বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজের ছাত্রীনিবাসে দুর্বৃত্তদের প্রবেশ বন্ধসহ সাত দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁরা গতকাল শনিবার ক্লাস বর্জন করে ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করেন।
শিক্ষার্থীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মূল ছাত্রীনিবাসের একটি গণরুম থেকে দুর্বৃত্তরা ছয়টি মুঠোফোন, একটি ট্যাব ও টাকাপয়সা চুরি করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানাজানি হলে গোটা নিবাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরদিন সকালে তাঁরা বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানান। কর্তৃপক্ষ চুরির ঘটনায় ওই দিনই সদর থানায় মামলা করে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ছাত্রী বলেন, রাতের আঁধারে ছাত্রীনিবাসে বহিরাগতরা ঢুকে মালামাল লুটের বিষয়টি নিছক চুরি বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এর মধ্য দিয়ে ছাত্রীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে আবাসিক হলে অবাঞ্ছিতদের প্রবেশ ও চুরির ঘটনা ঘটছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল বেলা ১১টার দিকে হল থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার এবং ছাত্রী হলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা প্রায় আধা ঘণ্টা ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে তাঁরা সেখানে মানববন্ধন করেন। পুলিশ এসে অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানালে শিক্ষার্থীরা কলেজসংলগ্ন হাসপাতাল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন।
শিক্ষার্থীরা চুরির ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও চোরাই মালামাল উদ্ধার, কলেজের সব আবাসিক হলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করে ২৪ ঘণ্টা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মধ্যবর্তী স্থানে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ, ছাত্রী হলের সীমানাপ্রাচীর উঁচু করে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, ক্যাম্পাসে বহিরাগত ও অবাঞ্ছিত লোকজনের চলাফেরা বন্ধ, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপনসহ সাত দফা দাবি জানান।
পরে দুপুর ১২টার দিকে কলেজের অধ্যক্ষ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ছাত্রীনিবাসের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণসহ দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
অধ্যক্ষ এ কে এম আহসান হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রীনিবাসে চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া সাত সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বগুড়ার সহকারী পুলিশ সুপার গাজিউর রহমান বলেন, ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
সূত্র - প্রথম আলো

