এক সময় প্রবাদ ছিলো ক্যান্সার হলে আর রক্ষা নেই। এমনকি ক্যান্সার নির্ণয়ের আধুনিক ব্যবস্থাও তেমন একটা ছিলো না। ক্যান্সারকে বলা হতো নীরব ঘাতক ব্যাধি। কিন্তু মহান আল্লাহ তালার অশেষ রহমতে মানুষ এখন ক্যান্সার জয়ের সাফল্যে অনেক দূর অগ্রসর হয়েছে। ক্যান্সার নির্ণয়, চিকিত্সা ও প্রতিরোধে ব্যবহূত হচ্ছে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেডিকেশন। ক্যান্সার জয়ে শতভাগ সাফল্য হয়ত আসেনি। কিন্তু মানুষ এখন ক্যান্সার নিয়ে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে পারেন। অনেক ক্যান্সারের ক্ষেত্রে আধুনিক চিকিত্সা ও অপারেশনের মাধ্যমে ক্যান্সার সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব হচ্ছে। আর প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সনাক্ত করা গেলে বহু ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন অভিমত বিশেষজ্ঞদের।
প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে আমাদের দেশে মহিলাদের মধ্যে জরায়ুর ক্যান্সার ও স্তনের ক্যান্সার সবচেয়ে বেশী হয়। আর পুরুষদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার, মুখের ক্যান্সার, অন্ত্রনালীর ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার ও প্রোস্টেট ক্যান্সার সবচেয়ে বেশী হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে ক্যান্সারের বিভিন্ন লক্ষণ ও উপসর্গ আছে। তন্মধ্যে-স্তনে বা শরীরের কোথাও কোন চাকা বা পিন্ড দেখা দিলে, শরীরের যেকোন বহি:নির্গমনের পথ দিয়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে, অনেক দিন যাবত খুশখুশে কাশি বা ভাঙ্গা কণ্ঠস্বর হলে, গিলতে অসুবিধা বা হজমের গন্ডগোল হলে, সহজে সারছে না এমন কোন ক্ষত হলে, মল ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন হলে, শরীরের যে কোন তিল বা আচিলের সুস্পষ্ট পরিবর্তন দেখা দিলে
উপরের এসব লক্ষণ ক্যান্সারের প্রাথমিক বিপদ সংকেত। তবে মনে রাখতে হবে অনেক ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কোন ধরনের লক্ষণ বা উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তাই বয়স ৫০ এর কাছা কাছি আসলে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী অবশ্যই প্রয়োজনীয় চেকআপ করানো উচিত।
ক্যান্সার প্রতিরোধে করণীয়র মধ্যে রয়েছে:ধূমপান, তামাকপাতা, জর্দা-গুল এবং তামাকজাত দ্রব্য সম্পূর্ণ পরিহার করতে হবে, প্রচুর পরিমাণ শাক-সবজি, ফলমূল আহার করতে হবে, চর্বি জাতীয় খাবার কম খেতে হবে এবং মদ্যপান পরিহার করা ভালো, আর সম্ভব না হলে মদ্যপানের মাত্রা একেবারে কম হতে হবে।
শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং শারীরিক পরিশ্রম অথবা নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে। দিনে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ব্যায়াম অথবা হাঁটতে হবে, সূর্যের আলোর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে থাকতে হবে, হেপাটাইটিস বি এবং মহিলাদের জরায়ুর ক্যান্সার রোধে টিকা দিতে হবে, অনিরাপদ শারীরিক মিলনসহ ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে, সর্বোপরি প্রাথমিক অবস্থায় ক্যান্সার সনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় হেলথ স্ক্রিনিং করতে হবে।
সূত্র - দৈনিক ইত্তেফাক

