ফটিকছড়ির বিভিন্ন স্থানে ভাইরাস জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এক সপ্তাহ ধরে এই অবস্থা চলছে। প্রতিদিন হাজারো রোগী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
চিকিৎসকেরা জানান, উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও সদর পৌরসভার প্রতিটি গ্রামের প্রায় ঘরে ভাইরাস জ্বর, সর্দি-কাশি ও ডায়রিয়া আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে বৃদ্ধ ও শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বেশি।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রায় তিন শ রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সেবার অপেক্ষায় আছেন। এর মধ্যে ভাইরাস জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত পুরুষ ৫৫, মহিলা ১২৩ ও শিশু ১১০ জন। এ ছাড়া ৩১ শয্যার হাসপাতালের অন্তর্বিভাগে ওই দিন ভর্তি রয়েছেন ৪৬ জন। এদের সবাই জ্বর, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগী।
সেবিকা নাজমা আকতার বলেন, ‘দিন যত বাড়ছে রোগীর চাপ তত বাড়ছে। এক সপ্তাহ ধরে গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে। ফলে সেবা দিতে আমাদের হিমশিম খেতে হয়।’
শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা নিয়ে হাতপাতালে ভর্তি সাড়ে চার বছরের শিশু রিসাতের মা রোখসানা আকতার (৩৮) জানান, গরমের সঙ্গে চলছে লোডশেডিং। ঘরে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত গরমে ঘেমে বাচ্চার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে।
নারায়ণহাট গ্রামের বাসিন্দা আবদুল খালেক জানান, গত সপ্তাহে তিনি ও তাঁর স্ত্রীসহ পরিবারের পাঁচ সদস্যের ভাইরাস জ্বরে এক সপ্তাহ পর্যন্ত কষ্ট পেয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ এইচ এস রাশেদুল আলম বলেন, এ সময়টা সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছে শিশুরা। কারণ ভ্যাপসা গরমে শিশুদের সমস্যা হয় বেশি। এ জন্য মায়েদের সতর্ক থাকতে হবে। বাসি খাবার বাচ্চাকে খাওয়ানো যাবে না।
চিকিৎসক জয়নাল আবেদিন মুহুরী বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় এ ধরনের রোগ দেখা দেয়। ভাইরাস জ্বরের পাশাপাশি সর্দি, কাশি ও গলা ব্যথা হয়। তবে এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। পাঁচ-সাত দিনের মধ্যে জ্বর সেরে যায়।
সূত্র - প্রথম আলো

