প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর উত্তরায় আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের উদ্বোধন করেছেন। প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি বলেছেন, দেশের বৃহত্তম ক্যানসার হাসপাতাল উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ক্যানসার চিকিৎসার নব দিগন্তের সূচনা হলো।
জনগণের অর্থে নির্মিত এ প্রতিষ্ঠানকে জনগণের সেবায় উৎসর্গ করার জন্য আহ্ছানিয়া মিশন কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করব, সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ক্যানসার রোগীরা যাতে অতি সহজে ও কম খরচে এখানে চিকিৎসার সুযোগ পায় সেদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সার্বক্ষণিক দৃষ্টি রাখবে।’ খবর বাসসের।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী, সাবেক মন্ত্রী সাহারা খাতুন এবং ঢাকা আহছানিয়া মিশনের উপদেষ্টা ও আহছানিয়া মিশন ক্যানসার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার রফিক-উল হক। আহছানিয়া মিশনের সভাপতি কাজী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা করেন মিশনের উপদেষ্টা সৈয়দা দীনা হক।
শেখ হাসিনা এ হাসপাতালকে একটি অত্যাধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। প্রতিষ্ঠানটি তৈরি করতে যাঁরা অর্থ সাহায্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তাঁদের ধন্যবাদ জানান। তিনি উদ্বোধন ঘোষণার পর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।
অনুষ্ঠানে হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ১৫ কোটি টাকা ও আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ১০ লাখ টাকার চেক প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করে।
তুরাগ নদীর তীরে সাড়ে ছয় বিঘা জমির ওপর নির্মিত ১৫ তলাবিশিষ্ট এ হাসপাতালটি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মাত্র পাঁচ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। ১৯৯৭ সালে আওয়ামী লীগ সরকার হাসপাতালের জন্য এ জমি বরাদ্দ দেয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দরিদ্রদের ৩০ শতাংশ ছাড়ে ও অতি দরিদ্রদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা দেওয়া হবে। দরিদ্ররা যেন বিনা মূল্যে বা ভর্তুকি দিয়ে চিকিৎসা সেবা পেতে পারে সে জন্য আহ্ছানিয়া মিশন ইতিমধ্যে একটি তহবিল গঠন করেছে।
সূত্র - প্রথম আলো

