কেমিক্যাল মুক্ত ফল কিভাবে খাবেন
১৭ মে, ১৪
Viewed#: 342
শুরু হয়েছে মধুমাস জ্যৈষ্ঠ। বাজারে উঠতে শুরু করেছে আম, কাঁঠাল, লিচু সহ আরও অনেক ফল। কিন্তু, ফল গাছে নির্ভেজাল হয়ে জন্ম নিলেও আমাদের খাওয়ার পূর্বে তা আর নির্ভেজাল থাকে না। ফরমালিন তো আছেই, এখন ফল আগে পাকানোর জন্য আমাদের ব্যবসায়ী মামারা এক এক জন বিজ্ঞ রসায়নবিদ হয়ে আবির্ভাব হয়েছেন। তাই, ফল পাকাতে তাঁরা বিভিন্ন রকমের কেমিক্যাল মিশিয়ে থাকেন। যেহেতু, আমাদের দেশে এই গুলো কাগজে কলমে হয়ত অন্যায়, কিন্তু, বাস্তবে দেখার কেউ নেই- তাই আমরা যারা ক্রেতা তাদেরই দায়িত্ব দেখে খাওয়া। আসুন দেখি কিভাবে কেমিক্যাল মুক্ত ফল খাওয়া যায়।
ফলে কি ধরনের ক্যামিক্যাল দেয়ঃ
ফলে প্রধানত দুই ধরনের কেমিক্যাল দেয়,
অনেকদিন ধরে যেন না পচে সে জন্য,
সময়ের আগে পাকানোর জন্য।
এছাড়া ফল ভেদে তাঁর রঙ, গন্ধ বাড়ানোর জন্য অনেক রকমের কেমিক্যাল মিশিয়ে থাকে। অনেকদিন ধরে যেন না পচে তাঁর জন্য আমরা সবাই জানি ফরমালিন এর ব্যবহার। আপনারা ফরমালিন মুক্ত খাবারের উপায় নিয়ে আমাদের আরটীক্যাল টা পড়তে পারেন। এখানে সময়ের আগে পাকানো বা সুন্দর বর্ণের ফলের কেমিক্যাল নিয়ে বলা হবে।
দুনিয়ায় অনেক দেশেই কম বেশী কেমিক্যাল দিয়ে ফল পাকিয়ে থাকে বিশেষ করে যে সকল ফল পাকার পরে বহনে নষ্ট হয়, যেমন আম, কলা ইত্যাদি। ফল পাকাতে সভ্য দেশের মানুষেরা যে কেমিক্যাল ব্যাবহার করেন সেটি হল ইথিলিন গ্যাস। এটি প্রাকৃতিক ভাবে সরাসরি তেমন পাওয়া যায় না, উৎপাদন করতে হয়। তাই দাম একটু বেশী। যেহেতু আমাদের অসাধু ব্যাবসায়িদের কাছে জীবনের চেয়ে লাভের মূল্য অনেক বেশী তাই উনারা ইথিলিনের বিকল্প একটা কেমিক্যাল ব্যবহার করেন ক্যালসিয়াম কারবাইড। এটি খনিজ হিসেবে প্রকৃতিতে পাওয়া যায় বলে দাম অনেক কম। এটি যখন জলীয়বাষ্পের সংস্পর্শে আসে তখন তা এসিটিলিন গ্যাস তৈরি করে যা অনেকটা ইথিলিনের মত কাজ করে। কিন্তু এটি শরীরে ক্যান্সার বাধানোর জন্য চমৎকার একটা উপাদান। এই এসিটিলিন গ্যসের ব্যবহার আপনারা অনেকেই দেখেছেন বিভিন্ন গ্যারেজে ঝালাই এর কাজে। এখন বুঝুন এটা খেতে কেমন হবে?
কিভাবে বুঝবেন কেমিক্যাল দেওয়াঃ
সাধারানত ল্যাবে টেস্ট না করে সরাসরি ধরা খুব কঠিন, তবুও কিছু কিছু জিনিস দেখে কিনবেন যেমনঃ
সিজনের আগেই বাজারে কোন ফল পাকা অবস্থায় চলে আসলে মোটামুটি নিশ্চিত হতে পারেন যে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো
যদি ফল দেখতে বেশী আকর্ষণীয় হয়। যেমন সম্পূর্ণ কলার ছড়ি ধরে একই রকম পাকা। সম্পূর্ণ আমের রঙ একই রকম। ইত্যাদি। তাহলে কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো, কারণ প্রাকৃতিক ভাবে হাতের পাঁচ আঙ্গুল কখনও সমান হয় না।
ফল কিনে দুই একদিন রেখে দিলে যদি কালো ফোটা ফোটা দাগ পড়ে তাহলে বুঝবেন কেমিক্যাল দেওয়া।
উপায়ঃ
সত্যি বলতে ১০০ ভাগ মুক্তির কোন উপায় নেই তবে একটু সতর্ক হবেন এবং
ফল কিনে অন্ততে ১০ মিনিট পানি দিয়ে ভাল করে ধুয়ে খাবেন।
আমের বেলায় শুধু ধোওয়া না সেই সাথে কেটে চামড়া আগে ফেলে দিয়ে খান। নিজে গাছ থেকে না পাড়লে চুষে আর আম খেতে যাবেন না বা বাচ্চাদের খাওয়াবেন না।
যদি আপনার টেস্ট করার ক্ষমতা থাকে তা হলে টেস্ট করে যদি কেমিক্যাল মেশানো পান তবে দয়া করে আইন শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দিন। যদি তা দিতে মনে করেন যে ঝামেলায় পড়ে যেতে পারেন, তবে অন্তত নিজের পরিচিত মানুষদের একটু জানিয়ে দিন যে এই বাজারের ঐ দোকানের ফলে এমন বিষ মেশানো আছে।
সবাই সুস্থ থাকুন, ভাল থাকুন।
সূত্র - urboshi.com