মাসিক চক্র পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পূর্বে যে সকল লক্ষণ প্রকাশ পায় সেগুলোকে পেরি-মেনোপজ হিসাবে ধরা হয়। যে সব বিষয়গুলো লক্ষণীয় তার মধ্যে আছে ওজন বেড়ে যাওয়া, হট ফ্লাশ, এবং দ্রুত মনের এক অবস্থা থেকে অন্য অবস্থায় পরিবর্তন। পেরি-মেনোপজ-এ মহিলাদের মধ্যে ভিন্নতা দেখা যায়। বিশেষ করে বয়সে। কারো কারো ক্ষেত্রে ৪৫ বৎসরের মধ্যে আবার কারো কারো ক্ষেত্রে ৫০ এর পর। তবে গড়-পড়তা ৪৫ থেকে ৫৫ বৎসরের মধ্যে শুরু হয়। এরপর শুরু হয় মেনোপজ-উত্তর জীবন।
পেরি-মেনোপজের এরকম ১০টি লক্ষণ নিয়ে নিচে আলোচনা করা হলঃ
১। মাসিক চক্র নির্ধারিত সময়ে না হওয়া
প্রতি মাসের নির্ধারিত সময়ে মাসিক না হয়ে নিয়মিতভাবে বিলম্বে হওয়া, কোন মাসে মিস হওয়া। কিংবা স্বল্প সময়ের জন্য অল্প হওয়া, অথবা একসঙ্গে অনেক বেশি জমাট রক্ত বের হওয়া ইত্যাদি পেরি-মেনোপজের লক্ষণ। তবে মনে রাখবেন যদি একনাগাড়ে পূর্ন ১২ চান্দ্র মাস মাসিক না হয়, তবে ধরে নেয়া যায় আপনি পূর্ন মেনোপজ পর্যায় চলে গেছেন।

২। হট ফ্লাশ
কপাল থেকে পায়ের আঙ্গুলে পর্যন্ত তাপদাহ বয়ে যাওয়া, ঘামে ভিজে যাওয়া, অসহ্য গরম অনুভূতি মেনোপজের পূর্ব লক্ষণগুলোর অন্যতম। কারন এই সময়ে বিভিন্ন হরমোন হাইপোথ্যালামাস (দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক) এর সাথে মিশ্রিত হতে থাকে। এ রকম অবস্থাকে আমরা হট ফ্লাশ বলি।

৩। ওজন বেড়ে যাওয়া
মেনোপজের আগে স্বাভাবিক একটা ব্যাপার হল ওজন বেড়ে যাওয়া। এবং এই ওজন বাড়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায় দেহের মধ্য ভাগে। যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। কাজেই এ সময়ে অবশ্যই স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করা উচিত। সাথে নিয়মিত ব্যায়াম।

৪। ঘুমের ব্যাঘাত
পেরি-মেনোপজ বা মেনোপজ শুরুর পূর্বে ইনসোমনিয়া দেখা দিতে পারে। কারন এই সময়ে দেহে ইস্ট্রোজেন হরমোনের মাত্রা প্রায় শুন্যের কোঠায় নেমে যায় এবং মস্তিষ্কে কিছু রাসায়নিক পদার্থের ক্ষরন হয় যা আপনাকে সারা রাত সদা সতর্ক রাখে। তাই অনেকেই এই বিভিষিকাময় ঘুমের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন ধরণের ব্যায়ামের আশ্রয় নেন সাথে মেলাটনিন সাপ্লিমেন্ট।

এ্যাক্টিভ বীট ডট কম থেকে হেলথ প্রায়র ২১

