উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের সুপেয় পানির সংকট দূর করার উপায় উদ্ভাবন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিজ্ঞানী। সূর্যের তাপের সাহায্যে সমুদ্রের লোনা পানিকে পানযোগ্য করার উপায় উদ্ভাবন করেছেন তাঁরা। সহজ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে একটি পরিবার দিনে আড়াই লিটার পরিমাণ পানি সংগ্রহ করতে পারবে। এই পানিশোধন যন্ত্র তৈরিতে খরচ পড়বে মাত্র এক হাজার ২০০ টাকা।
সূর্যের তাপের সাহায্যে সমুদ্রের লোনা পানিকে পানযোগ্য করার উপায় উদ্ভাবন করেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই বিজ্ঞানীএই দুই বিজ্ঞানী হলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমুদ্র ও মাৎস্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক শেখ আফতাব উদ্দিন ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী মো. মুহিবুল ইসলাম। এই আবিষ্কারের ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের গরিব মানুষ অল্প খরচে সুপেয় পানি পাবে বলে তাঁরা জানান।
আফতাব উদ্দিন বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি চিংড়ি ও লবণশিল্পের প্রসারের কারণে সমুদ্রের লোনা পানি প্রবেশ করছে উপকূলীয় এলাকার গভীরে। ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের অগভীর নলকূপগুলোর পানি লোনা হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে কক্সবাজার, সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাট জেলার প্রায় ৩৫টি উপজেলায় এখন সুপেয় পানির অভাব দেখা দিয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আমরা সমুদ্রের পানিকে পানযোগ্য করার কাজে গবেষণা করি। এতে আমরা সফল হয়েছি।’
গবেষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সমুদ্রের পানিকে সুপেয় পানিতে পরিণত করার জন্য তাঁরা ইস্পাতের তৈরি একটি পাত্র (ট্রে) ব্যবহার করেন, যা লম্বায় তিন ফুট, প্রস্থে দুই ফুট এবং চার থেকে পাঁচ ইঞ্চি পুরু। এর ওপরে থাকে বায়ুরোধী কাচের ঢাকনা। ইস্পাতের এই পাত্রের সঙ্গে একটি নল সংযুক্ত থাকে, যা দিয়ে বিশুদ্ধ পানি ধারকপাত্রে গিয়ে জমা হয়।
লোনা পানিতে পূর্ণ পাত্রটি প্রথমে সূর্যালোকে রাখা হয়। এরপর সূর্যের তাপে পানি বাষ্পে পরিণত হয়ে ধারকপাত্রে পাত্রে জমা হয়। এভাবে প্রাপ্ত পানি সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ এবং জীবাণুমুক্ত। তবে ইস্পাতের পাত্রে সমুদ্রের পানি দেওয়ার আগে বালি ও পাথরের ফিল্টারযন্ত্রে ছেঁকে নেওয়া হয়।
গবেষকেরা জানান, লোনা পানি থেকে সুপেয় পানি তৈরিতে খরচ পড়বে মাত্র এক হাজার ২০০ টাকা, যা কমপক্ষে ১০ বছর ব্যবহার করা সম্ভব। সূর্যের উপস্থিতি ও তাপমাত্রা ভেদে দিনে আড়াই লিটার পর্যন্ত পানি পাওয়া সম্ভব, যা উপকূলীয় অঞ্চলের একটি পরিবারের পানির চাহিদা মেটাবে। যথাযথ আর্থিক সহযোগিতা পেলে বাণিজ্যিকভাবে পানি শোধন করা সম্ভব বলে জানান শেখ আফতাব উদ্দীন।
সূত্র - প্রথম আলো

