home top banner

খবর

জুয়াখেলার পরিণতি হতে পারে মারাত্মক
০৩ মার্চ, ১৪
Tagged In:  gambling  health risks of gambling   Posted By:   Healthprior21
  Viewed#:   12

‘ক্যাসিনো রয়াল’ দেখেছেন? অথবা লাস ভেগাসের কোনো জুয়াখানা, যেখানে সারি সারি স্লট মেশিন সাজানো? এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, ওই মেশিনে খেলা শুরু করলে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল৷ এটা এক ধরনের মানসিক অসুস্থতা, যার পরিণতি মারাত্মক৷

শুধু একবার জেতার ইচ্ছা৷ বোতামে চাপ দিলে রঙিন ছবি ঘুরতে থাকে৷ সম্পূর্ণ ভাগ্যের ব্যাপার এটা৷ কয়েকটি ছবি মিলে গেলে জেতা যায়৷ যা খুবই বিরল ঘটনা৷ অনেক স্লট মেশিনের গেমে প্রচুর অর্থ ঢালেন৷ সর্বস্বান্তও হন৷ জুয়া খেলাগুলির মধ্যে স্লট মেশিনে খেলাটি সবচেয়ে বেশি সর্বনাশা৷

আইনত ১৮ বছর বয়স থেকে স্লট মেশিনে খেলা বৈধ৷ গেমরুম ছাড়াও পানশালা বা কোনো কোনো রেস্তোঁরায় দেখা যায় এক কোণে একটি স্লট মেশিন৷ বেকার অভিবাসী তরুণরাই এক্ষেত্রে ঝুঁকির মুখে বেশি৷ এই তথ্য সাম্প্রতিক এক সমীক্ষার ফলাফলে জানা গেছে৷

আসক্তের সংখ্যা কম নয়

আসক্তি সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, জার্মানিতে স্লট মেশিন খেলায় গুরুতর আসক্তের সংখ্যা তিন লক্ষের মতো হবে৷

জুয়াখেলায় আসক্তদের পরামর্শ কেন্দ্রে যারা আসেন তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই স্লট মেশিন গেমে আসক্ত৷

‘‘যে খেলায় যত তাড়াতাড়ি ফলাফল পাওয়া যায়, তাতে আসক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ততই বেশি৷'' বলেন বনের আসক্ত-থেরাপি কেন্দ্রের রিশার্ড শ্টেলৎসেনম্যুলার৷

সংগীত, আলোর প্রভাব, দ্রুত গতি এসব মানুষকে আকৃষ্ট করে৷ পরামর্শকেন্দ্রে শ্টেলৎসেনম্যুলারের প্রথম প্রশ্নটি এরকম হয় না, ‘‘কতদিন ধরে এই আসক্তিতে আক্রান্ত? বরং প্রশ্নটি হয়, আপনি কী টাকার জন্য কখনও চুরি করেছেন?''

অপরাধে জড়িয়ে পড়েন অনেক

বেআইনি মাদক জগতের মতো জুয়াখেলার ক্ষেত্রেও অর্থ জোগাড়ের জন্য অপরাধে জড়িয়ে পড়েন অনেকে৷ অনেকে আবার স্ট্রেসে থাকলে মাদক ও জুয়াখেলার মাধ্যমে তা দূর করতে চেষ্টা করেন৷ এর ফলাফল হয় মারাত্মক৷ চলে যেতে পারে চাকরি৷ পরিবার হয় ধ্বংস৷ আত্মহত্যার হারও বৃদ্ধি পায়৷ অনেকে বছরে এই নেশার পেছনে এত খরচ করেন, যা একটি ফ্ল্যাটের দামের সমান৷ বছরে চার বিলিয়ন ইউরোরও বেশি অর্থ গেমরুমে ঢালা হয়৷

সমস্যা হলো গেমরুমগুলি সরাসরি সরকারি নিয়ন্ত্রণে থাকে না৷ লটারি, জুয়াখেলা, ঘোড়দৌড়ের মতো বাজি ধরার খেলাগুলি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে রাষ্ট্র৷

আসক্তি দূরীকরণকেন্দ্রের পরামর্শদাতা ইলোনা ফ্যুশ্টেনস্নিডার সমালোচনা করে বলেন, ‘‘এই ধরনের সর্বনাশা খেলা সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণে আনা হচ্ছে না কেন?''

আসক্তি প্রতিরোধের চেয়ে স্লট মেশিনের লবি রাজনীতির জন্যে বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷ সরকার এই শাখাটিকে ক্ষমাশীল দৃষ্টিতে দেখে৷ এর বিরুদ্ধে অনেক দিন ধরেই সংগ্রাম করছেন ইলোনা ফ্যুশ্টেনস্নিডার৷

নতুন একটি স্লট মেশিন বাজারে এলে প্রথমে এতে বাধা দেওয়া হয় না৷ পরে এটা সমস্যাজনক মনে হলে ঠিকঠাক করার জন্য দীর্ঘ সময় দেয়া৷

স্লট মেশিন শিল্পের প্রভাব

অন্যদিকে রয়েছে বিশাল স্লট মেশিন শিল্প৷ যাদের বিক্রির পরিমাণ বছরে এক বিলিয়ন ইউরোর বেশি৷ রাষ্ট্রও এ থেকে আয় করে৷ প্রায় সব রাজ্যই প্রমোদ কর ধার্য করেছে৷

বড় বড় শহরগুলিতে অর্থ আদায়ের পরিমাণ মিলিয়নও ছাড়িয়ে যায়৷ কিন্তু স্থানীয় পৌর এলাকাগুলিকে অসংখ্য গেম রুমের কারণে ভুগতে হয়৷ কেননা তাদেরই আসক্তদের কারণে খরচ করতে হয়৷ এই নেশায় পড়ে চাকরি হারালে মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও কমে যায়৷ গেম রুম থাকার কারণে অনেক এলাকার মানও নেমে যায়৷ যা একটা বড় সমস্যা৷ গেম রুম থাকলে কিংবা জুয়া খেলা চললে কেই ব সেই এলাকায় একটি দোকান খুলতে চাইবে বা কিনতে চাইবে একটি বাড়ি?

প্রতিরোধে অনীহা

হোহেনহাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের জুয়াখেলা বিষয়ক গবেষণাকেন্দ্রের টিলমান বেকার এ সম্পর্কে বলেন, ‘‘এটা এক ধরনের কপটতা৷ একদিকে গেমরুমের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে পৌর এলাকাগুলি, অন্যদিকে এগুলি খোলার জন্য অনুমতিও দিচ্ছে৷''

আর কোনো পথ না থাকলে ক্লিনিকে রিশার্ড শ্টেলৎসেনম্যুলারের কাছে আসতে হয় আসক্তদের৷ তাঁদের অভ্যাস পরিবর্তন করা শিখতে হয়৷ শ্টেলৎসেনম্যুলার রোগীদের নিজেদের আচরণ আমূলভাবে বদলে ফেলার চেষ্টা করেন৷ জুয়াখেলা একেবারে চলবে না৷ তাই মাদকাসক্তদের মতোই জুয়ারিদেরও নেশা ছাড়ার কষ্টভোগ করতে হয়৷

মেজাজের ওঠা-নামা, ঘুমের ব্যাঘাত, মানসিক চাপ ইত্যাদি দেখা দেয়৷ দুই মাস হাসপাতালে থেকে চিকিৎসা নিতে হয়৷ বহির্বিভাগের থেরাপি চলে বছর খানেক৷ এই নেশা থেকে মুক্ত হতে অনেক দিন লেগে যায়৷ কিন্তু তখন ঋণভারে জর্জরিত এই মানুষরা৷ তাই থেরাপিকেন্দ্রগুলি ভুক্তভোগীদের জন্য পাশাপাশি ঋণের ব্যাপারেও কাউন্সিলিং-এর ব্যবস্থা রাখে৷-ডিডব্লিউ

সূত্র - natunbarta.com

Please Login to comment and favorite this News
Next Health News: বন্য প্রাণী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে হবে
Previous Health News: ধর্মঘটে স্থবির চিকিৎসাসেবা

আরও খবর

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় অ্যান্টিবায়োটিক!

সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, কম বয়সে অ্যান্টিবায়োটিক খেলে পরবর্তী ক্ষেত্রে মানব শরীর বিভিন্ন ধরনের রোগ প্রতিরোধ করতে সক্ষম থাকে৷ কলোম্বিয়ার ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যায়লের এ গবেষণা অনুযায়ী, অন্ত্রে বিভিন্ন ধরনের ব্যাকটেরিয়া বিরাজ করে, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাস্থ্যকর রাখে৷ কিন্তু... আরও দেখুন

ঢাবিতে মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন উদ্বোধন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগ ও বাংলাদেশ ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি সোসাইটির যৌথ উদ্যোগে  ‘Mental Health Gap in Bangladesh: Resources and Response’ শীর্ষক চার দিনের চতুর্থ মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধন  হয়েছে। বুধবার ঢাকা... আরও দেখুন

৯টি ভয়ংকর সত্যি, যা আপনাকে ডাক্তাররা জানান না!

অনেক সময় কোনো ওষুধ একটি রোগ সারিয়ে তুললে, সেই ওষুধই অন্য একটি অসুখকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রাখে। এমনকি এক্স রে রশ্মিও আমাদের শরীরে ক্যান্সারের মতো মারণ রোগের জন্ম দেয়। ওষুধের প্রভাবে কী কী পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ১. ওষুধে ডায়াবিটিস বাড়তে পারে: সাধারণত ইনসুলিনের অভাবে ডায়াবিটিস হয়।... আরও দেখুন

প্রাকৃতিক ভায়াগ্রা হর্নি গোটউইড

চীনের একটি গাছের নাম হর্নি গোটউইড। এই গাছ থেকেই অদূর ভবিষ্যতে সস্তায় মিলবে ভায়াগ্রার বিকল্প ওষুধ। পুরুষাঙ্গকে দৃঢ়তা প্রদানের জন্য যে যৌগটি দরকার, সেই আইকারিন প্রচুর পরিমাণে রয়েছে হর্নি গোটউইডে। এই উপদানটিকে প্রকৃতিক ভায়াগ্রা হিসেবে শনাক্ত করেছেন ইউনিভার্সিটি অফ মিলানের গবেষক ডা. মারিও ডেল... আরও দেখুন

ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি দেবে ‘সোনা’

ব্রেন ক্যানসার চিকিৎসায় এবার ব্যবহৃত হবে সোনা৷ কারণ সোনা নাকি ব্রেন ক্যানসার থেকে মুক্তি  দিতে পারে৷ বিজ্ঞান পত্রিকা ন্যানোস্কেল অনুযায়ী, ব্রেন ক্যানসারের  চিকিৎসার সোনার একটি অতি সুক্ষ টুকরো সাহায্যকারী প্রমাণিত হতে পারে৷ বৈজ্ঞানিকরা একটি সোনার টুকরোকে গোলাকৃতি করে... আরও দেখুন

যৌবন ধরে রাখতে অশ্বগন্ধা

বাতের ব্যথা, অনিদ্রা থেকে বার্ধক্যজনিত সমস্যা। এ সবের নিরাময়ে অশ্বগন্ধার বিকল্প নেই। তেমনটাই তো বলেন বিশেষজ্ঞরা। এমনকি যৌবন ধরে রাখতেও অশ্বগন্ধার উপকারিতা অনস্বীকার্য। ত্বকের সমস্যাতেও দারুণ কাজ দেয় অশ্বগন্ধার ভেষজ গুণ। বিদেশেও এর চাহিদা ব্যাপক। সে কারণেই অশ্বগন্ধা চাষ অত্যন্ত লাভজনক।... আরও দেখুন

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')