home top banner
Please Login or Register

Health Tip

কেন ঘুম আসে না?
15 January,14
Tagged In:  better sleep  
  Viewed#:   171

বিজ্ঞানীরা ঘুমকে বিভক্ত করেছেন ২টি শ্রেণীতে। রেম ঘুম (Rem sleep) এবং ননরেম ঘুম (Non-rem sleep) হিসেবে। ঘুমের জন্যে ব্রেনে এখনও কোন আলাদা কেন্দ্র আবিষ্কৃত হয় নি। জাগৃতি কেন্দ্র থেকেই ঘুম নিয়ন্ত্রিত হয়। মনে করা হয়, নন-রেম ঘুম নিয়ন্ত্রিত হয় জাগৃতি কেন্দ্রের র্যানফ নিউক্লিয়াস থেকে। আর র্যানফ নিউক্লিয়াস-এর তৎপরতা পরিচালিত হয় সেরাটনিন হরমোন দ্বারা। আর রেম ঘুম নিয়ন্ত্রিত হয় লোকাস মেরুলিয়াস দ্বারা। লোকাস মেরুলিয়াস-এর কার্যক্রম পরিচালিত হয় নর-এড্রিনালিন হরমোন দ্বারা।

ননরেম ঘুম দিয়ে ঘুমানোর কাজ শুরু হয়। ৯০ মিনিটের একটা ঘুম চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। সারা রাতে ৪ থেকে ৬ বার এই চক্র কাজ করে। ৯০ মিনিটের এই চক্রে ১০-২০ মিনিট বরাদ্দ থাকে রেম ঘুমের জন্যে। ঘুমের প্রথম দিকে নন রেম ঘুম বেশি হয়। পরে রেম ঘুম বেশি। ঘুমানোর সময় যত বাড়তে থাকে রেম ঘুমের পরিমাণ তত বাড়তে থাকে। রেম ঘুম আসলে হালকা ঘুম, এসময় চোখ নড়ে আমরা স্বপ্ন দেখি। বিজ্ঞানীরা ঘুমের গভীরতা অনুসারে নন রেম ঘুম ৪টি স্তরে বিভক্ত করেছেন। আর ঘুমের শতকরা ৭৫ ভাগই নন রেম ঘুম। ঘুমের স্তর :

স্তর-১ হালকা ঘুম
স্তর-২
স্তর-৩ গভীর ঘুম
স্তর-৪ ডেল্টা লেভেলে ঘুম

কতক্ষণ ঘুমানো দরকার

ঘুম আসলে একটি শারীরিক অভ্যাস। তাই ঘুমের পরিমাণও জনে জনে আলাদা। কেউ ২ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সারাদিন চমৎকার কাজ করতে পারেন। আবার কারও ১০ ঘণ্টা ঘুমিয়েও তৃপ্তি নেই। দিনে যখনই সময় পান একটু ঘুমিয়ে নেন। এর কারণ জেনেটিক কোডও হতে পারে। জিন বৈশিষ্ট্য দিয়েও বংশানুক্রমিক অন্যান্য বিষয়ের ন্যায় ঘুমও প্রভাবিত হতে পারে। ডাক্তাররা মনে করে সাধারণভাবে ৪-৭ ঘণ্টা ঘুমই যথেষ্ট হওয়া উচিত। আর যারা মেডিটেশন করেন তারা ৪ ঘণ্টা ঘুমিয়েই পূর্ণ তৃপ্তির সাথে জাগতে এবং সারাদিন ক্লান্তিহীনভাবে কাজ করতে সক্ষম।

অনিদ্রা

যারা অনায়াসে গভীর নিদ্রায় ডুবে যেতে পারেন এবং পরিতৃপ্তির সাথে তরতাজা অনুভূতি নিয়ে জেগে উঠতে পারেন, তারা নিঃসন্দেহে ভাগ্যবান। আর যারা বিছানায় এপাশ ওপাশ করে রাত কাটান তারা নিঃসন্দেহে দুর্ভাগা। যাদের স্বাভাবিক ঘুম আসে না, তাদের বেশির ভাগই ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু এটা আসল সমস্যার কোন সমাধান নয়। কারণ স্নায়ুর ওপর ঘুমের ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথা বাদ দিলেও বলা যায় যে, ঘুমের ওষুধ খেয়ে ননরেম ঘুমের গভীর ঘুম (ডেল্টা লেভেল ঘুম। ৩ ও ৪ স্তরের ঘুম) হয় না। ফলে ঘুমানোর পর শরীরে যে তরতাজা ভাব আসা উচিত তা আসে না। তাই ঘুমের ওষুধ খেয়ে যারা ঘুমান তাদের মধ্যে এক ধরনের ক্লান্তি সবসময় কাজ করে।

কেন ঘুম আসে না? এর কারণকে আমরা এভাবে ব্যাখ্যা করতে পারি যে, ব্রেনের জাগৃতি কেন্দ্রকে পরিচালিত করে যে হরমোন তার নিঃসরণ মাত্রা হ্রাস না পাওয়া। হরমোন নিঃসরণ অব্যাহত রয়েছে, জাগৃতি কেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে, আপনি জেগে থাকছেন। ঘুমানোর ইচ্ছা সত্ত্বেও ঘুম আসছে না। আরেকভাবে বলা যায়, ব্রেন কাজ করতে চাচ্ছে, আপনি ঘুমাতে চাইছেন। আর এই দ্বন্দ্বে ব্রেনের জাগৃতি কেন্দ্রই জয়ী হচ্ছে। কি করবেন তা হলে? এর জবাব লেখা আলিফ লায়লায়, সেই আলাদীনের গল্পে। গল্পে আছে আলাদীন যখন চেরাগ ঘষে দৈত্যকে নিয়ে আসে, তখন দৈত্য শর্ত দিয়েছিল, তাকে সারাক্ষণ কাজ দিতে হবে। কাজ দিতে না পারলে সে আলাদীনের ঘাড় মটকাবে। আলাদীন তাকে যে কাজ দেয়, দৈত্য তা সাথে সাথে সম্পন্ন করে। আলাদীন পড়ল মহা ফাঁপড়ে। এখন উপায়! দৌড়ে সে মায়ের কাছে গেল। মা তাকে বুদ্ধি বলে দিলেন। একটা কুকুর হাতে দিয়ে বললেন, দৈত্যকে বলো এই কুকুরের লেজ সোজা করে দিতে, কিন্তু লেজ যেন না ভাঙে। তারপরের ঘটনা আপনি জানেন। দৈত্য আলাদীনের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। অনিদ্রার দৈত্যকেও আপনি ইচ্ছা করলে এভাবে বশে আনতে পারেন অনায়াসে। ব্রেনকে এমন কাজ দেন যা অর্থহীন বোরিং, সমাপ্ত হওয়ার মত নয়। দেহমন ক্লান্ত হয়ে আসবে। হরমোন নিঃসরণ কমে যাওয়ায় জাগৃতি কেন্দ্র অচল হয়ে যাবে। আপনি ঘুমিয়ে পড়বেন। মনোবিজ্ঞানীরা সারা বিশ্বে এখন ওষুধের পরিবর্তে অনিদ্রার দৈত্যকে এই প্রক্রিয়ায় বশ করছেন। আপনিও প্রয়োজনে তা করতে পারেন।

সূত্র - কোয়ান্টামমেথড

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে মেডিটেশন
Previous Health Tips: যে ৯ বিষয় পুরুষ নারীকে বলতে চায় না

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')