কম বেশি আমি সবাই খুশকিতে আক্রান্ত। শুধু তৈলাক্ত স্কাল্প নয়, যাদের শুষ্ক স্কাল্প তারাও শিকার হয়ে থাকেন। ফলে প্রচুর পরিমাণে চুল পড়ে।খুশকি মুক্ত চুল রাখার কিছু কৌশল:
মেথি: ২/৩ টেবিল চামচ মেথি সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন খুব ভালোভাবে পিষে নিবেন। তারপর এর সাথে এক টেবিল চামচ টক দই ও ১ চা চামচ লেবুর রসমিশিয়ে মাথায় লাগিয়ে রাখুন ৩০/৩৫ মিনিট। পরে ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়েশ্যাম্পু করুন। সপ্তাহে একবার করে করুন।
নিম পাতা: নিম পাতা খুশকির জন্য অত্যন্ত উপকারী। ঘরোয়া উপাদান।এর ব্যবহারও খুবসহজ। ২ মুঠো নিম পাতা ৪/৫ কাপ গরম পানিতে সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালেপানিটি ছেঁকে চুল ধুয়ে নিতে পারেন অথবা আপনি যদি চান তাহলে কাঁচা নিম পাতাব্লেণ্ড করে মাথার তালুতে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। তারপর পানি দিয়েধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ বার করুন।
লেবু: লেবু এমন এক উপাদান যা ত্বক, চুল সব কিছুর জন্য উপকারী। তবে সরাসরিলেবুর রস কখনই লাগাবেন না। কেননা লেবুর রসে থাকা এসিড উপকারের বদলে অপকারকরতে পারে। ৩/৪টি লেবুর খোসা ছাড়িয়ে ৪-৫ কাপ পানিতে ২০ মিনিট সেদ্ধ করেনিন। ঠাণ্ডা হলে এই সলিউশন দিয়ে শ্যাম্পু করার পর চুল ধুয়ে ফেলুন। খুশকিথেকে মুক্তির জন্য আরেকটি প্যাকের কথা বলছি। ১ চা চামচ লেবুর রসের সাথে ৫ চচামচ নারকেলের তেল ভালো করে ফেটিয়ে নিন। তারপর মাথার তালুতে লাগিয়ে ৩০-৩৫মিনিট পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। লেবুর রস খুশকি দূরীকরণের জন্য খুবই উপকারীঘরোয়া উপাদান। এটি স্কাল্প থেকে ফ্লেক পরিষ্কার করে দেয়।
টি-ট্রি অয়েল: এই তেলটি যদিও আমাদের দেশে পাওয়া একটুকষ্টকর, তবে the body shop এ এই তেলটি পাবেন। যখন মাথার স্কাল্পে অনেক বেশিতেল নিঃসরণ হয় তখন খুশকির উপদ্রব দেখা দেয়। তবে কিছু তেল আছে যা এটিকেনিয়ন্ত্রণ করতে পারে। টি- ট্রি অয়েল তাদের মধ্যে অন্যতম। এই তেল এমন পাতাথেকে এক্সট্রাক্ট করা হয় যার ভেতর ফাঙ্গিসাইডাল প্রপার্টি আছে। এক টেবিলচামচটি- ট্রি অয়েল, ১ কাপ গরম পানি আর একটি স্প্রে বোতল লাগবে। স্প্রেবোতলে গরম পানি নিন। এর সাথে অয়েল দিয়ে ভালো করে ঝাঁকিয়ে নিন। শ্যাম্পুকরার পর পুরো চুলে স্প্রে করে ম্যাসেজ করুন। অতিরিক্ত ময়েশ্চার শুকানোরজন্য অপেক্ষা করুন। কিন্তু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন না।
ডিমের সাদা অংশ: এই মাস্কের জন্য আগে একটি কথা বলেনিই। মাস্কটিতে আমরা টক দই ব্যবহার করব কিন্তু এমন দই নিবো যেটি ২-৩ দিনধরে ফ্রিজে না থেকে বাইরে খোলা অবস্থায় ছিল। প্রথমে একটি ডিমের সাদা অংশভালো করে ফেটিয়ে নিন। এর সাথে ২ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল, ১ টেবিল চামচ মধু, ২টেবিল চামচ দই। এই প্যাকটি চুলে লাগিয়ে ৩০-৪০ মিনিট পর হার্বাল শ্যাম্পুদিয়ে চুলটা ধুয়ে ফেলুন।
ভিনেগার: ভিনেগার খুশকির হাত থেকে মুক্তির অন্যতমপ্রধান উপাদান। নিয়মিত ব্যবহারের ফলে এতে থাকা পটাসিয়াম এবং এনজাইম ইচিস্কাল্প আর খুশকি সারিয়ে তোলে। একটি কটন প্যাডে ভিনেগার নিন। তারপর চুলেবিলি কেটে কেটে পুরো মাথায় লাগান। সপ্তাহে ২ দিন গোসলের ১ ঘণ্টা আগে লাগিয়েরাখুন।
ক্যামফোর: এই কম্পাউণ্ডটি আমরা অনেকে চিনি আবার অনেকেচিনি না। এটি মথ বল আর অ্যান্টি-ইচিং ক্রিম তৈরিতে ব্যবহার হয়। অল্প কিছুক্যামফোর নারিকেল তেলের সাথে মিশিয়ে মাথার স্কাল্পে দিন। প্রতিদিন এভাবেকরতে থাকলে খুব দ্রুত আপনি খুশকির সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন।
মেহেদি: মেহেদি যদিও আমাদের অনেকের চুল রাফ করে দেয়তবুও মেহেদি পাতার রস চুলের অনেক সমস্যা দূর করে আর তারই রেশ ধরে খুশকিরঅত্যাচার থেকেও অনেকাংশে রক্ষা পাওয়া যায়। তবে এই প্যাকটি লাগানোর আগের দিনরাতে চুলে ভালো করে তেল ম্যাসেজ করে নেবেন এতে চুল রাফ হবে না। ২ চা চামচচায়ের পাতা পানিতে ফুটিয়ে নিন। পানি ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।তারপর একে একে মেহেদি পাতার গুঁড়া বা কাঁচা মেহেদি পাতা, দই, কয়েক ফোঁটালেবুর রস একসাথে মিশিয়ে নিন। তারপর এই পেস্ট চুলের গোঁড়ায় লাগিয়ে আধা ঘণ্টাপর চুল ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। খুশকি মুক্ত চুলের জন্য ১৫ দিনে ১বার প্যাকটি ব্যবহার করুন।
বেকিং সোডা: বেকিং সোডা খুব ভালো অ্যান্টি-ফাঙ্গাল হিসেবে কাজ করে আর এরব্যবহারও খুব সিম্পল। এক মুঠো শ্যাম্পুর সাথে এক টেবিল চামচ সোডিয়াম বাইকার্বনেট মিশিয়ে চুল শ্যাম্পু করে ফেলুন। সপ্তাহে একবার করে করবেন।
লেবু এবং রসুন: এক টেবিল চামচ লেবুর রসের সাথে দুইটেবিল চামচ রসুন পেস্ট মিশিয়ে একটি প্যাক বানান। এই প্যাক ফ্লেক থেকেআমাদের দূরে রাখে। রসুন প্রাকৃতিক অ্যান্টি-বায়োটিক যা স্কাল্পের চারপাশেথাকা ব্যাকটেরিয়ার বংশ ধ্বংস করে। এই অ্যান্টিডেনড্রাফ ট্রিটমেন্ট চুলে২০-৩০ মিনিট লাগিয়ে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলবেন।
পেঁয়াজের রস: আমরা সবাই জানি পেঁয়াজের রস চুল গজাতেসাহায্য করে। এর আরেকটি উপকারী দিক হল খুশকি সারাতেও কিন্তু উপকারী।পেঁয়াজের পেস্ট মাথার তালুতে লাগিয়ে ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন, পেয়াজের ঝাঁঝালোগন্ধ যদি আপনার জন্য অস্বস্তিকর হয় তাহলে কয়েক ফোঁটা লেবুর রসও মিশিয়েনিতে পারেন।
বেসন দইয়ের মিশ্রণ: খুশকি থেকে মুক্তির জন্য আরেকটিঘরোয়া উপায় হলো ৪ টেবিল চামচ বেসনের সাথে ২ টেবিল চামচ দই মিশিয়ে একটিপেস্ট তৈরি করুন। বেসন মাথার তালুর তেল শোষণ করে নেয়ার ক্ষমতা রাখে আরএভাবেই খুশকির সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। গোসলের আগে এই প্যাক লাগিয়ে ১ ঘণ্টাপর শ্যাম্পু করে ফেলবেন। চাইলে শুধু মাত্র পানি দিয়েও ধুয়ে ফেলতে পারেন।
আপেল: আপেলে থাকা এনজাইম ডেড স্কিন সেল দূর করে। দুইটেবিল চামচ ফ্রেশ আপেলের রস ১ চা চামচ পানির সাথে মিশিয়ে কটন প্যাডেরসাহায্যে চুলের গোড়ায় লাগান। ১০-১৫ মিনিট পর পানি দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
জাঙ্ক ফুড খুব কম খাবেন কেননা এতে আপনার ত্বক তৈলাক্ত হয়ে খুশকিরআক্রমণের আশংকা থাকে। এসব ভাজা পোড়া খাবারের বদলে জিঙ্ক এবং ভিটামিন বিযুক্ত খাবার খান আর আপনার প্রাত্যহিক কিছু অভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে , যেমন- যতবার বার শ্যাম্পু করবেন তার পরপর সদ্য পরিষ্কার চিরুনি দিয়ে চুলআঁচড়াতে হবে। কেননা প্যাক লাগানোর পর আপনার চুল অনেকটা খুশকি মুক্ত হয়ে যায়কিন্তু আপনি যদি সেই আগের খুশকিযুক্ত বালিশের কাভার, চিরুনি আর তোয়ালেআবার ব্যবহার করেন তাহলে কিন্তু কোন লাভই হবে না।
সূত্র - risingbd.com

