নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জানালার কাচ ভাঙচুর ও দুই চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করেছেন চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগের এক কর্মী।
গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিছু সময়ের জন্য চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রাখেন চিকিৎসকেরা।
প্রত্যক্ষদর্শী হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারী ও রোগী প্রথম আলোকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাচনের সহিংসতায় আহত হয়ে ছাত্রলীগের কর্মী আকরাম হোসেন (২২) ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। গতকাল সকাল ১০টার দিকে আকরাম নিজেকে গুলিতে আহত দাবি করে তাঁর শরীর থেকে গুলি বের করার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক ইকবাল হোসেনের কাছে যান। চিকিৎসক তাঁর পরীক্ষা করে শরীরে কোনো গুলি নেই বলার সঙ্গে সঙ্গে আকরাম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি এ সময় চিকিৎসককে গালমন্দ করেন এবং একপর্যায়ে জরুরি বিভাগের জানালার কাচ ভাঙচুর করেন। এ সময় পাশের কক্ষ থেকে আরেক চিকিৎসক শামীম রেজা এগিয়ে এসে ঘটনা জানতে চাইলে তাঁকেও মারতে উদ্যত হন আকরাম।
পরে হাসপাতালে উপস্থিত অন্য লোকজন তাঁকে নিবৃত্ত করেন। এ ঘটনায় পুরো হাসপাতালে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চিকিৎসকেরা কিছু সময় চিকিৎসা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। তবে ঘটনার খবর পাওয়ার পর গতকাল দুপুর ১২টার দিকে হাসপাতালের পুরুষ ওয়ার্ডে গিয়ে অভিযুক্ত আকরামকে পাওয়া যায়নি।
জানতে চাইলে চিকিৎসাধীন ছাত্রলীগ কর্মীর হাতে দুই চিকিৎসক লাঞ্ছিত ও জানালার কাচ ভাঙচুরের কথা স্বীকার করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আ ন ম সামছুল করিম। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, অভিযুক্ত ছাত্রলীগ কর্মী দোষ স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছেন এবং মুচলেকা দিয়ে গেছেন।
সূত্র - প্রথম আলো

