিয়ে মাথা জুড়ে গজিয়ে উঠবে এক মস্ত টাক তার লক্ষণ সমস্ত মাথা জুড়ে। আর এই ভাবনায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন মুজতবা হাকিম সাহেব।
চুল পড়া বা টাক পড়া (Baldness) সাধারণত পারিবারিক (জেনেটিক) কারণে হয়।এছাড়া ইমিউনোলজিকাল বা কোনো ওষুধের (ক্যান্সার কেমোথেরাপি)পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসাবেও এ রোগ হতে পারে।
তরুণ বয়সে হয়ে থাকলে সাধারণত এর উৎস মূলত পারিবারিক এবং এক্ষেত্রে চুল পড়া শুরু হয় মাথার সামনের দিক থেকে এবং পরে মাথার পেছনের অংশেও হয়। যদিও পুরুষের ক্ষেত্রেই এর প্রাদুর্ভাব বেশি, তবে মহিলারাও বৃদ্ধ বয়সে পারিবারিক কারণে টাক সমস্যায় ভূগতে পারেন।
এর সাথে যদি মহিলাদের ব্রণ অথবা মাসিক- এর সমস্যা থেকে থাকে তবে গাইনি (ওভারির সিস্ট - Ovarian Cyst) অথবা এন্ডক্রাইন (Endocrine) বিশেষজ্ঞ দেখাতে হবে।
চিকিৎসা: সাধারণত এ রোগে কোনো চিকিৎসার প্রয়োজন হয়না। তবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ৫% মিনক্সিডিল লোশন অথবা ১ মিগ্রা ফিনাস্টেরাইড ট্যাবলেট সেবন করা যেতে পারে।
টাক রোগকে যারা বড় সমস্যা হিসেবে দেখেন তাদের জন্য অবশ্য হেয়ারইমপ্লান্টেশন (hair implantation) বা চুল প্রতিস্থাপন করে নেবার সুযোগ রয়েছে।
এ পদ্ধতিতে মাথার যেসব জায়গায় চুল আছে সেখান থেকে চুল নিয়ে চুল না থাকা স্থানে প্রতিস্থাপন করা হয়। এটা স্থায়ী পদ্ধতি, এর কার্যকারীতাও অনেক আর খুব বেশি যে খরচ হয় তাও কিন্ত না।
সূত্র - রাইজিং বিডি

