বাইরে থেকে দেখতে কমলার মতোই। বাজারে এই সহজলভ্য ফলটি হলো মাল্টা। একসময় পাওয়া যেত শুধু ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জের গভীর জঙ্গলে। ক্যারিবীয় সমুদ্র পেরিয়ে মাল্টা ফলটি ছড়িয়ে গেছে এখন সারা বিশ্বে।
আমরা মাল্টা হিসেবে ফলটি চিনলেও এক এক জায়গায় তার ভিন্ন নাম। হিন্দি ও উর্দুতে মাল্টার নাম চকোতরা, তামিল ভাষায় পাম্বালিমাসু, মালয়ালম ভাষায় পাম্পারামাসান, তেলেগুতে পামপারা, কনকানি ভাষায় তোরাঞ্জি ও সংস্কৃত ভাষায় মাধুকরকাটি।
ফলটি শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ুর জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আর বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাত মাল্টার গুণাগুণ ও স্বাদে পরিবর্তন এনে দেয়। উজ্জ্বল কমলা রঙের এই ফলে কী আছে? জানতে চেয়েছিলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাদ্য ও পুষ্টিবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও অধ্যাপক আলেয়া মাওলার কাছে। তিনি বললেন, ‘মাল্টা যেমন দেখতে আকর্ষণীয়, তেমনি তার পুষ্টিমানেও আছে বৈচিত্র্য। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ, সি এবং ই। আছে ক্যালসিয়াম, খনিজ, ম্যাগনেসিয়ামসহ আরও সব প্রয়োজনীয় উপাদান।’
এ ছাড়া মাল্টায় ক্যালরি কম থাকায়, বেশি খেয়ে ফেললেও মুটিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না। অন্যদিকে পুষ্টি পূরণও হবে শরীরের। এ ছাড়া মাল্টা আরও যেসব উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে শরীর ভালো রাখতে, তা জেনে নেওয়া যাক।
মাল্টায় ক্যালরি থাকে কম। আর আছে পেকটিন নামের একধরনের ফাইবার, যেটি কোলন ক্যানসার প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। মাল্টা শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।
প্লাভানয়েড নামের একধরনের উপাদানের উপস্থিতির কারণে ফুসফুস ও মুখের ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়তে পারে মাল্টা। ত্বক ভালো রাখতে মাল্টার জুড়ি নেই। ত্বকের ক্ষয় পূরণ ও সৌন্দর্য বাড়াতে নিয়মিত মাল্টা খেতে পারেন।
মাল্টা অ্যান্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ। তাই রোগ প্রতিরোধ এবং ক্ষতিকারক জীবাণুর বিরুদ্ধে লড়াই করার এক অপূর্ব ক্ষমতা আছে মাল্টার। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এবং হূৎস্পন্দনের স্বাভাবিকতা ধরে রাখতে প্রতিদিন খেতে পারেন মাল্টা।
সূত্র - প্রথম আলো

