মুখে, গলায় ও মাথায় ক্যান্সার হয়েছে কিনা তা স্ক্রিনিং পরীক্ষার মধ্য দিয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়। থাইরয়েড গ্রন্থি এবং গলায় অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে কাল বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। তবে হ্যাঁ, একটা বয়সে গলায় অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, যেমন- গলার কণ্ঠস্বর পরিবর্তন হয়, গলায় কোনো ধরনের গোটার জন্ম হয় এবং এসব পরিবর্তনের সময় দুই সপ্তাহের বেশি হলে।পরীক্ষা করা প্রয়োজন হয়।
ধূমপান, তামাক পাতা ও অ্যালকোহল পান ইত্যাদি কারণে মুখে, গলায় ও মাথায় ক্যান্সারের ঝুঁকি দেখা দেয়। এসব উপাদান।
শতকরা ৮৫ ভাগ ক্যান্সার হয় তামাক পাতা ব্যবহারের জন্য। শুধু তামাক পাতা বা অ্যালকোহল পান করার চেয়ে, তামাক পাতা এবং অ্যালকোহল একসঙ্গে ব্যবহার করা ক্যান্সার সৃষ্টি হওয়ার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। মুখে এবং গলায় ক্যান্সার ভাইরাস দিয়েও হয়, যার নাম হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস। বংশগত বা রেডিয়েশনের কারণেও ক্যান্সার হতে পারে। লসিকা গ্রন্থির ক্যান্সার কোনো কারণ ছাড়াই হতে পারে।
ক্যান্সারের সতর্কীকরণ চিহ্ন
* মুখে ঘা হয়, যা সহজে ভালো হয় না এবং বাড়তে থাকে।
* মুখে সবসময় ব্যথা হয়।
* মুখে কোনো চাকা অথবা সাদা, লাল বা গাঢ় রংয়ের আবরণ দেখা দেয়।
* গাল শক্ত হয়ে যায়।
* জিহ্বা নাড়াতে বা পানি খেতে এবং ঢোক গিলতে কষ্ট হয়।
* চোয়াল নাড়াতে ব্যথা হয়। চোয়াল ফুলে যেতে পারে।
* গলায় ব্যথা হতে পারে বা গলায় কিছু আটকে আছে এমন অনুভূত হতে পারে।
* দাঁতে ব্যথা অথবা দাঁত পড়ে যেতে পারে।
* জিহ্বা অথবা মুখের ভেতর যে কোনো জায়গা অবশ হয়ে যেতে পারে।
* গলার স্বর পরিবর্তন হতে পারে।
* গলায় চাকা হতে পারে।
বেশির ভাগ ক্যান্সার ঠোঁট, জিহ্বা অথবা মুখে হয়। মুখের ভেতরে, তালুতে, খাদ্যনালিতে, দাঁতের মাড়ি অথবা দাঁতের গোড়ায়, টনসিল অথবা কণ্ঠনালিতেও ক্যান্সার হতে পারে।
বাংলাদেশে শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ ক্যান্সার রোগী মাথা ওগলার ক্যান্সার নিয়ে আসে এবং বেশিরভাগ রোগী রোগের শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে আসে। প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় এবং যথাযথ চিকিৎসায় অনেক ক্যান্সার ভালো হয়ে যায়। বয়স্ক মানুষ বা যাদের এ রোগের লক্ষণ আছে তাদের নিয়মিত চেকআপ করা খুবই দরকার। আমাদের দেশের বড় হাসপাতাল গুলোতে এ রোগের রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি এবং অপারেশন নিয়মিত করা হচ্ছে।
সূত্র – যুগান্তর.কম

