৫। যোনীপথের শুষ্কতা
যেহেতু ইস্ট্রোজেন হরমোন কমে যেতে থাকে তাই এ সময়ে শরীরের বিভিন্ন স্থান যেমন ত্বক, চুলের গোড়া, অন্যান্য স্পর্শকাতর স্থান যেমন যোনী ইত্যাদির আর্দ্রতা ও লুব্রিকেশন বা তেলতেলেভাব কমে যায়, শুষ্কতা দেখা দেয়। যৌন সঙ্গমে অস্বস্তি এবং ব্যাথা অনুভূত হয়। কাজেই শরীরের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য, আনন্দময় যৌনানুভূতির জন্য একজন অভিজ্ঞ গাইনোকোলজিস্টের পরামর্শক্রমে ময়েশ্চারাইজার ও লুব্রিকেন্ট ব্যবহার করতে পারেন।

৬। খিটখিটে মেজাজ (সুইং মুড)
প্রেগনেন্সি কিংবা মেনোপজ শরীরের বিভিন্ন হরমোন নিঃসরনে একধরনের ভারসাম্যহীন অবস্থার সৃষ্টি করে। ফলে প্রায়শঃই অস্থির লাগা, হঠাৎ রেগে যাওয়া, কোন কারন ছাড়াই চেঁচামেচি, কান্নাকাটি করা ইত্যাদি আচরন দেখা যায়। এর সাথে যদি যোগ হয় ঘুমের সমস্যা, ভয় কিংবা সন্দেহ, তাহলে তা শরীরের উপর ভয়ানক রকমের প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে পারে। হয়ে উঠতে পারে খেয়ালী।

৭। স্তন ব্যাথা
স্তনে স্পর্শ করলে ব্যাথা বা যন্ত্রণা দেখা দেওয়া, নাজুক বা স্পর্শকাতর হওয়া এ সময়ের অন্যতম লক্ষণ। যদিও এ লক্ষণগুলো অন্য সময় যেমন, মাসিককালীন কিংবা গর্ভাবস্থায়ও দেখা দেয় বা দিতে পারে। এ সময়ে বিভিন্ন হরমোনের পরিবর্তনের পাশাপাশি পানি ধারন, স্তন গ্রন্থির ফুলে যাওয়া ইত্যাদি সমস্যার কারনে এরকম অবস্থার সৃষ্টি হয়। আর এ অবস্থার নিরসনে আপনি যা করতে পারেন, তা হল একটা মানানসই, আরামদায়ক ব্রা পরিধান করতে পারেন, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ বর্জন করতে পারেন।

৮। তীব্র মাথা ব্যাথা
শরীরে হরমোনাল চেইঞ্জ হচ্ছে আর এর পাশাপাশি আপনি যদি ক্যাফেইন জাতীয় খাবার বেশি গ্রহণ করেন, তাহলে তা আপনার মস্তিষ্কের স্নায়ুতেও পরিবর্তন আনতে পারে। পেরি-মেনোপজের অন্যতম একটি লক্ষণ হল মাইগ্রেইন। এর থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে আপনাকে অতিরিক্ত কফি কিংবা ক্যাফেইন জাতীয় খাবার গ্রহণ কমিয়ে দিতে হবে, শব্দ বা গোলমাল থেকে দূরে থাকতে হবে, তীব্র ও উজ্জ্বল আলো এড়িয়ে চলতে পারেন।

৯। যৌন আকাংখা কমে যাওয়া
যেহেতু এটি একটি ট্রাঞ্জিশন পিরিয়ড, তাই এ সময়ে শরীর হয়তো চাইছে না গর্ভধারণ প্রক্রিয়ায় যেতে। ফলে সেক্সের আগ্রহটা কমে যায়। আবার অনেকে অতি সচেতন হয়ে পড়ে, সেক্সের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। দেহের বিভিন্ন পরিবর্তনে এক্সট্রিম অনুভূতির কারনে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ সময়ে টেস্টোস্টেরন হরমোন থেরাপি অনেক ক্ষেত্রে ভাল কাজ করে।

১০। অসংযত ইন্দ্রিয়
মল-মূত্র নিয়ন্ত্রণে রাখতে অসমর্থ হওয়ার মত অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হয়। ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ার ফলে পেরি-মেনোপজ চলাকালীন সময়ে মূত্রথলি অসংযত হয়ে পড়ে। পেলভিক অঞ্চল ও মূত্রথলির পেশিসমূহ স্বাভাবিকের চেয়ে দূর্বল হয়ে পড়ে। এ সময়ে ‘কেগেল’ ব্যায়াম বেশ উপকারী।

এ্যাক্টিভ বীট ডট কম থেকে হেলথ প্রায়র ২১

