চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজকে (চমেক) বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দেওয়ার পর চট্টগ্রামে চিকিৎসক ও কর্মচারীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন। কর্মচারীরা এর বিরোধিতা করে এবং চিকিৎসকেরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে গতকাল রোববার সকালে ক্যাম্পাসে মিছিল-সমাবেশ করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় করার উদ্যোগ বন্ধের দাবিতে কর্মচারী ঐক্য পরিষদ আজ সোমবার তিন ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল সকালে প্রথমে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা চমেক ক্যাম্পাসে মিছিল বের করেন। সেবিকা ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বেশির ভাগই না থাকার কারণে এ সময় রোগীদের নানা দুর্ভোগে পড়তে হয়।
কর্মচারী সমন্বয় সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের ব্যানারে আয়োজিত মিছিলটি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণের একপর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসকেরাও পাল্টা মিছিল বের করেন। চিকিৎসকেরা এ সময় মিছিল নিয়ে গোলচত্বরে জড়ো হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে কর্মচারীরা তাঁদের কর্মসূচি শেষ করে দেন।
এর আগে শনিবার কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরোধিতা করে মিছিল বের করেন। পরে গোলচত্বরে চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিক একটি সমাবেশ করেন। এতে বক্তারা বলেন, যখন মন্ত্রী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করার ঘোষণা দিয়েছেন, তখন নতুন করে এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বিএনপি-জামায়াত সুকৌশলে কর্মচারীদের ভুল বুঝিয়ে এই ষড়যন্ত্র করছে। এতে বক্তব্য দেন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক ইমরান বিন ইউনূস, বিএমএর সভাপতি মুজিবুল হক খান, বিএমএর নেতা নাছির উদ্দিন মাহমুদ, ফয়সাল ইকবাল প্রমুখ।
এদিকে কর্মচারী সমন্বয় সংগ্রাম ঐক্য পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ডিপ্লোমা নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রতন কুমার নাথ জানান, বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১০টা থেকে বেলা একটা পর্যন্ত চমেক হাসপাতালের কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করবেন। তবে রোগীদের সুবিধার্থে জরুরি বিভাগ এবং বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডে তাঁরা সেবা দেবেন।
কর্মচারীদের দাবি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় করা হলে লোকজন বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হবেন। এ ছাড়া এই ঘোষণা বাস্তবায়ন হলে চমেকের কর্মচারীরা রাজস্ব খাত থেকে স্বায়ত্তশাসিত কর্মচারীতে পরিণত হবেন। এতে করে সুযোগ-সুবিধা কমে যাবে।
সূত্র - প্রথম আলো

