সদ্যোজাত যে শিশুরা মরে যায় তাদের অঙ্গ অন্য রুগণ শিশুদের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু অন্য অনেক দেশে সুযোগ থাকলেও যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী দুই মাসের কম বয়সী শিশুর অঙ্গ অন্যদের শরীরে প্রতিস্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। বয়সসীমার এ বিধান পরিবর্তন করে প্রতিস্থাপনের জন্য সম্প্রতি মৃত শিশুর অভিভাবকদের সন্তানের অঙ্গ দানের অনুমতি দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন লন্ডনের ওরমন্ড স্ট্রিট হসপিটাল ফর চিলড্রেনসের চিকিত্সকেরা।
হাসপাতালটির চিকিত্সকেরা জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যের চিকিত্সা নির্দেশনা অনুযায়ী দুই মাসের কম বয়সী যে সব শিশু অপূর্ণতা নিয়ে জন্মায় না বরং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা অবস্থায়ই মারা যায়, তাদের অঙ্গ অন্য শিশুর শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য দানের অনুমতি নেই অভিভাবকদের। তবে, পশ্চিম ইউরোপের অন্যান্য দেশ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ায় এ সুযোগ আছে।
এ ক্ষেত্রে জটিলতার প্রধান কারণ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া। চিকিত্সা বিদ্যায় শিশুদের এমন অবস্থায় মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার জন্য দুটো মানদণ্ড মেনে চলা হয়। একটা ‘ব্রেইন-স্টেম ডেথ’ এবং অন্যটিকে বলা হয় ‘সারকুলেটরি ক্রাইটেরিয়া’। ‘ব্রেইন স্টেম ডেথ’ রোগীর এমন একটি জটিল অবস্থা যেখানে মেরুদণ্ড এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য অংশের সঙ্গে মস্তিষ্কের প্রধান রজ্জুর যোগাযোগ অনিশ্চিত থাকে। নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রেখে দীর্ঘদিন ধরে চিকিত্সায় কখনো কখনো এটা ঠিক হতে পারে, আবার না-ও হতে পারে। আর সারকুলেটরি ক্রাইটেরিয়ার ক্ষেত্রে বিবেচনা করা হয় শরীরের অভ্যন্তরীণ সঞ্চালন সক্ষমতাকে।
যুক্তরাজ্যের ‘অ্যাকাডেমি অব মেডিকেল রয়্যাল কলেজেস’-এর ১৯৯২ সালের নির্দেশনা অনুসারে ‘ব্রেইন স্টেম ডেথ’ বিবেচনা করে দুই মাসের কম বয়সী কোনো শিশুর অঙ্গ অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপনের সুযোগ নেই। তবে সারকুলেটরি ক্রাইটেরিয়া বিবেচনায় তা করার সুযোগ আছে। কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই এই মানদণ্ডে মৃত ব্যক্তির হূিপণ্ড অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপনের যোগ্য থাকে না। আর শিশুদের অঙ্গ প্রতিস্থাপনে বয়স একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা আকৃতির কারণে একটি শিশুর শরীরে কেবল আরেকটি শিশুর অঙ্গই প্রতিস্থাপন করা সম্ভব।
আর্কাইভস অব ডিজিজেস ইন চাইল্ডহুড সাময়িকীর একটি বিশেষ সংখ্যায় সেইন্ট জর্জ’স মেডিকেল স্কুল এবং গ্রেট ওরমন্ড স্ট্রিট হসপিটাল ফর চিলড্রেনসের তিন বিশেষজ্ঞ চিকিত্সক শিশুর অঙ্গ প্রতিস্থাপনে যুক্তরাজ্যের এই বিধান বদলানোর আহ্বান জানান।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ‘গ্রেট ওরমন্ড স্ট্রিট’ হাসপাতালে ২০০৬ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত ছয় বছরে মারা যাওয়া ৮৪টি শিশুর মধ্যে ৫৪ ভাগই অন্যের শরীরে প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গ-দাতা হিসেবে যোগ্য ছিল। ব্রেইন স্টেম ডেথ বিবেচনা করা হলে ১১ জনের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হতো এবং সারকুলেটরি ক্রাইটেরিয়া বিবেচনা করা হলে ৩৪ জনের অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা যেত। এ গবেষণার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকেরা এই পরিস্থিতিকে ‘উদ্ভট’ বলেই আখ্যা দিয়েছেন।
সূত্র - প্রথম আলো

