home top banner

খবর

হূদেরাগ প্রতিরোধে সচেতনতা
২৯ সেপ্টেম্বর, ১৩
Tagged In:  heart news  health news   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   50

বিভিন্ন গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে হূদেরাগ বিশ্বের এক নম্বর মরণব্যাধি। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি ১০ জনে একজনের হূদেরাগের সমস্যা রয়েছে। কোনো রকমের পূর্বাভাস ছাড়াই এ রোগ কেড়ে নিতে পারে আপনার জীবন। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হূদেরাগের প্রবণতা বেড়ে যায়। যদিও উন্নত বিশ্বে হূদেরাগজনিত মৃত্যুর সংখ্যা কমে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের দেশগুলোতে হূদেরাগজনিত মৃত্যু দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। হার্ট অ্যাটাক, অ্যানজাইনা, উচ্চ রক্তচাপ, এথারোস্ক্লেরোসিসসহ বিভিন্ন ধরনের হূদেরাগের আশঙ্কা রয়েছে। অ্যানজাইনা হলে হূৎপিণ্ডের স্থায়ী ক্ষতি হয় না—অক্সিজেনের অভাব হয় ক্ষণস্থায়ী। বিশ্রাম নিলে বা ওষুধ খেলে ব্যথা কমে যায়। কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হলে অক্সিজেনের অভাব হয় অনেক সময়ের জন্য। ওষুধ বা বিশ্রামে ব্যথার উপশম খুব একটা হয় না। হূৎপিণ্ডের ক্ষতি হয় স্থায়ীভাবে। হার্ট অ্যাটাকের মূল কারণ হলো এথারোস্ক্লেরোসিস। অতিরিক্ত ধূমপান, শুয়ে-বসে সময় কাটানো, শরীরচর্চাহীন জীবন, চর্বিযুক্ত খাবারের ফলে ধমনিগাত্রে চর্বি, কোলেস্টেরল এবং অন্যান্য জৈব পদার্থ মোমের মতো জমা হতে থাকে, যাকে বলা হয় ‘প্লেক’। মোমের মতো চর্বি ধমনিগাত্রে জমা হওয়ায় ধমনিগুলো সরু হতে থাকে। এই প্রক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক নাম এথেরোস্ক্লেরোসিস। সরু ধমনিতে রক্তের ক্লট ধমনিপথকে পুরোপুরি বন্ধ করে দিলেই ঘটে হার্ট অ্যাটাক।
১. উচ্চ রক্তচাপের ফলেও হার্টসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নানা ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। বাংলাদেশে প্রায় শতকরা ২০ ভাগ প্রাপ্ত বয়স্ক এবং শতকরা ৪০-৬৫ ভাগ বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপে ভুগে থাকেন। এ সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। সিস্টলিক এবং ডায়াস্টলিক রক্তচাপ ১৪০/৯০ মি.মি. মারকারির চেয়ে বেশি হলেই আমরা উচ্চ রক্তচাপ বলে থাকি। হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপ এমন একটি অসুখ, যা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি বিকল হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আক্রান্ত হতে পারে। কোনো কিছু বোঝার আগেই হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের মতো অপ্রত্যাশিত পরিণতি ডেকে আনতে পারে। এ জন্য উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময় ‘নীরব ঘাতক’ বলে আখ্যায়িত করা হয়।
২. ব্যায়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। ব্যায়াম কেবল রক্তচাপই কমায় না, উপকারী কোলেস্টেরল এইচডিএলের পরিমাণ বাড়ায়, ক্ষতিকর কোলেস্টেরল এলডিএলের পরিমাণ কমায়, ওজন কমায়, মানসিক চাপ দূর করতে সহায়তা করে এবং হূদেরাগের ঝুঁকি কমায়। রসুন, কলমিশাক, ফুলকপি, বাঁধাকপি, মটরশুঁটি, শসা, গোলাপজাম, আপেল, কমলা, কলা, আনারস ইত্যাদি রক্তচাপ কমাতে সহায়তা করে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত ওষুধ ব্যবহার একেবারেই সমীচীন নয়। সব ওষুধ সবার ক্ষেত্রে একভাবে কাজ করে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ব্যতীত নিজে নিজে চিকিৎসার পথ বেছে নিলে বিপদ হতে পারে।
৩. নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাস আমাদের বিভিন্ন ধরনের হূদেরাগ প্রতিরোধে সাহায্য করে। কম চর্বিযুক্ত খাবার খেলে ১৫% থেকে ৩৭% কোলেস্টেরল কমানো সম্ভব হতে পারে। চিংড়ি, গরুর মাংস, মহিষের মাংস, ছাগলের মাংস, দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য ক্ষতিকর এলডিএল পরিমাণ বাড়ায়। প্রচুর পরিমাণ আঁশযুক্ত খাবার ও বাদামজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করে রক্তে উপকারী এইচডিএল বাড়ানো সম্ভব। বেশি করে শাকসবজি ও মৌসুমি ফল খাওয়া বাঞ্ছনীয়।
৪. ধূমপান, টেনশন ইত্যাদি উচ্চ রক্তচাপ বাড়ানোর নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। এ ক্ষেত্রে ধূমপান পরিত্যাগ করা অত্যাবশ্যক। টেনশন উচ্চ রক্তচাপ ছাড়াও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগের জন্মদাতা। তাই টেনশন পরিহার করুন। সবশেষে বলব, হাসুন, বেশি করে হাসুন। একটু হাসিখুশি, দুশ্চিন্তামুক্ত ও উচ্ছ্বসিত থাকলে অনেক রোগ থেকেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব। হাসিতে রয়েছে হরেক রকমের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক উপকারিতা এবং পুরো ব্যাপারটির রয়েছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা। কর্টিসল, এডরিনালিন, ডোপামিন, গ্রোথ হরমোনের পরিমাণ কমে যাওয়ার ফলে মানসিক চাপ, অশান্তি ও যেকোনো কষ্টকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হাসি সহযোগিতা করে, শরীরে রক্তের প্রবাহ ও অক্সিজেনের পরিমাণ বাড়িয়ে রক্তের চাপ কমায়, ফলে অনেক রকমের হূদেরাগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায় সহজেই।
হূদেরাগ বর্তমানে আমাদের দেশের বড় সমস্যা। সুস্থ দেহ ও সুস্থ মন বিকাশে এবং হূদেরাগ থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রয়োজন নিজে সচেতন হওয়া ও অপরকে সচেতন হতে উদ্বুদ্ধ করা।

সূত্র - প্রথম আলো

 

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা চাই আত্মবিশ্বাস
Previous Health News: শুরু হয়েছে পশু মোটাতাজাকরণ

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')