home top banner

খবর

ওষুধের দোকানে ধর্মঘটে মানুষের চরম দুর্ভোগ
০৪ অক্টোবর, ১৩
Tagged In:  strike  strike in pharmacies   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   46

বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির (বিসিডিএস) আহ্বানে ওষুধের দোকানে ধর্মঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার সারা দিন ঢাকা, চট্টগ্রামসহ সারা দেশের রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। রাত ১০টা পর্যন্ত এই ধর্মঘট ডাকা হলেও ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠকের পর সন্ধ্যায় ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় বিসিডিএস।
সে অনুযায়ী সন্ধ্যা ছয়টার পর ওষুধের দোকান খুলেছে। তবে রাজধানীতে ওষুধের পাইকারি বাজার মিটফোর্ড রোডের দোকানগুলো স্বাভাবিক সময়ে সন্ধ্যায় বন্ধ হয়ে যায় বলে সেগুলো আর খোলেনি। কারাদণ্ড পাওয়া ওষুধ ব্যবসায়ীদের মুক্তি, বৈধ ও অবৈধ ওষুধের তালিকা প্রকাশসহ আট দফা দাবিতে গতকাল সকাল থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বিসিডিএস সারা দেশে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি দিয়েছিল।
বিকেলে বিসিডিএসের সভাপতি মো. সাদেকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, মতিঝিলে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে বিসিডিএসের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে অধিদপ্তর আট দফা দাবি মেনে নেওয়ায় তাঁরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন। রাজধানীসহ সারা দেশের ওষুধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সন্ধ্যা ছয়টায় সব দোকান খুলতে বলা হয়েছে।
গতকাল সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত রাজধানীর মিটফোর্ড রোড, শেরেবাংলা নগরের নয়টি হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, সব ওষুধের দোকান বন্ধ। অনেক স্থানে ওষুধ ব্যবসায়ীদের বন্ধ দোকানের সামনে অবস্থান করতে দেখা যায়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-২-এর উদ্বোধন উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনের কারণে ওই এলাকায় সকাল নয়টা থেকে এক ঘণ্টা ওষুধের দোকান খোলা রেখেছিলেন ব্যবসায়ীরা।

ওষুধ ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটে দুর্ভোগ পোহান ভুক্তভোগী মানুষ। কয়েকজন ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, জরুরি বলে ওষুধের দোকান হরতালের আওতামুক্ত রাখা হয়, অথচ সেই ওষুধের দোকানই গতকাল বন্ধ রইল।

দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের প্রধান ফটকে সুফিয়া ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর সন্তানসম্ভবা বোন রিপা আক্তারের সিজার হওয়ার কথা ছিল। চিকিৎসক এ জন্য ওষুধ ও চিকিৎসা উপকরণের নাম লিখে দেন। হাসপাতালে সরবরাহ না থাকায় তিনি ওই ওষুধ ও উপকরণ কেনার জন্য হাসপাতালের আশপাশসহ চানখাঁরপুল পর্যন্ত গিয়েও ওষুধের কোনো দোকান খোলা পাননি। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওষুধের দোকান বন্ধ থাকায় তাঁর বোনের সিজার হলো না।

বাদশা মণ্ডল নামের একজন বলেন, তাঁর সাত বছর বয়সী ছেলে ক্যানসারে আক্রান্ত মুশফিকুর রহমান ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। ১৫ দিন পর পর তার জন্য চার হাজার টাকার লাগে। গতকাল ডোজ দেওয়ার নির্ধারিত তারিখ ছিল। কিন্তু হাসপাতালে ওষুধ পাওয়া যায়নি। টাঙ্গাইল থেকে আসা বাদশা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমি গরিব কৃষক। বহু কষ্টে টাকা জোগাড় করলেও ওষুধ কিনতে পারলাম না। ওষুধ দিতে না পারায় ছেলের আবার না ক্ষতি হয়।’ এমন দুর্ভোগের কথা জানান ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর স্বজন সোলায়মান মিয়া, বকুল সাহা, সাবিহা বেগমসহ আরও অনেকে।

শেরেবাংলা নগরে জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের উল্টো পাশের কয়েকটি দোকানজুড়ে থাকা ব্যানারে লেখা ছিল, ‘নকল, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমোদনবিহীন ওষুধ ক্রয়-বিক্রয়কে সর্ব অবস্থায় না বলুন।’ জাতীয় হূদরোগ ইনস্টিটিউট পরিচালিত একটি ওষুধের দোকান ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চত্বরে আরেকটি দোকান খোলা ছিল। সেখান থেকে মানুষ রোগীদের জন্য ওষুধ কিনেছেন।

এদিকে বিসিডিএসের পক্ষ থেকে মিটফোর্ড রোডে তিনটি ওষুধের দোকান খোলা রাখা হয়। সারা দিনই এসব দোকানে ছিল ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ক্রেতাদের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও বাদানুবাদও হয়। একটি দোকানের সামনে নাসরিন জাহান নামের একজন বলেন, ‘এত বড় এলাকায় মাত্র তিনটি দোকান খোলা। ভিড়ের কারণে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ স্বজনের জন্য ওষুধ কিনতে পারিনি।’

গত শনিবার মিটফোর্ড এলাকার নয়টি ওষুধের মার্কেটে নকল, ভেজাল, মেয়াদোত্তীর্ণ ও অনুমতি ছাড়া আমদানি করা ওষুধ, সন্ধিসুধা এবং খাদ্য সম্পূরক বিক্রির অভিযোগে ১০৩ জন ব্যবসায়ীকে আটক করেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। তাঁদের মধ্যে ২০ জনকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ৮৩ জনের কাছ থেকে সোয়া কোটি টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রী জব্দ এবং ২৮টি ওষুধের দোকান ও গুদাম সিলগালা করা হয়। এর প্রতিবাদে রোববার ওষুধ ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন। সোমবার বিসিডিএস গতকাল সারা দেশে ওষুধের দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি দেয়।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: ফুকুশিমা থেকে ফের তেজস্ক্রিয় পানির নিঃসরণ
Previous Health News: হাঁটাহাঁটি স্তনক্যানসারের ঝুঁকি কমায়

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')