রুটিনের ফাঁদ এড়িয়ে চলুন
07 January,14
Viewed#: 172
শিশুর জন্য রুটিন গুরুত্বপূর্ণ। তারা দৈনন্দিন জীবনের বেশীর ভাগ কাজই অনুমানের উপর করে। যাদের প্রতিদিন প্রচুর বিষয় স্মরণে রাখতে হয় এবং যে সব ছেলেরা প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হয় তাদের জন্য এটি বেশ প্রয়োজনীয়। কিছু শিশু রুটিনের উপর অন্য শিশুদের চেয়ে খুব বেশী নির্ভরশীল হয়ে থাকে। ADHD বা Asperger’s syndrome এ আক্রান্ত শিশুদের জন্য নিয়ম কানুন এবং রুটিন, সামাজিক পরিস্থিতিতে তাদেরকে সফল হতে সাহায্য করে। তারা হইচই এবং অনিশ্চিত পরিস্থিতির মধ্যে উন্নতি করতে পারে না। এধরণের শিশুদের জন্য সাধারণ ব্যাপার হল জীবন সহজ সরল ভাবে যাপন করা।
সকল শিশুরাই যে কেবল রুটিন পছন্দ করে থাকে তা নয়। কিছু শিশু যারা স্কুল চলাকালীন বেশ ভাল করে থাকে তাদের স্কুল বন্ধ এবং সাপ্তাহিক ছুটির সময় পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে চলতে বেশ কষ্ট হয়। বেশীর ভাগ শিশুই যখন স্কুল ছুটির সাথে সাথে উল্লাস করে স্কুলগেটের দিকে দৌড়ে বের হতে যায়, তখন কিছু শিশু তেমন একটা খুশি হয় না কারণ তারা জানে যে তারা তাদের শিক্ষকদের পরিচিত মুখ গুলি দেখতে পাবে না, এবং স্কুল জীবন শুরু হলে তারা আবার আশ্বস্ত হয়।
এ সকল রুটিন প্রিয়দের জন্য স্কুলের ঘণ্টা ধ্বনি এবং সময়সূচী স্বস্তি এনে দেয় কারণ তারা এর মাধ্যমে জীবন থেকে অনিশ্চয়তা সরিয়ে দিতে পারে। স্কুল বন্ধের ছুটির সময় তাদের বিভিন্ন মজার কার্যকলাপের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে কয়েকদিন সময় লাগে। এধরণের রুটিন প্রেমিরা প্রায় সময়েই স্বতঃস্ফূর্ত দলগত কার্যক্রম থেকে দূরে সরে থাকে, তাদের কিছু পছন্দের জায়গায় ভিড়ের মধ্যে বসে থাকতে পছন্দ করে। তারা পিতামাতার কাছে তেমন কোন ধরণের বায়না ধরে না, যেমন সকলে মিলে সিনেমা দেখতে যাওয়া, তবে তারা সে সময় সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু টিভি প্রোগ্রাম বা নির্দিষ্ট কিছু খেলা নিয়ে পরে থাকে।
এসকল শিশুরা যা খেতে চায় তা কেবল খাবারই নয়, এর সাথে তারা নিশ্চয়তা এবং নিয়ন্ত্রণও চেয়ে থাকে। আপনার যদি এমন ধরণের কোনও শিশু থাকে তবে ছুটির দিন গুলিতে তাকে একটি নমনীয় পরিবেশে আরও বেশী আনন্দময় এবং বৈচিত্র্যময় সময়
উপভোগ করতে উৎসাহিত করুন। এসকল শিশুরা দেখতে বেশ ভাল কিন্তু ধারাবাহিকতা না পেলে তারা ভেতরে ভেতরে অদ্ভুত অনুভূতি বোধ করতে পারে।
আপনার যদি রুটিনে আসক্ত এমন ধরণের শিশু থাকে তবে নীচের টিপস গুলি বিবেচনা করতে পারেনঃ
১. তথ্য ভিত্তিক ভাবে শিশুদের গড়ে তোলুন । তাদের সাথে নিয়ে সামনের সম্ভাব্য দিনগুলি সম্পর্কে প্রতিদিন সকালে ছক কাটুন যাতে তারা জানতে পারে সামনে কি আসছে এবং সে অনুযায়ী তারা পরিকল্পনা করতে পারে।
২. কিছু কিছু কার্যক্রম একই রকম রাখুন। যদি তারা সর্বদা নাস্তা খেয়ে স্কুলে যাওয়ার পোশাক পরার পূর্বে দাঁত মেজে থাকে, তবে ছুটির দিনও সে যেন তা বজায় রাখে সেটা নিশ্চিত করুন। এ ধরণের কার্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা তাকে নিয়ন্ত্রিত বোধ করতে সাহায্য করে।
৩. এটা আশা করবেন না যে সে সব সময়ই পরিবারের নিয়ম পালন করবে। জীবন যখন ব্যস্ত সময় অতিক্রম করে তখন রুটিনে আসক্তরা নিশ্চিন্তে চলতে পারেন, সুতরাং তাদেরকে অবশ্যই কিছুটা অবকাশ দিন।
আপনি এমনকি নিজেকেও এখানে সংযুক্ত করতে পারেন। বেশীর ভাগ মানুষই নিশ্চয়তা কামনা করে। আমরা যা কামনা করি তা হল পরিবর্তন। এজন্য ছুটির সময় আমাদের বেশীর ভাগ মানুষই অনমনীয় দৈনিক রুটিনের পরিবর্তে আরও বেশী নমনীয়, শিথিল শিডিউল গ্রহণ করে থাকেন। আমরা হয়ত একটু পিছে হটে আমাদের যা করনীয় তা করে যেতে পারি, কিন্তু আমাদের তা প্রতিদিনই একই সময়ে নিয়মিত ভাবে করে যাওয়া উচিত।