চিকিৎসা এখনো শেষ হয়নি। তবু অসুস্থ ৭৫ বছরের বৃদ্ধ বাবা আমজাদ হোসেনকে নিয়ে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল ছেড়ে মুন্সিগঞ্জে ফিরে গেলেন শহীদুল ইসলাম। শনিবার শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের পর পুরান ঢাকার এ হাসপাতালে পাল্টাপাল্টি ধর্মঘটে বন্ধ হয়ে গেছে চিকিৎসাসেবা। শুধু তা-ই নয়, সংঘর্ষের কারণে হাসপাতালজুড়ে এখন ধ্বংসের চিহ্ন।
মুন্সিগঞ্জের আমজাদ হোসেনের মতো হাসপাতালটিতে ভর্তি থাকা অধিকাংশ রোগী গত শনিবার রাত থেকেই আতঙ্ক নিয়ে একে একে চলে গেছেন। হাসপাতালটি এখন প্রায় রোগীশূন্য। এ ছাড়া দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসার জন্য আসা অনেক রোগী ফটক বন্ধ দেখে ফিরে গেছেন। সব মিলিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে অনেক রোগী ও তাঁদের স্বজনদের।
এদিকে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে পাঁচ দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার ভোরে হাসপাতালে এক নারী শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের কক্ষে এক ওয়ার্ড বয়ের প্রবেশকে কেন্দ্র করে শিক্ষানবিশ চিকিৎসক ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের ১৫ জন আহত হয়। ঘটনার তদন্ত ও কর্মচারীদের বিচারের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটের ডাক দেন চিকিৎসকেরা। অন্যদিকে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনে জড়িতদের শাস্তি দাবি করে পাল্টা কর্মবিরতিতে নামেন কর্মচারীরা।
গতকাল রোববার দুপুরে হাসপাতালে গিয়ে জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগসহ বিভিন্ন অংশে ভাঙচুরসহ তাণ্ডবের চিহ্ন দেখা যায়। নিস্তব্ধ পরিবেশ। অল্প কয়েকজন রোগী, নার্স ও নিরাপত্তাকর্মী ছাড়া আর কেউ ছিলেন না। কোনো চিকিৎসককে এ সময় দেখা যায়নি। জরুরি বিভাগসংলগ্ন আঙিনায় ৫০ জনের বেশি কর্মচারী চেয়ার-বেঞ্চ নিয়ে বসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছিলেন। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁদের কেউ কথা বলতে রাজি হলেন না।
দুপুরে হাসপাতালের দুই থেকে ছয় তলা পর্যন্ত ওয়ার্ডগুলো ঘুরে দেখা গেছে প্রায় সব কটি বেড ফাঁকা। শুধু কয়েকজন রোগীর কেউ খাচ্ছিলেন, কেউবা চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সব মিলিয়ে তখন পর্যন্ত ৫০ জনের কিছু বেশি রোগী ছিলেন। নার্স ও কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুই তলা থেকে সাত তলা পর্যন্ত দুই থেকে তিন শ রোগী ভর্তি থাকেন।
দোতলার একটি বেডে বসে ভাত খাচ্ছিলেন মমতাজ বেগম। পায়ের ব্যথা নিয়ে এক মাস ধরে ভর্তি তিনি। মমতাজ বেগম বলেন, ‘হাসপাতালে থাকতে ভয় লাগতেছে। পোলারে আইসা নিয়া যাইতে কইছি।’
সূত্র - প্রথম আলো

