home top banner

Health Tip

কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে মেডিটেশন
16 January,14
Tagged In:  meditation work  stay fit at work  
  Viewed#:   109

meditation-work

জীবিকার তাগিদে অথবা একটু বাড়তি আয়ের প্রয়োজনে আমাদের পছন্দ অনুযায়ী অথবা যোগ্যতা অনুযায়ী একটি পেশা বাছাই করে নিতে হয়। একই সঙ্গে নিয়োগ কর্তৃপক্ষ যারা ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প প্রতিষ্ঠান বা কারখানা স্থাপন ও পরিচালনা করেন তাদেরও প্রয়োজন অসংখ্য লোকবল। বিভিন্ন পর্যায়ে যারা নিরন্তর কাজ করে প্রতিষ্ঠানকে গড়ে তোলেন এবং এগিয়ে নিয়ে যান। এই যে প্রতিষ্ঠান সেখানেই কর্মপরিবেশ ও কর্মক্ষেত্র তৈরি করে নেন সংশ্লিষ্ট সবাই। কিন্তু কাজকর্ম কি সব সময় সুখের বা আনন্দের? না। অনেক সময়ই কর্মক্ষেত্রে দেখা দেয় নানা সমস্যা ও জটিলতা। শুরু হয় বিষণœতা, দুশ্চিন্তা এবং মানসিক চাপ ও অশান্তি। যাকে আমরা ইংরেজিতে স্ট্রেস বলে থাকি।


স্ট্রেস হচ্ছে শারীরিক, মনস্তাত্তিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক, পারিবারিক ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিকূল চাপ, যা নিয়ন্ত্রণে আমরা সক্ষম হয়ে উঠি না। এই চাপ আমাদের ব্রেইনে প্রচ- প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। আমাদের মন ও মগজ যখন এই চাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় তখন আমরা আগ্রাসী স্ট্রেসের কাছে পরাজিত হই। আর এই পরাজয় মানে স্ট্রোক বা হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক দেশেই সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে যে, কর্মক্ষেত্রে সৃষ্ট মানসিক চাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে তা নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায়। আমরা স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করব।

কর্মক্ষেত্রে মানসিক চাপ সৃষ্টির পেছনে যে সব কারণ নিহিত তার মধ্যে রয়েছে প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যকার ব্যবধান। এই প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির ব্যবধান ঘটে নিম্নোক্ত কারণগুলোয় :

প্রথমত: আমরা কাজ করি নির্দিষ্ট শর্তাধীনে বেতন বা আর্থিক সুযোগ পাওয়ার মানসে। এ ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে, সময়মতো বা চাকরির শর্তানুযায়ী আর্থিক সুযোগ না পেলে মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। 

দ্বিতীয়ত: কাজের পরিবেশ, পক্ষপাতিত্ব, কাজের চাপ, অত্যধিক পরিশ্রম, সময়মতো পদোন্নতি না পাওয়া, দায়িত্ব সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না থাকা, কাজের বা চাকরির নিরাপত্তা, ঊর্ধ্বতন ও অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে সম্পর্ক, বাহ্যিক সুযোগ-সুবিধা যেমন আবাসন, গাড়ি, অফিসকক্ষ, টেলিফোন সুবিধা, আসবাবপত্র, এসি কার্পেট এগুলো তো আছেই। মনে পড়ে প্রায় ত্রিশ বছর আগে আমি যখন সরকারি চাকরিতে যোগ দেই তখন সরকারি অফিসে একটি টেলিফোন পাওয়া ছিল অনেক গুরুত্বপূর্ণ চাওয়া। তারপর বাসা, গাড়ি ইত্যাদি। কোনো কর্মকর্তা তার কর্মস্থল নির্বাচন করতেন এসব সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করেই। একটু আগে যেটি বলছিলাম, সম্প্রতি অনেক সরকারি কর্মকর্তা অন্যায়ভাবে পদোন্নতিবঞ্চিত এবং ওএসডি করার ফলে মানসিক চাপে রয়েছেন। একজন কর্মকর্তা তিন বছর আগে আত্মহত্যা করেছিলেন। অসংখ্য কর্মকর্তা হৃদরোগে ভুগছেন। তাদের অনেকের পরিবারেও চলছে অশান্তি। আমি সংস্থাপন (বর্তমান জনপ্রশাসন) মন্ত্রণালয়ের সচিব থাকাকালে এ ধরনের মানসিক চাপ সম্পন্ন অনেক কর্মকর্তার সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট ছিলাম এবং কাউন্সেলিং করেছিলাম। 

তৃতীয়ত: আরেকটি সমস্যা হলো আমরা কর্মক্ষেত্র এবং পারিবারিক জীবনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে ব্যর্থ হই। অনেকে স্ত্রী বা স্বামী, পিতামাতা বা সন্তানদের প্রতি মনোযোগ দিতে চায় না। তথাকথিত কাজের চাপের অজুহাতে সংসারের অতি গুরুত্বপূর্ণ চাহিদাকে অবজ্ঞা করি। এটি চলতে চলতে এক সময় স্ত্রী বা স্বামী রীতিমতো বিদ্রোহ করে। সন্তানরা বখাটেদের দলে নাম লেখায় এমনকি মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। এসব ক্ষেত্রে মানসিক চাপ সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে অনেকে আত্মহত্যা করে। কয়েক বছর আগে বজলুর রহমান নামে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের একজন উপসচিব এবং তৌহিদ খান নামে আরেকজন শিক্ষা ক্যাডার থেকে আগত উপসচিব আত্মহত্যা করেন। এরা দু’জনই আমার ঘনিষ্ঠ ছিলেন।

এখন প্রশ্ন হলো কর্মক্ষেত্রে এ ধরনের চাপ সৃষ্টি হলে তা ব্রেইনের ওপর কিভাবে প্রতিক্রিয়া তৈরি করে? বিজ্ঞানীরা বলেন, কর্মক্ষেত্র অবশ্যই মানসিক চাপের জন্য দায়ী। কিভাবে? আমাদের কপালের পেছনে ব্রেইনের একটি সুনির্দিষ্ট অংশ রয়েছে যার নাম Prefrontal Cortex. এটি হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণের উৎস। এটিকে ব্রেইনের CEO বা প্রধান নির্বাহী বলা হয়। অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে বাইরের চাপ প্রচ-ভাবে ব্রেইনে স্ট্রেস হরমোন তৈরি করে। এই হরমোন মগজের সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং দেহকে পরিচালনা করার জন্য তৈরি কোষগুলোর ওপর প্রচ-ভাবে আঘাত হানে। এটিকে বলে Beta wave. Beta wave যত বেশি সক্রিয় হয় স্ট্রেস হরমোন তত বেশি ব্রেইনের চালিকা কোষগুলোকে আঘাত হানে। অনিয়ন্ত্রিত মানসিক চাপ Brainwaves-কে তীব্রতর করে যা চূড়ান্তভাবে আমাদের স্বাভাবিক মনোদৈহিক বাঁধনকে দুর্বল করে দেয়। এ জন্যই প্রয়োজন Brainwave নিয়ন্ত্রণের প্রশিক্ষণ। আর প্রশিক্ষণের অন্যতম উপায় হচ্ছে মেডিটেশন বা বিশেষ ধ্যান।

তাহলে মেডিটেশন কি?

মেডিটেশন হচ্ছে একটি বিশেষ ধরনের ধ্যান, গভীর মনোনিবেশ,Relaxation-এর মাধ্যমে মনোদৈহিক সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ এবং নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে মাধ্যমে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি। মেডিটেশন একটা বিশ্বজনীন বিষয়। ইসলামে জিকির বা গভীর ধ্যানের মাধ্যমে স্রষ্টাকে পাওয়ার বা তাঁর নিকটবর্তী হওয়ার চেষ্টা করেন অনেকে। মেডিটেশনকে আমরা সেভাবে দেখব না। এটিকে ইহজাগতিক একটা মনোদৈহিক চিকিৎসা হিসেবে দেখব, যার সঙ্গে চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিরোধ থাকার কথা নয়। তবে মেডিটেশনের ভালো দিকগুলোকে নিয়ে দেশে বিদেশে ব্যবসা চলছে তা-ও মনে রাখতে হবে। মেডিটেশনের মাধ্যমে আমরা কিভাবে মনোনিবেশ বা মন-ব্যবস্থাপনা করি তা জানা দরকার। (আমরা শুধুমাত্র মেডিটেশনের তাত্ত্বিক দিক নিয়ে অন্য সময় আলোচনা করব)।

আমাদের ব্রেইন কোষগুলো বিভিন্ন গতিতে প্রবাহিত হয়। এগুলোকে লেভেল বলি। আলফা, বিটা, থিটা এবং ডেলটা লেভেল। আলফা লেভেল যা ১০ হার্টজ গতিতে ব্রেইন সেলগুলো প্রবাহিত হলে তা Serotonin নামক একটি রাসায়নিক ম্যাসেঞ্জার বা যোগাযোগকারী তৈরি করে বলে বিশেষজ্ঞগণ বিশেষ করে ড. মার্গারেট প্যাটারসন মনে করেন। এ অবস্থা তৈরি হলে আমাদের দেহমন Relax হয়ে যায়, মানসিক শক্তি তৈরি হয়। আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারি এবং ক্ষতিকর চিন্তা থেকে মুক্ত হতে পারি। ব্রেইনওয়েভ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্থাৎ মেডিটেশনের মাধ্যমে আমাদের উত্তেজিত সেলগুলো শিথিল হয়। টেনশন নিয়ন্ত্রণ হয়, ইমোশন যৌক্তিকতা লাভ করে এবং তার ফলে মানসিক যন্ত্রণা দূরীভূত হয়।

মেডিটেশন লেভেলে যাওয়ার জন্য আমরা কিছু নিয়ম-কানুন অনুসরণ করি। যেটি বলেছিলাম- লেভেলে যাওয়া। চারটি লেভেলের মধ্যে আলফা লেভেল বা 10H3 তে গিয়ে আমরা একে একে মেডিটেশনের কোর্স সমাপ্ত করি। এটি অনেক অনেক বিস্তৃত। আমরা চোখ বন্ধ করি। উল্টোদিক থেকে যেমন ১০ থেকে ১ অথবা ৩ থেকে ১ গুনে আমরা ধ্যানে প্রবেশ করি। কোলাহলমুক্ত নির্জন পরিবেশে সাধারণত মেডিটেশনে বসি, লেভেলে যাওয়ার আগে চোখ বন্ধ করার সময় আমাদের কয়েকটি শ্বাস নিতে হয়। শ্বাস-প্রশ্বাস আমাদের জীবনের অন্য নাম। আমরা অনেকেই সঠিকভাবে শ্বাস নিতে বা ছাড়তে পারি না। এটিরও নিয়ম আছে। মেডিটেশন যারা চর্চা করেন তাদের শুদ্ধভাবে বা যথাযথ নিয়মে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার প্রশিক্ষণ নিতে হয়। আমরা পরবর্তীতে এ বিষয়েও আলোচনা করব।

মেডিটেশনের আরেকটি বিষয় আমাদেরকে জানতে হয়। তাহলো Positive Self Talk, অথবা Affirmation বা শপথ। লেভেলে গিয়ে সবাইকে ধ্যানে বসে কিছু ইতিবাচক বাক্যের পুনরাবৃত্তি করতে হয়। এছাড়া আমরা লেভেলে গিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত পুরো শরীর শিথিল বা Relax করে নিই। আরো আরো অনেক কোর্স আছে মেডিটেশনে।

এখন আসা যাক, কর্মক্ষেত্রে আমরা কিভাবে মেডিটেশন করব? কর্মক্ষেত্রে মেডিটেশন সম্পর্কে ওয়াশিংটন ভিত্তিক টাওয়ার কোম্পানির প্রধান নির্বাহী জেফরি আব্রামসন বলেন, তার কোম্পানির শতকরা ৭৫ ভাগ কর্মচারী প্রতিদিন কোম্পানির আয়োজনে অফিস চলাকালীন কোনো এক সময় মেডিটেশন করে নেয়। এর ফলে তারা অধিকতর মনোযোগী হয়। কাজে উৎসাহ আসে। মানসিক জড়তা কাটিয়ে অধিকতর দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে। এতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়। ওই কোম্পানির প্রধান নির্বাহী আরো বলেন,  ’One of the Most Important Domains meditation acts upon is emotional intelligence a set of skills for more Consequential for life success than cognitive intelligence’

কর্মক্ষেত্রে মেডিটেশনের একটি সাধারণ ও সহজ অনুশীলন সম্পর্কে আমরা এখন আলোকপাত করব। উল্লেখ্য, শুধুমাত্র কর্মক্ষেত্র বা অফিসের আঙ্গিনায় মেডিটেশন করলেই কর্মক্ষেত্রে সমস্যা এবং মানসিক অস্থিরতা দূর হবে, তা নয়। যে কোনো সুবিধামতো সময় কমপক্ষে ৩০ মিনিট মেডিটেশনে বসে অফিসের সমস্যাগুলোকে সামনে এনে তা সমাধানের প্রোগ্রাম করলেও একই ফলাফল লাভ হবে। অফিসে মেডিটেশনের পরিবেশ না-ও পাওয়া যেতে পারে। আবার সব লেভেলের কর্মকর্তাদের জন্য একটু একাকী বসে ধ্যান করা বা সুনির্দিষ্ট নিয়মে চোখ বন্ধ করে বসে থেকে একাগ্রচিত্তে অনুশীলনের সুযোগ না-ও থাকতে পারে। যাই হোক, আমরা ধরে নিলাম যে আপনার অফিস বা কর্মস্থলে কিছুক্ষণ নীরবে কাটানোর মতো সুযোগ আছে। তাহলে শুরু করি-


১. আপনি একটি জায়গা বেছে নিন, নিঃশব্দ, নীরব ও কোলাহলমুক্ত। চেয়ারে বসুন, হাঁটুর ওপর হাত দুটো রাখুন। সামনের দিকে দৃষ্টি দিন। সোজা হয়ে বসুন। চোখ বন্ধ করুন। সহজ হোন। ৩-২-১ তিনটি দীর্ঘশ্বাস নিন এবং ছাড়–ন। এই দীর্ঘশ্বাসগুলো পেট থেকে আসবে, বুক থেকে নয়। (নিঃশ্বাস বা শ্বাস-প্রশ্বাসের তরিকা আছে যা পরে আলোচনা করব)

এবার চোখ বন্ধ অবস্থায় ১০ থেকে ১ পর্যন্ত ধীরে ধীরে গুনতে থাকুন। গোনা শেষ হলেই আপনি আলফা লেভেলে 1oHz চলে যাবেন। এরপর কয়েকবার উচ্চারণ করুন Relax, Relax …।

২. আমরা এই চোখ বন্ধ অবস্থায় মাথা থেকে পা পর্যন্ত দৃষ্টি প্রবাহিত করব। এর মধ্যে কিছু মন্ত্র আছে। সেগুলো আমরা ব্যবহার করি অধিকতর মনোনিবেশের জন্য। এই অনুশীলনে আমরা শরীরের প্রতিটি অঙ্গকে শিথিল করব এবং মাঝেমধ্যে মন্ত্র ও Relax শব্দটি উচ্চারণ করব।

বলতে ভুলে গেছি যে, আলফা লেভেল থেকে বেরুনোর সময় আমরা ১ থেকে ১০ পর্যন্ত ধীরে ধীরে গুনব এবং প্রশান্তির সঙ্গে চোখ খুলব।

৩. আমরা আবার আগের নিয়মে লেভেলে যাব। অর্থাৎ ১০-১ গুনব, দীর্ঘশ্বাস নেব ছাড়ব-চোখ বন্ধ করব। ধীরে ধীরে কর্মক্ষেত্রের সমস্যাগুলো অর্থাৎ যেগুলো আপনার মানসিক চাপ তৈরি করে সেগুলোকে মনোপর্দায় (Mental Screan) নিয়ে আসব। এ থেকে মুক্তির উপায়গুলো নিজেরাই খুঁজব। এভাবে দেখবেন কিছু সমাধান আপনি তাৎক্ষণিক পেয়ে যাবেন। আমাদের আলফা লেভেলে যাওয়ার অর্থ হলো আপনি মনের দিক থেকে এমন পর্যায়ে চলে গেছেন যখন আপনি ঘুমেও না জাগরণেও না। এ পর্যায়ে ব্রেইন সেলগুলোকে নিয়ে আসলে আপনি যে কমান্ড বা নির্দেশনা দেবেন ব্রেইন তা জানার জন্য মনকে প্রভাবিত করবে।

এখন আপনি সম্পূর্ণ Relax করবেন তারপর চোখ বন্ধ অবস্থায় আলফা লেভেলে থাকতেই স্বতঃপ্রণোদিত কয়েকটি Affirmative বা স্বগতোক্তি করবেন। যেমন:

-আমি এখন আলফা লেভেলে আছি-সম্পূর্ণ মন আমার নিয়ন্ত্রণে।

- এমতাবস্থায় আমি শান্তি, স্বস্তি ও নিরাময় বোধ করছি।

-আমার সমস্যাটি কিছুই না। এটি খুবই সাধারণ।

-আমার স্বাস্থ্য ও জীবন চাকরির চাইতে অনেক মূল্যবান।

এই কর্মক্ষেত্রে না থাকলেও আমার কিছুই যায় আসে না।

-আমার সমস্যার সমাধান হয়েই যাবে। আমি আশাবাদী।

-আমার কাজ সময়মতো শেষ হবে এবং বস খুশি হবেন। (আপনি এ মুহূর্তটি কল্পনা করুন যখন বস অত্যন্ত খোশমেজাজে আপনার সঙ্গে আলাপরত ছিলেন)

-আমার সহকর্মীরা এবং অধস্তন কর্মীরা আমাকে ভালোবাসে, সহযোগিতা করে। (কল্পনা করুন একটি সুন্দর ও সুখের মুহূর্ত)।

-আমি অফিসে ও বাইরে অত্যন্ত সুখী। আমার কোনো সমস্যা নেই। আল্লাহ আমাকে ভালো রেখেছেন। আমি চাই সকলেই সুখী হোক। শান্তিতে থাকুক, স্বস্তিতে থাকুক।

অতঃপর পূর্বোক্ত নিয়মে আপনি ১-১০ গুনে চোখ খুলে নিজের মনে নিজেই হাসুন। এ কাজটি আপনি সমষ্টিগতভাবে করতে পারেন।

এই মেডিটেশন অনেকবার করতে হবে। একটু সময় নিয়ে। বার বার চর্চা করলে ভালো লাগবে।

মাঝে মাঝে কিছুই করার দরকার নেই। আকাশ ভেঙে পড়বে না। আপনার একটুখানি বিশ্রামে অফিসের বড় ক্ষতি হবে না। কারো জন্য কোনো কিছু থেমে থাকে 

সূত্র - dhakatimes24.com

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: শীতে সুস্থ ত্বক
Previous Health Tips: কেন ঘুম আসে না?

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')