ঠাকুরগাঁও শহরে শিশুদের বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। একটি শিশুপার্ক থাকলেও সেখানে ভালো কোনো রাইড নেই। ঘুরে বেড়ানোর জন্য নেই কোনো আকর্ষণীয় উদ্যান। এ অবস্থায় শিশুরা বিনোদনের জন্য টেলিভিশনের ওপর নির্ভর করছে। টেলিভিশনে নাটক, চলচ্চিত্র ও কার্টুন দেখে তাদের মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
শহরের ঘোষপাড়ার বাসিন্দা আফরোজা আখতার অভিযোগ করে বলেন, ঠাকুরগাঁও শহরটি যেভাবে বেড়েছে তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা করা হয়নি। এখানে নেই শিশুদের নিয়ে বেড়ানোর মতো জায়গা।
জানা গেছে, ১৯৬৫ সালে শহরের আশ্রমপাড়ায় ছোট একটি জায়গায় একটি শিশুপার্ক নির্মাণ করা হয়। একটি দুটি দোলনা ও দুটি স্লিপার ছাড়া ওই পার্কে এখন আর কিছু নেই। মরিচা ধরায় সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পার্কে বসার জন্য নয়টি বেঞ্চ বসানো হলেও সেগুলো এখন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। জেলা পরিষদ ২০১০-১১ অর্থবছরে টাঙ্গন নদের পাড়ে নতুন একটি শিশুপার্ক নির্মাণের কাজ শুরু করে। শুরুতেই ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মাটি ভরাট, সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও টিকিট ঘর নির্মাণের পর বন্ধ হয়ে যায় পার্কের কাজ। এখন জায়গাটি বনজঙ্গলে ছেয়ে গেছে। সন্ধ্যা হলেই এখানে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে।
শহরের আশ্রমপাড়ার প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অনুশ্রী দাস বলে, ‘শিশুপার্কের মাঠটি খুব নোংরা থাকে। সব খেলনা ভাঙাচোরা।’ অনুশ্রীর বাবা খোকন দাস বলেন, ‘এখানে বাচ্চাদের নিয়ে আসা বিপজ্জনক। এখানে বসার পরিবেশ না থাকায় আমরা প্রায়ই বড় মাঠে গিয়ে সময় কাটিয়ে আসি।’
গত শনিবার বিকেলে ঠাকুরগাঁও শহরের বড় মাঠে গিয়ে দেখা গেছে, নারী, পুরুষ ও শিশুরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। ফেরিওয়ালারা খেলনা ও খাবার বিক্রি করছেন। মাঠের সীমানা ঘেঁষে চটপটি বিক্রির আটটি দোকান বসানো হয়েছে। বাড়ি ফেরার আগে ওই সব দোকানের চটপটি ও ফুচকার স্বাদ নিয়ে যাচ্ছেন অনেকেই।
এ মাঠে বেড়াতে আসা শহরের হলপাড়ার বাসিন্দা ফেরদৌস আরা বলেন, ‘শহরে ছেলেমেয়েদের নিয়ে বেড়াতে যাওয়ার মতো তেমন কোনো জায়গা নেই। বাড়িতে থাকলে টিভি চ্যানেলের কার্টুনের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। সেই আসক্তি কাটাতেই মাঝেমধ্যে এখানে চলে আসি।’
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার মেয়র এস এম এ মঈন বলেন, শহরে শিশুদের জন্য বিনোদনের ভালো ব্যবস্থা নেই। সুযোগ পেলে আধুনিক পার্ক স্থাপন করে শিশুদের বিনোদনের ব্যবস্থা করা হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা পরিষদের প্রশাসক মুহামঞ্চদ সাদেক কুরাইশী বলেন, শিশুদের বিনোদনের জন্য পার্ক নির্মাণের ইচ্ছা থাকলেও অর্থসংকটের কারণে ওই ইচ্ছা পূরণ করা যাচ্ছে না। এর পরও বন্ধ থাকা নতুন শিশুপার্কের কাজ শিগগিরই শুরু করা হবে।
সূত্র - প্রথম আলো

