home top banner

Health Tip

শিশুটি কি অটিজমের আশংকা মুক্ত?
02 April,14
Tagged In:  Autistic child  child care  
  Viewed#:   135

Child-careমাত্র সপ্তাহ খানেক আগে সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল, ইউএসএ এর একটি ভয়াবহ সমীক্ষা বের হয়েছে, যাতে দেখা যাচ্ছে প্রতি ৬৮ জন বাচ্চার মধ্যে ১ জন বাচ্চা অটিজমে আক্রান্ত। অটিজম একটি স্নায়বিক ও বুদ্ধি বিকাশ গত সমস্যা যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো প্রমাণিত নয়, তবে অসংখ্য গবেষণা নির্দেশ করছে পরিবেশ দূষণ, ভেজাল খাদ্য (টক্সিক মেটাল, কীটনাশক, প্রিজারভেটিভ ইত্যাদি মেশানো), টিকা-র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, বংশগতি ইত্যাদি অটিজমের পেছনে ভুমিকা পালন করে থাকে।


কখন আপনি বুঝবেন আপনার বাচ্চার বিকাশ গত সমস্যা থাকতে পারে?
সাধারণত ১৮ মাস থেকে ২ বছর বয়সের মধ্যে মা বাবা বাচ্চার আচরণে অস্বাভাবিকতা বা সাধারণের চেয়ে ভিন্ন বলে ধরতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে, অন্য একই বয়সের বাচ্চাদের চেয়ে খেলার আগ্রহে ভিন্নতা, সামাজিক মেলামেশা যেমন কথা বলা বা ভাব প্রকাশ করার ভিন্নতা ইত্যাদি।

কিছু কিছু বাচ্চা আবার ১ থেকে ২ বছর বয়স পর্যন্ত খেলাধুলা কথা বলা সব ঠিক থাকে কিন্তু হঠাৎ করে কথা বলা ও সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করে দেয়। এটাকে বলা হয় রিগ্রেসিভ অটিজম। তবে নিচের বিষয় গুলোর ব্যত্তয় ঘটলে বা করতে না পারলে অবশ্যই আপনাকে সতর্ক হতে হবেঃ

বার মাস বয়সের মধ্যে মুখ দিয়ে বিভিন্ন শব্দ যেমন বু বু, মা মা ইত্যাদি শব্দ করা
বার মাস বয়সের মধ্যে হাত দিয়ে বিভিন্ন দিকে নির্দেশ করা, টাটা করা ইত্যাদি
ষোল মাস বয়সের মধ্যে অন্তত একটি করে অর্থবোধক শব্দ বলা
চব্বিশ মাস বয়সের মধ্যে অন্তত দুটি অর্থবোধক শব্দ একসাথে বলা
এছাড়া যে কোনো বয়সে যদি বাচ্চা কথা বলা বা সামাজিক মেলামেশা বন্ধ করে দেয়, কোনো শারীরিক মুভমেন্ট বার বার করে, চোখে চোখ রেখে ভাব বিনিময় না করে, তাহলে সাথে সাথে বাচ্চাকে বিশেষজ্ঞের কাছে নিয়ে যেতে হবে।

 
যদি বাচ্চার মধ্যে অস্বাভাবিকতা আশংকা করেন, তাহলে যা করবেন:
যদি বাচ্চার বয়স ১৮ মাস এর বেশি এবং ৩ (তিন) বছরের কম হয়, তাহলে তাকে প্রথমে অটিজম হবার সম্ভাব্যতা নিরূপণ করতে হবে। এজন্য বিভিন্ন অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করা হয়, এবং অটিজম হবার সম্ভাব্যতা থাকলে সেই অনুযায়ী আর্লি ইন্টারভেনসন প্রোগ্রাম ডেভেলপ করা হয় যাতে বাচ্চার অটিস্টিক আচরণ প্রকাশ পেতে বাধা পায় এবং তার স্নায়বিক বিকাশ ঠিক মত হয়।

যদি বাচ্চার বয়স ৩ (তিন) বছরের বেশি হয়, তাহলে তার অটিজম আছে কিনা বা থাকলে তার মাত্রা কত তা নিরূপণ করতে হয়। এর জন্য ও আলাদা অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করা হয় এবং অটিজম এর মাত্রা অনুযায়ী বাচ্চার জন্য ইন্টারভেনসন প্রোগ্রাম ডেভেলপ করা হয়।
 
 
কি ধরনের  ইন্টারভেনসন প্রয়োজন হয়?
এ ধরনের বাচ্চার জন্য অনেক ধরনের সেবার প্রয়োজন হয়। তার মধ্যে ‘সেন্সরি ইন্ট্রিগেসন’ অন্যতম। এই সেবা পেতে ‘সেন্সরি ইন্ট্রিগেসন’ এ দক্ষ একজন অকুপেশনাল থেরাপিস্টের শরণাপন্ন হতে হবে। বাচ্চার যদি কথা বলতে সমস্যা থাকে তবে তাকে অটিজম বিষয়ে দক্ষ একজন স্পিচ থেরাপিস্টের কাছে যেতে হবে।

বাচ্চার শরীরে অনেক সময় ফ্রি-রেডিকেল, টক্সিক মেটাল (লেড, মার্কারি ইত্যাদি) এর আধিক্য দেখা যায় এবং যার ফলে বাচ্চার মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। এধরনের ক্ষেত্রে বায়ো-মেডিক্যাল চিকিৎসা নিয়ে অনেক অটিস্টিক বাচ্চার প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। অনেক বাচ্চার জন্য সাইকো থেরাপি, বিহেভিয়ার মডিফিকেসন ইত্যাদি প্রয়োজন পড়ে।

অনেক বাচ্চার জন্য বিশেষ স্কুল এর প্রয়োজন হয়। তবে অটিজমের জন্য দেশে মান সম্পন্ন বিশেষ স্কুলের সংখ্যা এখনো হাতে গোনা।

 
কোথায় পাবেন এ সকল সেবা?
আমাদের দেশে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মী দের মধ্যে অটিজম ও অন্যান্য নিউরো-ডেভলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণার অভাব আছে।

এখন বিভিন্ন জেলা সদর ও বিভাগীয় হাসপাতালে সরকার শিশু বিকাশ কেন্দ্র চালু করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা শিশু হাসপাতালে অটিস্টিক বাচ্চাদের জন্য একটি করে সেন্টার রয়েছে।

এছাড়াও একমাত্র ‘ইন্সটিটিউট অব নিউরো-দেভলপমেন্ট এন্ড রিসার্চ’ এ উপরোক্ত সকল সেবা একই ছাদের নিচে পাওয়া যায়।

ডাঃ ওসমান গনি
এম এস সি (নিউর-রিহ্যাব, ইউ কে)
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক
ইন্সটিটিউট অব নিউরো-দেভলপমেন্ট এন্ড রিসার্চ
৫২/১, ৭ম ফ্লোর, নিউ ইস্কাটন রোড, বাংলা মোটর, ঢাকা ১০০০।
+৮৮ ০১৯৩ ১৪০৫৯৮৬

সূত্র - বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: গরমে ফিট থাকতে লিক্যুইড ডায়েট
Previous Health Tips: কোমর ব্যথা দূর করার ৮ টিপস

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')