তাপদাহে জনজীবন ওষ্ঠাগত। প্রতিদিনই বাড়ছে তাপমাত্রা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মওসুমি রোগের প্রকোপ। ভিড় বাড়ছে দেশের প্রত্যেক হাসপাতালে। গরমজনিত রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন অনেকেই। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও স্বল্প আয়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি। কলেরা হাসপাতাল নামে পরিচিত রাজধানীর আইসিডিডিআর,বিতে প্রতিদিনই ডায়রিয়া রোগীদের সংখ্যা বাড়ছে। রোববার ২৪ ঘণ্টায় রোগী ভর্তি হয়েছেন ৫৬৮ জন এবং গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় ৬টা পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল ৪০৯ জন। প্রতি ঘণ্টায় ২৩ জন করে রোগী ভর্তি হচ্ছে এ হাসপাতালে।
রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন এখানকার চিকিৎসক, নার্সসহ সংশ্লিষ্টরা। চিকিৎসা সেবা যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য আলাদা তাবু বসানো হয়েছে। ভেতরে-বাইরে চিকিৎসা চলছে সমানতালে। গতকাল সরজমিনে এ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ইমার্জেন্সি ওয়ার্ড, ব্র্যাক ওয়ার্ড, শিশু ওয়ার্ড, শর্ট স্টে ইউনিট, লং স্টে ইউনিটসহ প্রতিটি ওয়ার্ডের ভেতরের কোথাও ঠাঁই নেই। রোগীর চাপ সামলাতে ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডের সামনেই টানানো হয়েছে অস্থায়ী বিশাল তাঁবু। এখানকার সিনিয়র স্টাফ নার্স মাহফুজা বেগম বলেন, প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। সব বয়সের রোগীরাই আসছেন। তবে শিশু, বৃদ্ধ ও নিম্ন পেশার আয়ের মানুষদের সংখ্যা বেশি। হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে আরও অস্থায়ী তাঁবু টাঙিয়ে রোগী ভর্তি করা হবে। এছাড়া সিওয়াই (কর্ড ইয়ার্ড) নামে আরও একটি ওয়ার্ড খালি রাখা হয়েছে। এখানে চিকিৎসা নিতে পারবেন একশ’র বেশি রোগী। কলেরা হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে এখানে প্রতিদিন গড়ে ৫শ’র বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছেন। হাসপাতালের রেজিস্ট্রি শাখা জানিয়েছে ২৬শে মার্চ রাত ১২টার পর থেকে ২৭শে মার্চ রাত ১২টা পর্যন্ত ৫৪১ জন, ২৭শে মার্চ ৫১৮ জন, ২৮শে মার্চ ৫৬৫ জন ভর্তি হন। হাসপাতলের ডাটা ম্যানেজমেন্ট এসিসটেন্ট (ডিএমএ) প্রদীপ রোজারিও জানান, স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ২০০ রোগীর ডাটা তৈরি করতেন তিনি। এখন প্রতিদিন দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে তা বাড়ছে। হাসপাতালের দুজন মেডিকেল কর্মকর্তা বলেন, তীব্র গরম ও শীতে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগব্যাধি বাড়ে। তারা জানান, প্রাথমিক অবস্থায় রোগীর অবস্থা নির্ণয় করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর মধ্যে শর্ট টাইম ও লং টাইম এ দুই পদ্ধতিতে চিকিৎসা দিয়ে কোন রোগীকে রিলিজ দেয়া হচ্ছে আবার কাউকে দীর্ঘ মেয়াদি চিকিৎসার জন্য রেখে দেয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তিদের তরল খাবার বিশেষ করে খাবার স্যালাইন, রাইস স্যালাইন, দুধ ইত্যাদি সরবরাহ করা হচ্ছে বেশি। তারা বলেন, প্রচ- গরমে শরীর থেকে প্রচুর পানি ও লবণ বেরিয়ে গিয়ে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়। তখনই ডায়রিয়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এজন্য এ গরমে সব বয়সী মানুষদের সতর্ক থাকাটা জরুরি। আইসিডিডিআরবির চিফ ফিজিশিয়ান ডা. প্রদীপ কুমার বর্ধন বলেন, প্রতিদিনই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৫০০-র বেশি রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। গত বছরের চেয়ে এ পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি। তবে এখনও আশঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এ মওসুমে এরকম হয়। তিনি বলেন, এ গরমে পানিশূন্যতা, খাদ্যে বিষক্রিয়া, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ বেশি হচ্ছে। ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ে দূষিত পানি ও বাসি-পচা খাবার থেকে। তাই পানি ফুটিয়ে পান করতে হবে। তরল খাবার বেশি বেশি খেতে হবে, পানি শূন্যতা রোধ করার জন্য যতটা সম্ভব রোদের তাপ থেকে দূরে থাকতে হবে। বেশি পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি খেতে হবে। রাস্তার পাশে বিক্রি করা ও বাসি-পচা খাবার এড়িয়ে চলতে হবে।
সূত্র - দৈনিক মানবজমিন

