দেশজুড়ে একযোগে শুরু হলো খুদে ডাক্তার কর্মসূচি। এই কার্যক্রমের আওতায় প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়া শিশুরা তাদের সহপাঠীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখবে, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্যও প্রচার করবে।
ঢাকাসহ দেশের ৬৪টি জেলা ও ৫০০ উপজেলায় এক লাখেরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কার্যক্রম চলবে। এতে ১৫ লাখের ওপর খুদে চিকিৎসক প্রায় আড়াই কোটি শিশুর উচ্চতা ও ওজন মাপবে এবং দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে দেখবে।
আজ শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে এই কার্যক্রম শুরু হয়। আগামী সোমবার পর্যন্ত কার্যক্রম চলবে। এর বাইরে বছরজুড়ে খুদে চিকিৎসকেরা শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, স্বাস্থ্যশিক্ষা, কৃমিনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম, বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দিবস উদযাপন করবে। সরকার আশা করছে দেশে স্বাস্থ্যকর্মীর যে প্রকট সংকট তা কাটিয়ে উঠতে ভূমিকা রাখবে এ শিশুরা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির সঙ্গে রয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এস এম আশরাফুল আলম বলেন, প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য ২৫ জন স্বাস্থ্যকর্মী থাকার বিধান রয়েছে। বাংলাদেশ এ লক্ষ্যমাত্রা থেকে অনেক পিছিয়ে আছে। খুদে চিকিৎসকেরা এ অভাব পূরণ করতে পারে। অসংক্রামক ব্যাধি দূর করতে জীবনধারায় পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। এ-সম্পর্কিত তথ্যও শিশুরা প্রচার করতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, কর্মসূচিটিতে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদেরও যুক্ত করা যেতে পারে। উপযুক্ত প্রশিক্ষণ পেলে এরাই তাদের পাড়া বা মহল্লায় কত মানুষ আছেন, কার উচ্চ রক্তচাপ আছে এ বিষয়গুলো জানাতে পারে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক বে-নজির আহমেদ বলেছেন, কর্মসূচিটির নগদ লাভ আড়াই কোটি শিশুর স্বাস্থ্যের খবর খুব সহজেই পাওয়া যাবে। শুধু যে শিশুরাই এতে উপকৃত হবে তা নয়, কর্মসূচিটির মাধ্যমে আড়াই কোটি পরিবারের কাছে পৌঁছানোও সম্ভব হবে। উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কুকুর কামড়ালে ক্ষতস্থানটি সাবান দিয়ে ধুলে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত জীবাণু মারা যায়, এ তথ্যটি শিশুদের জানা থাকলে গোটা সমাজ উপকৃত হতে পারে।
আলোচকেরা বলেন, খুদে চিকিৎসকেরা শিশুদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে দেখার পর, কেউ অসুস্থ থাকলে তাকে যেন কমিউনিটি ক্লিনিক ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিসার ব্যবস্থা করা হয় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে আমতলী স্টাফ ওয়েলফেয়ার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে চিকিৎসকেরা শিশুদের ওজন এবং উচ্চতা পরিমাপ করে ও দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা করে দেখায়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব মাখদুমা নার্গিস, স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগের যুগ্ম প্রধান নীরু শামসুন্নাহার, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শ্যামল কান্তি ঘোষ প্রমুখ।
সূত্র - প্রথম আলো

