খাগড়াছড়ি পৌর এলাকার সবুজবাগ ও শহরতলির হাদকপাড়ায় পানির সমস্যা দীর্ঘদিনের। ব্যক্তি উদ্যোগে কিছু লোক বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করলেও এলাকার অধিকাংশ পরিবারই বছরের পর বছর পানির কষ্টে ভুগছিল। টিলার ওপর অবস্থিত বাড়িঘরগুলোতে মাথায় করে কলসিভর্তি পানি নিতে হতো সমতল থেকে।
দুর্ভোগের সেই চিত্র এখন আর নেই। কম খরচের দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় দেড় শ পরিবারে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসন। বর্তমানে প্রতিটি পরিবার মাসে ১০০ টাকা দিয়ে পানি সরবরাহ পাচ্ছে ওই প্রকল্প থেকে।
পরীক্ষামূলকভাবে এ প্রকল্প হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের অর্থায়নে প্রকল্পের নকশা ও পরিকল্পনা প্রণয়নে সহায়তা করেন খাগড়াছড়ির পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মহব্বত উল্লাহ।
সুবিধাভোগীদের নিয়ে গঠিত একটি পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে প্রকল্পটি পরিচালিত হবে। সুবিধাভোগীদের বিলের টাকা দিয়ে মেটানো হবে প্রকল্পের পরিচালনা খরচ।
সম্প্রতি সরেজমিন দেখা যায়, সবুজবাগ ও হাদকপাড়ায় টিলার ওপর পাঁচ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন প্লাস্টিকের দুটি পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। নিচে বসানো হয়েছে গভীর নলকূপ। এই নলকূপ থেকে নল দিয়ে ট্যাংকে পানি জমা করে সুবিধামতো গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়।
সবুজবাগ এলাকায় পানি সরবরাহব্যবস্থা তত্ত্বাবধান করেন গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের উদ্যোগের ফলে আমরা শতাধিক পরিবার পানির কষ্ট থেকে রক্ষা পেয়েছি। আমাদের স্বার্থেই আমরা পানির পাম্প, ট্যাংক ও সরবরাহ লাইন রক্ষণাবেক্ষণ করছি। গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া বিলের টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ বিল ও আনুষঙ্গিক খরচ মেটাচ্ছি।’ গত ৫ সেপ্টেম্বর প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ।
খাগড়াছড়ি শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে দীঘিনালা সড়কের পাশে ত্রিপুরা আদিবাসী-অধ্যুষিত হাদকপাড়ার ৩০টি পরিবার পানির সুবিধা ভোগ করছে। প্রকল্পের তত্ত্বাবধান করেন বিপ্লব ত্রিপুরা। তিনি জানান, বর্তমানে ৩০টি পরিবার পানির সংযোগ নিয়েছে। আরও ১০টি পরিবার সংযোগ নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে। এই প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা।
জেলা প্রশাসক মাসুদ করিম বলেন, ‘বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের সময় লোকজন আমাকে তাঁদের পানির সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের দুর্ভোগের কথা ভেবে পাহাড়ি কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দুটি প্রকল্প হাতে নিই। এতে সংশ্লিষ্ট এলাকার লোকজনের পানি সমস্যার অনেকটা লাঘব হয়েছে।’ জেলা প্রশাসক জানান, প্রতিটি প্রকল্পে আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সুবিধাভোগী ব্যক্তিদের আগ্রহের কথা বিবেচনা করে এ ধরনের আরও প্রকল্প হাতে নেওয়া হবে।
জানা গেছে, এলাকার অনেকে এখনো পানির সংযোগ নেননি। শুরু থেকে একজন করে প্রকল্প তত্ত্বাবধায়ক মনোনয়ন করা হলেও পরিচালনা কমিটি গঠন এখনো হয়নি।
সূত্র - প্রথম আলো

