home top banner

Health Tip

পোকামাকড়ের উপদ্রব!
18 March,14
Tagged In:  insect infestation  insect bites  
  Viewed#:   229

Insect-infestationঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই যেন ইদানীং বেড়েছে মশা-মাছি ও পোকামাকড়ের উপদ্রব। তবে তা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায়ও আছে।

‘প্রতি ৪৮ ঘণ্টা পর পর মশা জন্মের উৎসস্থল ধ্বংস করার জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডগুলোতে সকাল আটটা থেকে ১১টা পর্যন্ত আবার বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সূর্য ডোবার আধা ঘণ্টা পর্যন্ত ফগিং মেশিন থেকে ধোঁয়া দেওয়া হয়। এ ছাড়া পোকামাকড়ের বংশ নিধনের লক্ষ্যে নর্দমা পরিষ্কার, বদ্ধ জলাশয়গুলো পরিষ্কার, ম্যালেরিয়া যেন ছড়াতে না পারে সে জন্য উৎসস্থলগুলোতে পোড়া মবিলের মতো একধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে ডিসিসির পক্ষ থেকে।’ এমনটা জানিয়েছেন ঢাকা (দক্ষিণ) সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আবদুল্লাহ্-আল-হারুন।

পোকামাকড়ের উপদ্রব রোধে
এ ছাড়া পোকামাকড়ের উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে আরও কিছু পরামর্শ দিয়েছেন খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা পঙ্কজ কান্তি মজুমদার।

জেনে নিন
 সন্ধ্যা হওয়ার কিছুক্ষণ আগে দরজা-জানালা বন্ধ করে দিতে হবে মশার হাত থেকে রেহাই পেতে। অন্তত ঘণ্টা দেড়েক বন্ধ রাখলে মশার প্রকোপ কমে যাবে।
 আবার সকালের আলো ফুটলেই ঘরের দরজা-জানালা সব খুলে দিতে হবে।
 সন্ধ্যার সময় ধূপ জ্বালিয়ে ঘরের এক মাথা থেকে অন্য মাথায় গিয়ে সব রুমে ধোঁয়া দিলে মশার উপদ্রব কম থাকে।
 গাছের গোড়ায়, প্লাস্টিকের ভাঙা বাটিতে, ঘরে জমানো ফেলে দেওয়া সামগ্রী এসব জিনিসে অনেক সময় পানি জমে থাকে, যার কারণে এডিস মশা বাড়তে পারে। এ জন্য প্রতিদিন ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
 স্প্রে করার সময় ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরের কোনায় কোনায় স্প্রে করতে হবে। তবে স্প্রে করার সময় নিজের নাক বন্ধ করে ফ্যানের দিকে স্প্রে করতে হবে, যেন তা ওপর থেকে নিচে পড়ে। স্প্রে করার পর অন্তত পাঁচ মিনিট ঘর বন্ধ করে রাখতে হবে। এরপর ফ্যান ছেড়ে দিলে স্প্রের গন্ধ চলে যাবে।
 যেখানে-সেখানে মশা যেন বংশ বিস্তার করতে না পারে সে জন্য জলাবদ্ধ পানি, ডোবার পানি, পচা নর্দমা, ভাঙা পাত্রের পানি, নারকেলের খোসা, বাগানের আগাছা, নর্দমা, কচুরিপানা, ডোবা এসব সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে।
 এখনকার সময়ে অনেকে বাসাবাড়িতে মশারি না টানিয়ে দুই-তিনটা কয়েল জ্বালিয়ে রেখে কিংবা স্প্রে করে রাত কাটিয়ে দেয় মশা থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য। কিন্তু এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এর চেয়ে মশারি টানিয়ে ঘুমানো অনেক নিরাপদ।
 এখনকার সময়ে বাজারে কিছু স্পেশাল মশারি পাওয়া যায়, এসব ব্যবহার করা যেতে পারে কিংবা মশা মারার ব্যাটও ব্যবহার করা যেতে পারে মশার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য।
 ঘরবাড়ি নির্মাণের সময় এমন ব্যবস্থা করতে হবে যাতে ঘরে আলো, বাতাস, রোদ প্রবেশ করার ব্যবস্থা থাকে। এতে পোকামাকড়ের উপদ্রব কম থাকবে।
 আবার পোকামাকড় নিধনের জন্য যেসব কীটনাশক ব্যবহার করা হয় সেসব ব্যবহারে আপাতদৃষ্টিতে পোকামাকড় নিধন হলেও তা পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে এসব কীটনাশক কম তীব্র হলে ব্যবহার করা যায়।
 গরমকালে মাছির উপদ্রব বাড়ে। মাছির জন্য কোনো ওষুধ স্প্রে করা হয় না। মাছির উপদ্রব থেকে রেহাই পেতে সব সময় ঘরদোর জীবাণুনাশক তরল মেশানো পানি দিয়ে মুছে রাখতে হবে।
 যেহেতু মাছি ময়লা-আবর্জনার ওপরে বসে তাই খাবার-দাবারের ওপর মাছি বসলে বিভিন্ন ধরনের পেটের অসুখ হতে পারে, তাই যেকোনো ধরনের খাবার সব সময় ঢেকে রাখতে হবে। 
 পিঁপড়ারা সারি করে যে পথে আসে সে পথে চলে যায়। তাই পিঁপড়াদের যাওয়া-আসার পথে রাতের বেলায় কেরোসিন দিয়ে রাখতে পারেন। 
 টেবিলের ওপর খাবারগুলো জলকান্দার ওপর রাখলে তাতে পিঁপড়া আক্রমণ করতে পারে না।
 তেলাপোকা খোলা জায়গায় ডিম পাড়তে পারে না। তাই অতিরিক্ত আসবাবপত্র বা জিনিসপত্র ঘরে রেখে জঞ্জাল তৈরি করা যাবে না। 
 ঘরের সঙ্গে কোনো গাছের ডাল থাকলে বিষাক্ত পিঁপড়া কিংবা ইঁদুর আসার সম্ভাবনা থাকে বেশি। তাই ঘরের সঙ্গে গাছের ডাল লাগানো না থাকাই ভালো।
 উইপোকা, বইয়ের পোকা দমনে ন্যাপথলিন দিয়ে রাখা যেতে পারে।
 যেকোনো কীটনাশক স্প্রে করার সময় খাবার ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। 
 ইঁদুর নিধনের ক্ষেত্রে প্রথমেই চিহ্নিত করতে হবে ইঁদুর চলাচলের রাস্তা। কারণ ইঁদুর সাধারণত ঘরের মধ্যে একই পথে চলাফেরা করে। রাতের বেলায় বিস্কুটের কিংবা আটার দলার সঙ্গে জিঙ্ক ফসফাইড মিশিয়ে এই পথে রেখে দিতে পারেন। ইঁদুর যদি সেটা খায় তবে মারা যাবে। 
 আবার ইঁদুর মারার কিছু খাঁচা পাওয়া যায় বাজারে। সেগুলো কিনে তার মধ্যে শুঁটকি মাছ, চিংড়ি শুঁটকি, নারকেলের ফালি বেঁধে দেওয়া যেতে পারে। তাতে খাবারের লোভে খাঁচায় ঢুকে ইঁদুর আটকা পড়বে।

সতর্কতা
 অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে যে কোন কীটনাশক এর ওষুধের কৌটা শিশুদের হাতের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
 পোকামাকড়ের উপদ্রব রোধে রাতে যেসব কীটনাশক ঘরে দেয়া হবে সকালে সেগুলো অবশ্যই সরিয়ে মেঝে মুছে ফেলতে হবে।
 মশা মারার ব্যাট ও শিশুদের থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে হবে।

সূত্র - প্রথম আলো

Please Login to comment and favorite this Health Tip
Next Health Tips: চুল পড়া ঠেকান!
Previous Health Tips: আসুন জেনে নেই ১২টি ভেষজ চিকিৎসা পদ্ধতি

More in Health Tip

গাইনি ডাক্তারের কাছে যে বিষয়গুলো কখনোই লুকাবেন না

মেয়েলী যে কোনো সমস্যা হলেই গাইনি ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হয়। আর গাইনি ডাক্তারের শরনাপন্ন হতে অনেক নারীই কিছুটা দ্বিধাবোধ করেন। বিশেষ করে ডাক্তার যদি পুরুষ হয়ে থাকেন তাহলে অধিকাংশ সমস্যার কথাই জানাতে পারেন না নারীরা। গাইনি ডাক্তারের কাছে কিছু বিষয় লজ্জায় এড়িয়ে যান বেশিরভাগ রোগী। কিন্তু অত্যন্ত... See details

ত্বকের ক্লান্তি ভাব লুকাবেন যেভাবে

বেসরকারি ফার্মে চাকরি করেন অর্ষা। প্রায়ই বাসায় ফেরার পর তাকে রাত জেগে অফিসের কাজ করতে হয়। রাত জেগে কাজ করার ফলে ভালো ঘুম হয় না। তাই পরদিন সকালে অফিসে যাওয়ার পর খুবই ক্লান্তি লাগে তার। মাঝেমধ্যে এ বিষয় নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। ঠিকমতো ঘুমের অভাবে চোখের নিচেও কালি পড়েছে। প্রায়ই অফিসের... See details

পেয়ারার স্বাস্থ্য উপকারিতা

ছোট থেকে বড় সকলের কাছেই পেয়ারা খুবই প্রিয় একটি ফল৷ পেয়ারায় বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, আর এই কারণেই এটি ‘সুপার ফ্রুট’ নামে পরিচিত৷ আপনিও জেনে নিন এই ‘সুপার ফ্রুট’এর গুণাগুণ৷ •    শরীরের অতিরিক্ত শর্করা শুষে নিতে পারে পেয়ারা৷ এছাড়াও এতে... See details

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা ও সহজ সমাধান

গ্যাস্ট্রিক বা এসিডিটির সমস্যা আমাদের দেশে খুবই স্বাভাবিক ব্যপার। অনেককে বছরের প্রায় সময়ই ভূগতে হয় এ সমস্যায়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর প্রতিকার হিসাবে পাওয়া যায় অনেক নামি দামি ওষুধ। কিন্তু আমাদের হাতের কাছের বিভিন্ন প্রকৃতিক জিনিস দিয়ে যদি করা যায় এর নিরাময়, তাহলে বাড়তি টাকা খরচ করার কি... See details

ওজন কমাতে রাতের বিশেষ খাবার ‘দই-ফল’

ওজনটা নিয়ে অনেকেই বেশ বিপাকে আছেন। ওজন যত সহজে বাড়ে তত সহজে কমে না। কঠিন ডায়েট চার্ট, দীর্ঘ সময় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরানোর কাজটাও খুবই কঠিন। তাই ওজন কমানোর ইচ্ছে থাকলেও কমানো হয়ে ওঠে না। যারা চট জলদি ওজন কমাতে চান একেবারে কষ্ট ছাড়াই তারা রাতের খাবারের মেন্যুটা একটু বদলে ফেলুন। রাতের খাবারে অন্য সব... See details

ডিম খাওয়ার লাভ-লোকসান!

ট্রেন কিংবা বাস স্টেশনে, লঞ্চঘাটে, স্টেডিয়ামে, হাট-বাজারে এখনো শোনা যায় ফেরিওয়ালার ডাক—‘এই ডিম ডিম ডিম...সেদ্ধ ডিম...মুরগির ডিম...হাঁসের ডিম।’ আর তা হবেইবা না কেন? সহজলভ্য পুষ্টির উত্স হিসেবে ডিমের তুলনা কেবল ডিমই হতে পারে। তাই বাড়িতে বা রেস্তোরাঁয় সকাল-বিকেলের নাশতাতেই হোক... See details

healthprior21 (one stop 'Portal Hospital')