‘তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে, সব গাছ ছাড়িয়ে, উঁকি মারেআকাশে’—এ কবিতাটা ছোটবেলায় হাত-পা নাড়িয়ে আবৃত্তি করেনি, এমন লোক খুঁজেপাওয়া মুশকিল। তারপর তালগাছে বাসা বেঁধে থাকা বাবুই পাখি আর বানর নিয়েইশপের সেই যে মজার গল্প। মনে পড়লেই তো ফিক করে হাসি চলে আসে। তালগাছ নিয়েকত শত যে কিচ্ছা-কাহিনি, কিন্তু তাল নিয়ে সত্যিকারের তথ্যগুলো কি আমরাজানি! তালগাছ কিন্তু দীর্ঘজীবী। পৃথিবীর বহু দেশে তালগাছ আছে। এইগাছ কমবেশি ১০০ বছর বাঁচে। আর এই দীর্ঘজীবনের প্রায় পুরোটা সময়ই ফল দেয়।তাল যখন কাঁচা থাকে, তখনো খাওয়া যায়, তখন বাজারে পানি-তাল হিসেবেইবিকোয়। যখন পাকে, ঘনকালো রং ধারণ করে; স্বাদও পাল্টে যায় সম্পূর্ণ। তালেরনির্যাস চুলায় জ্বাল দিয়ে নিয়ে ঘন করে খেতে হয়। আবার না জ্বালিয়েওখাওয়া যাবে। এই তালের রস থেকেই স্বাদের সব পিঠাপুলি তৈরি হয়।
অতিপরিচিত এই তালে কী আছে জানতে চাইলে ঢাকাবিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপকআলেয়া মাওলা জানান, তাল যেমন নানাভাবে খাওয়া যায়, তেমনি তালেরপুষ্টিগুণের উপস্থিতিতে আছে ব্যাপক বৈচিত্র্য। তালে থাকে প্রচুর পরিমাণখনিজ ও আঁশ। প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, অ্যামাইনো অ্যাসিডেরও ভালো উৎস তাল। এছাড়া আছে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক ও আয়রন।
তাল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণসমৃদ্ধ হওয়ায় ক্যানসারপ্রতিরোধে সক্ষম। এ ছাড়া হূৎস্বাস্থ্যের সুরক্ষায়ও তাল উল্লেখযোগ্যভূমিকা রাখে। স্মৃতি মুছে যাওয়া রোগের জন্যও তাল ভালো। সত্যি কথা বলতে, গ্রামে না গেলে এখন আর তালগাছ খুব একটা চোখে পড়ে না। আর তাল-ফল তো শহরেবিরলই হয়ে গেছে। তাই কখনো তাল হাতের কাছে পেলে কিনে ফেলুন। পুষ্টি পূরণওহবে, সঙ্গে স্বাদেও আনবে বৈচিত্র্য।
সূত্র - প্রথম আলো

