পায়ুপথের বিভিন্ন রোগের ভেতর ক্যান্সার হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক রোগ। এই ক্যান্সারের বিভিন্ন উপসর্গের মধ্যে রয়েছে_ মল ত্যাগের অভ্যাসের পরিবর্তন, খুব সকালে পায়খানার বেগ হওয়া, মলত্যাগের পরও মল রয়ে গেছে এরূপ অনুভূত হওয়া, পায়খানার সঙ্গে রক্ত ও মিউকাস (আম, শ্লেষ্মা, ল্যালপা) যাওয়া, পেটে ব্যথা, মলদ্বারে ব্যথা হওয়া ইত্যাদি। এ রোগ শনাক্ত করতে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে পাইলস সংক্রান্ত বিভ্রান্তি। রেকটাম ও মলদ্বারের সমস্যায় আক্রান্ত রোগী সবসময় বলবেন, তার পাইলস হয়েছে। তাদের কেউই অ্যানালফিশার, ফিস্টুলা বাক্যান্সার হয়েছে বললে সহজে মানতে চান না।
মলদ্বারে রক্ত গেলেই পাইলস হয়েছে_ এ ধারণা ত্যাগ করতে হবে। এ রক্ত যাওয়ার কারণ অনেক হতে পারে।পায়ুপথের ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য কোলনস্কোপি, সিগময়েডোস্কপি ও বেরিয়াম এনেমাএক্স-রে করা প্রয়োজন। যত তাড়াতাড়ি এ রোগ ধরা পড়ে, চিকিৎসা তত কার্যকর ও সহজ হয়। মলদ্বারে রক্ত যায় এমন প্রতিটি ক্ষেত্রে যদি সিগময়েডোস্কপি পরীক্ষা করা হয়, তাহলে বেশির ভাগ ক্যান্সার আগে ধরা পড়বে এবং চিকিৎসা সহজ ও কার্যকর হবে। সাধারণত দেখা যায়, মলদ্বারে রক্ত গেলে পাইলস ভেবে এর ভুল চিকিৎসায় দীর্ঘদিন কাটিয়ে দেন রোগীরা। অবস্থা যখন বেগতিক দেখেন তখনই তারা ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে রাজি হন। ততক্ষণে ক্যান্সার বিস্তৃতি লাভ করে যায়।
অনেক শিক্ষিত লোকের ধারণা, ক্যান্সার অপারেশন না করাই ভালো। অপারেশন করলে আরও ছড়িয়ে যায়। এ ধারণা সম্পূর্ণ অমূলক। এখন পর্যন্ত সমগ্র পৃথিবীতে বিভিন্ন অঙ্গের ক্যান্সারের প্রধান চিকিৎসা হচ্ছে অপারেশন। অপারেশনের পর ক্ষেত্রভেদে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি দেওয়ার প্রয়োজন হয়। এমনকি যদি মনে হয়, অনেক দিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত এবং রোগী আর মাত্র কয়েক মাস বাঁচবেন, তাহলেও অপারেশন করা উচিত। এতে জীবন ধারণের গুণগত মানের উন্নতি হয় এবং রোগী প্রশান্তি লাভ করেন।
এই ক্যান্সার চিকিৎসার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত বিষয়টি হলো, এই অপারেশনের পর রোগী তার স্বাভাবিক পথে মল ত্যাগ করতে পারবেন নাকি পেটে মল ত্যাগের ব্যাগ (কলোস্টমি) লাগাতে হবে? মলদ্বারের গভীরে ক্যান্সার হলে সাধারণত পেটে ব্যাগ লাগাতে হয় না। কিন্তু ক্যান্সার মলদ্বারের কাছাকাছি হলে পেটে ব্যাগ লাগানোর আশঙ্কা বেড়ে যায় এবং কখনও কখনও অবশ্যম্ভাবী হয়ে পড়ে।
যে ক্ষেত্রে ক্যান্সার অপারেশনের পর হাত দিয়ে সেলাই করে রেকটাম জোড়া দেওয়া যায় না সে ক্ষেত্রে কৌশলগত সমস্যাকে অতিক্রম করার জন্য বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন ধরনের স্ট্যাপলিং যন্ত্র বানিয়েছেন। এসব যন্ত্রের সাহায্যে হাত দিয়ে সেলাইকরা সম্ভব নয়, এমন সব ক্ষেত্রে বৃহদন্ত্র ও রেকটাম জোড়া লাগিয়ে দেওয়া যায়।স্টেপলিং যন্ত্র-সাকুল্গলার স্ট্যাপলার, লিনিয়ার স্ট্যাপলার ওরেটিকুলেটর কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও উন্নত দেশে এ যন্ত্রের সাহায্যে রেকটাম ক্যান্সারের বেশির ভাগ অপারেশন হয়ে থাকে। আমাদের দেশে পায়ুপথের ক্যান্সার উন্নত দেশ অপেক্ষা অনেক কম হয়।
সূত্র – সময়কাল.নেট

